বোলারদের নিয়ে বিশেষ ব্যাটিং অনুশীলন

114
Spread the love

image_2070_261565স্পোর্টস রিপোর্টার : টেস্ট ক্রিকেটে টেলএন্ডারদের ব্যাটিং ব্যর্থতার গল্প নতুন নয়। এটা হরহামেশার চিত্রই। এই গল্পের বাইরে নয় বাংলাদেশও। ঠিক সেই জায়গাতেই নতুন আইডিয়া নিয়ে ছক এঁকেছেন প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে। কালেভদ্রে ব্যতিক্রম দেখা যায় বটে। তবে টেস্টে বোলারদের ব্যাটিংয়ে নেমে হাত কাঁপাকাপিতে সবশেষ। তা কখনো ২০ রানেও যেতে পারে লেজের ৪-৫ ব্যাটার। ওই স্পটটি বড় করে দেখছেন প্রধান কোচ। তাই দেশে যাওয়ার আগেই চোথা ধরিয়ে দিয়েছেন সতীর্থদের হাতে। হাথুরুসিংহের নির্দেশিত পথেই বাংলাদেশের ৫ বোলারকে ‘ব্যাটসম্যান’ বানানোর চেষ্টা চলছে। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন দলের কোচ মিজানুর রহমান বাবুল। তিনি টেস্ট ক্রিকেটে জাতীয় দলের হয়ে খেলা ৫ বোলারকে নিয়ে ঘাম ঝরাচ্ছেন। গত কয়েক মাস ধরেই টেস্ট ক্রিকেটে মোহাম্মদ শহীদ, রুবেল হোসেন, জুবায়ের হোসেন লিখন, মুস্তাফিজুর রহমান ও তাইজুল ইসলাম নিয়মিত মুখ। আগামী এক সপ্তাহ চলবে এই ৫ বোলারকে নিয়ে ছকে বাঁধা কাজ। যদিও জন্ডিসের কারণে ছুটিতে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে তাইজুল এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে অনেক আগেই এমন পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু এবার থাকতে পারলাম না অসুস্থার কারণে। আমি পরে যোগ দিয়ে নিজ উদ্যোগেই ব্যাটিং নিয়ে কাজ করব। এটা খুব প্রয়োজন। বিশেষ করে যখন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানকে সঙ্গ দিতে এর কোনো বিকল্প নেই। প্রধান কোচ হাথুরুসিংহের পরিকল্পনা সুনিপুণভাবে বাস্তবায়ন করছেন স্থানীয় কোচ মিজানুর রহমান বাবুল। এ প্রসঙ্গে তিনি এপ্রতিবেদককে বলেন, লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের বিশেষ কিছু বল খেলতে সমস্যা হয়। যেমন বাউন্সার-ইয়র্কার। এ রকম আরও কয়েকটি ডেলিভারি কিভাবে মোকাবেলা করা যায় বা এড়িয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়েই কাজ করছি। এই প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা রান করতে পারলে তা দলের জন্য বড় ব্যাপার। প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে আমাকে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। সে অনুযায়ীই সব চলছে। আশা করি এই প্রোগ্রাম বোলারদের ব্যাটিং দক্ষতা বাড়িয়ে তুলবে এবং প্রয়োজনের সময় মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা তাদের কাছ থেকে সহায়তা পাবে। বোলারদের এই ব্যাটিং প্রোগ্রামে আছেন রুবেল হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ শহিদ, জুবায়ের হোসেন লিখন ও তাইজুল ইসলাম। এদের প্রত্যেককে আলাদা আলাদাভাবে বিশেষ কিছু ডেলিভারি খেলার অনুশীলন করানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখন এ প্রতিবেদককে জানান, এই প্রোগ্রাম আমাদের অনেক কাজে দিবে। ব্যাটিংয়ে অনেক কিছু শেখার আছে। শেষ দিকে প্রতিপক্ষ বোলাররা লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ইয়র্কার কিংবা বাউন্সার দেয়। সেই বলগুলোর প্রতিরোধ হিসেবেই আমরা এই পরিকল্পনার অংশ হয়েছি। আশা করছি ভবিষ্যতে দলের প্রয়োজনে কার্যকর ব্যাটিং করতে পারব। এই পরিকল্পনায় রয়েছেন জাতীয় দলের অভিজ্ঞ পেসার রুবেল হোসেন। তিনি ব্যাটিংকে এই মুহূর্তে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, বিশেষ কিছু নিয়ে কাজ করছি না। আমাদের ব্যাকফুট ও ফ্রন্টফুট নিয়ে কাজ করছি। যাতে ওই সব বলগুলো সহজে খেলতে পারি। হাথুরুসিংহের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বাবুল ভাই আমাদের নিয়ে কাজ করছে। মঙ্গলবার এই পরিকল্পনার প্রথম দিন শেষ হয়েছে। রুবলে নিজের ফিটনেস নিয়ে সন্তুষ্টির কথা বলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আগের চেয়ে ফিটনেস অনেক ভাল। এখন ব্যাটিং নিয়ে কাজ করছি। কিছুদিনের মধ্যেই বল হাতে নেব। আমার চেষ্টা ফিটনেসটা আগের জায়গায় নিয়ে যাওয়া। দলের নতুন পেসার মোহাম্মদ শহীদ। টেস্ট অভিষেক হওয়ার পর থেকেই নিয়মিতই দলে আছেন নারায়ণগঞ্জের এই ক্রিকেটার। ব্যাটিং নিয়ে কি ধরনের কাজ করছেন এমন প্রশ্ন আসতেই সহজ উত্তরে তিনি বললেন, সামনের বলগুলোর সঙ্গে বাউন্সারগুলো যেন ঠিকভাবে খেলতে পারি এটাই মূল উদ্দেশ্য। আমি যখন ক্রিজে থাকব, আমার অপর প্রান্তে মিডল অর্ডার কোনো ব্যাটসম্যান থাকলে তাকে যেন সাপোর্ট দিতে পারি সেই প্রচেষ্টা থেকেই কাজ করছি। চেষ্টা করব নিজের ত্রুটিগুলো এখান থেকে দূল করে নেওয়ার। অভিষেকের পর থেকে একের পর এক কৃর্তি গড়ে চলছেন সাতক্ষীরার পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। ওয়ানডের পর টেস্টে নিজের প্রতিভার প্রমাণ রেখেছেন তিনি। তিনি রয়েছেন হাথুরুসিংহের এই পরিকল্পনায়। ছোটবেলায় ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলা মুস্তাফিজ এখনো ব্যাটিং উপভোগ করছেন। নতুন এই পরিকল্পনার প্রথম দিন শেষে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আজ অনেকক্ষণ ব্যাটিং করলাম। ব্যাটিং করতে ভালই লাগছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য বোলারদের বাউন্সারগুলো রুখে দেওয়া। সেই সঙ্গে নিজেদের টেকনিকের উন্নতি করা। কোচ আমাদের আরও একটু দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই কারণেই ব্যাটিংয়ের দিকে বাড়তি মনোযোগ।


Spread the love