বড়শালায় হামলায় আহত যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ

84
Spread the love

11998644_1180186562011424_56382267_n সিলেট প্রতিনিধি : বড়শালায় মাদক বিক্রেতারা বাসায় ঢুকে কুপিয়েছে আব্দুল গণি নামের এক যুবককে। গণি তার আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছিলেন। সোমবার বেলা  পৌনে ২টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গণি স্থানীয় ছালেপুর গ্রামের হাজী আজির মিয়ার ছেলে ও নতুন বাজারের উত্তরা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক। গুরুতর আহত আব্দুল গণিকে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রাতে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী দুই দফা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
বড়শালার মংলিপারের বাসিন্দা পারভেজ আহমদ জানান, আব্দুল গণি তাদের বাসায় অবস্থান করছিলেন। তিনি জানান, মংলিপার গ্রামের লুৎফুর এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ। এয়ারপোর্ট নতুন বাজার এলাকায় বিভিন্ন দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতো সে। এ নিয়ে গণির সাথে এর আগে বিরোধ হয়েছিলো। এর জের ধরে গতকাল গণি মংলিপারস্থ পারভেজ আহমদের বাসায় অবস্থান করছেন জেনে মংলিপারের আব্দুর রহমানের পুত্র লুৎফুরের নেতৃত্বে রায়হান, আলম, জাবেদ, ফরিদসহ আরো কয়েকজন ঘরে ঢুকে হামলা চালায়। এ সময় গণিকে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে যায়। পারভেজ আহমদ দাবি করেন-এ সময় গণির কাছে লক্ষাধিক টাকা ছিল, তাও নিয়ে গেছে লুৎফুরও তার সহযোগীরা।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল গণিকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আব্দুল গণির বাম হাতে মারাত্মক আঘাত রয়েছে। গত রাতে তার হাতে অস্ত্রপাচার করতে গেলে হাত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা করেন চিকিৎসকরা। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে,লুৎফুরও সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই এলাকাবাসীর। অনেকটা অতিষ্ট হয়ে উঠছেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি-সিলেট এম এজি ওসমানী বিমানবন্দরের দালাল চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক লুৎফুর। মূলত তার নেতৃত্বেই নতুনবাজার এলাকায় ট্রলি ঠেলার সাথে জড়িতদের নিয়ে যাত্রী হয়রানী ও বিভিন্ন দোকানপাট থেকে চাঁদা উত্তোলন করা হয়। বিমানবন্দরের ডিউটি ফ্রি শপের মাদক পাচারেরও জড়িত রয়েছে  সে। সূত্র জানায়, ঐ লুৎফুর অন্তত ৬/৭টি মামলার চার্জশীট ভুক্ত আসামী। ভূমি দখল করতে গিয়ে ছালিয়া গ্রামবাসীর উপর গুলিবর্ষন মামলায়ও চার্জশীটভুক্ত আসামী ছিল লুৎফুর।
অন্যদিকে,গতকাল বাসায় ঢুকে যুবককে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। তারা সিলেট কোম্পানীগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে লুৎফুরও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।  উপস্থিত সময়ে এারপোর্ট থানার ওসির গৌছুল হোসেনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলেও ৩টার দিকে পুনরায় রাস্তায় নেমে আসেন এলাকাবাসী। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ দিলোয়ার হোসেন ও কমিউনিটি পুলিশিং এয়ারপোর্ট থানা শাখার সেক্রেটারী ইমন আহমদসহ এলাকার রাজনীতিবিদ ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে জড়িতদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।
এ ঘটনায় আহত গণির ভাই কাহির মিয়া বাদী হয়ে সোমবার রাতেই এয়ারপোর্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোন আসামী আটক করতে পারেনি পুলিশ।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি মোঃ গৌসুল হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। যার নং ৮ (০৭-০৯-১৫)। ওসি জানান আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


Spread the love