বিশ্বনাথে ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক পলো বাওয়া উৎসব পালিত

80
Spread the love

Polo-Bawaমোঃ আবুল কাশেম,বিশ্বনাথ সিলেট : সিলেটের বিশ্বনাথের পল্লীতে বিপুল উৎসাহ-উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে বার্ষিক “পলো বাওয়া উৎসব” পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের দক্ষিণের বড় বিলে পলো বাওয়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহন করেন হাজার হাজার মানুষ। পানি বেশী ও কচুরীপানার কারণে এ বছর মাছের সংখ্যা কম থাকায় খালি হাতে ঘরে ফিরতে হয়েছে অনেককেই। শিকারকৃত মাছের মধ্যে ছিল বোয়াল, শউল, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন জাতের মাছ। গোয়াহরি গ্রামের ঐহিত্য অনুযায়ী প্রতি বছরের বাংলা মসের (মাঘ মাসের) পহেলা তারিখ এই মাছ ধরা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পলো বাওয়া উৎসবকে কেন্দ্র করে গোয়াহরি গ্রামে গত কয়েকদিন ধরে উৎসবের আমেজ রিবাজ করছিল। পলো বাওয়া উৎসব দেখতে বিলের পাড়ে নারীরাও এসেছিলেন। “পলো বাওয়া উৎসব” এই উৎসবে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গোয়াহরি গ্রামের সৌখিন মানুষ বিলের পারে এসে জমায়েত হতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিলের পারে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। পূর্ব নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ১০টা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই এক সঙ্গে বিলে নেমে শুরু করেন পলো বাওয়া। শুরু হয় ঝপ ঝাপ পলো বাওয়া। প্রায় দুই ঘন্টব্যাপী এ পলো বাওয়া উৎসবে গোয়াহরি গ্রামের সব বয়সী পুরুষই অংশ নেন।
সরেজমিনে গোয়াহরি বিলে গিয়ে দেখা যায়, মাছ শিকার করতে নিজ নিজ হাতিয়ার নিয়ে বিলের উপর ঝাপিয়ে পড়েন লোকজন। যাদের পলো নেই তারা মাছ ধরার ছোট ছোট বিভিন্ন জাল নিয়ে মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় কাটান। এসময় মাছ ধরার এ দৃশ্যটি উপভোগ করতে বিলের পারে ছোট ছোট শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের লোকজন, নারী ও দূর থেকে আসা অনেকের আত্বীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। নারীরা বিলের পাড়ে দাড়িয়ে পলো বাওয়া উৎসবের সেলফি তুলতে দেখা যায়।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ছেলে বুড়ো মিলিয়ে প্রায় হাজার মানুষ পলো বাওয়া উৎসবে অংশগ্রহন করেন। বিল থেকে অন্যান্য বছরের তুলনায় মাছ শিকার হয়েছে কম। অংশগ্রহনকারি কয়েকজন ১-২টি করে মাছ ধরে আনন্দ-চিত্তে বাড়ি ফিরেছেন। আবার অনেকেই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী মনোহর খান বলেন, ছোট বেলা অনেক দিন বিলে পলো নিয়ে মাছ শিকারে অংশগ্রহন করেছি। কিন্তু র্দীঘদিন পর বিলে মাছ ধরতে এসে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। গোয়াহরি গ্রামের মনোয়র হোসাইন বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবছর বার্ষিক পলো বাওয়া উৎসব পালিত হয়। আগের মতো বিলে তেমন মাছ পাওয়া যায়নি। গ্রামবাসী যুগ যুগ ধরে এই উৎসব পালন করে আসছেন বলে তিনি জানান।


Spread the love