বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০তম জন্মবার্ষিকী আজ

17
Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার : রাত্রি হলো ভোর/ আজি মোর জন্মের স্মরণপূর্ণ বাণী, প্রভাতের রৌদ্রে-লেখা লিপিখানি/ হাতে করে আনি। দ্বারে আসি দিল ডাক/ উদয় দিগন্তে ওই শুভ্র শঙ্খ বাজে। মোর চিত্ত-মাঝে/ চির নূতনেরে দিল ডাক ‘পঁচিশে বৈশাখ।’ আবারো ফিরে এলো পঁচিশে বৈশাখ, সেই উজ্জ্বলতম দিন। আজ শনিবার বিশ্বকবির ১৬০ তম জন্মবার্ষিকী।
১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে কোলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সঙ্গীতের এই কিংবদন্তি পুরুষ। যিনি তার লেখনী, কর্ম, জীবনদর্শন দিয়ে শুধু বাংলাকেই নয়, আলোকিত করেছিলেন সমগ্র বিশ্বকে। তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলা ভাষা, গান ও সাহিত্যকে নিয়ে গেছেন বৈশ্বিক উচ্চতায়। ‘বিশ্বকবি’ উপাধির মধ্য দিয়ে তাঁর কবিসত্তা অধিক পরিচিত হলেও রচনা সম্ভারে তিনি ব্যাপক আর বিষয় বিস্তারে সর্বতোমুখী। বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি অঙ্গণে তার প্রভাব স্পষ্ট। শিক্ষা, ধর্ম, রাজনীতি, দর্শন, মানবতা প্রভৃতি বিষয়ে তার চিন্তা গভীরে বিস্তৃত। বাংলা ও বাঙালি বিষয়ে যেকোনো আলোচনায়ই তার প্রসঙ্গ প্রায় অবধারিত। বাঙালির জীবনে, বিশেষত বাঙালির চিন্তার নির্মাণ ইতিহাসে তিনি প্রায় প্রবাদের মতো। এত বছর পরও তিনি সমভাবে প্রাসঙ্গিক। ১৯১৩ সালে প্রথম বাঙালি হিসেবে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। সমগ্র জীবনে তাঁর সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে বহু বিখ্যাত মানুষের। বিজ্ঞান, চেতনা ও সৌন্দর্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের সঙ্গে। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে যেমন, তেমনি যোগাযোগ ছিল অগ্নিযুগের বিপ্লবী রাসবিহারী বোসের সঙ্গেও। বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রামে তার গান ও কবিতা অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর লেখা ‘আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালোবাসি’ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন ৫৬টি কাব্যগ্রন্থ, ১১৯টি ছোটগল্প, ১২টি উপন্যাস, ২৯টি নাটক, ৯টি ভ্রমণ কাহিনী, ২২৩২টি গান ও দেশ-বিদেশে দেয়া নানা বক্তৃতার মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথের লেখা, দর্শন, চিন্তাচেতনা, তথা বহুমাত্রিক আলোকছটার ঔজ্জ্বল্যে ও মহিমায় বাঙালির জাতিসত্তা হয়েছে মহিমান্বিত ও গৌরবান্বিত।

প্রতি বছরের মতো বৈচিত্রপূর্ণ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজও নোবেল বিজয়ী এ বাঙালি কবিকে স্মরণ করবে তাঁর ভক্তরা। শুধু দুই বাংলার বাঙালিরাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলা ভাষাভাষীরা কবির জন্মবার্ষিকী আবেগ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করবে।

বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে কোলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষগণ নাটোরের জমিদার পরিবারের কাছ থেকে শিলাইদহের জমিদারী ক্রয় করে নিয়েছিলেন। জমিদারী পরিচালনার জন্য রবীন্দ্রনাথ যুবক বয়সেই শিলাইদহের নীলকুঠিতে আসেন। পদ্মার ভাঙনে কুঠি ভবনটি বিধ্বস্ত হলে ১৮৯২ সালে ১৩ বিঘা জমির উপর ৬ বিঘা জমি পাঁচিল দিয়ে ঘেরাও করেন। কুঠিবাড়িতে বসেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, গান রচনা করতেন। জমিদারী পরিচালনার জন্য তিনি দীর্ঘকাল সেখানে কাটান। তারপর ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করলে সরকার ওই জায়গা সংরক্ষিত করে। জীবনের শেষ দিকে এসে কবি জীবনের প্রতি নিজের তৃষ্ণার কথা জানিয়ে লেখেন বিখ্যাত সেই পঙক্তি- ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে/ মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।’ মানবের মাঝে রবীন্দ্রনাথের বেঁচে থাকার এ স্বপ্ন আজ শতভাগ পূর্ণতা পেয়েছে। রবীন্দ্রনাথ চিরদিনের। চির নূতন তিনি। নব নব রূপে তিনি আসেন এবং আসবেন অনন্তকাল।


Spread the love