ব্যাংকের দুর্বলতার কারণেই অনিয়ম : গভর্নর

94
Spread the love

atiur_rahmanস্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে ব্যাংকগুলোতে অনিয়ম ঘটেছে। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার তদারক কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে করপোরেট সুশাসন, পর্ষদের জবাবদিহিতা ও দায়-দায়িত্বের ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের সিনিয়র অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. ফয়সাল আহমেদ, বিআইবিএমের অধ্যাপক এসএ চৌধুরী, সম্মেলনের চেয়ারম্যান ও বিআইবিএমের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহ্ মো. আহসান হাবীব, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এবং গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকিং খাতের সার্বিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা এবং ব্যাংকারদের সঙ্গে একাডেমিশিয়ানদের যোগাযোগ স্থাপন করা এ সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য। গভর্নর বলেন, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্তিশালী করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঝুঁকি পরিমাপ ও কমানোর প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবেলায় সবুজ অর্থায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মূল প্রবন্ধে তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের মূলধন পর্যাপ্ততা কাঠামো, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পূর্বাভাস এবং তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। খেলাপি ঋণ হিসাবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর নিয়ম অনুসরণ করছে। এ ধরনের নানা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ২০১৪ সালে ব্যাংক খাতে ঋণ চাহিদার ধীর প্রবৃদ্ধি ছিল। এতে করে ব্যাংকগুলো উদ্বৃত্ত তারল্যের চাপে রয়েছে। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া, একাধিক ব্যাংকের কয়েকটি বড় গ্রুপের কাছে বিনিয়োগ ঘুরপাক খাওয়া, একই খাতে বেশিমাত্রায় ঋণ বিতরণ, ঋণগ্রহীতাদের রেটিং নেওয়ার ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখানো এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলগুলোর ব্যবহার না হওয়ার মতো চ্যালেঞ্জে রয়েছে। তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট, ব্যাংক পরিচালনার ম্যানুয়াল, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত, ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স (আইসিসিডি) প্রধান ও কর্মকর্তার দক্ষতার বিষয়ে গত এক বছরে চোখে পড়ার মতো কোনো উন্নয়ন হয়নি। অর্থাৎ, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা রয়ে গেছে। ব্যাংকের একজন ডিএমডিকে আইসিসিডির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তিনি প্রধান নির্বাহী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এমন নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তি দ্বারা অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি চিহ্নিত ও নিরসন করা সম্ভব নয়।


Spread the love