ভাগ্য যেন হারালো সিলেটকে

103
Spread the love

bd sনিজস্ব প্রতিবেদক : জয় পেতে পেতে পেলোনা সিলেট সুপার স্টার্স। ভাগ্য যেন হারালো সিলেটকে।  জয়ের জন্য শেষ দুই বলে দরকার সাত রান। পাক পেসার আমিরের করা শেষ ওভারের পঞ্চম বলে চার হাঁকালেন মুশফিক। গ্যালারীতে তখন রাজ্যের উত্তেজনা। বিপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয়ের জন্য সিলেটের দরকার শেষ বলে তিন রান। কিন্তু আমিরের ফুল লেন্থের বলে ঠিকমতো ব্যাট চালাতে পারলেন না মুশফিক। হলো মাত্র এক রান। দুই রান হলেও স্কোর লেভেল হতো। কিন্তু তা আর হলো কই। প্রথম ম্যাচে ১৮৭ রান করেও রংপুরের কাছে হেরেছিল চিটাগং। সোমবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেটের বিরুদ্ধে ১ রানের জয়ে তাই বাধনহারা উল্লাসেই মাতল তামিম ইকবাল শিবির। অন্যদিকে জয়ের খুব কাছাকাছি এসেও হারের বেদনায় বেশ হতাশই লাগল সিলেট অধিনায়ক মুশফিকের মুখটা। টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে চিটাগং। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৭৯ রানে থামে সিলেটের ইনিংস। তীরে এসে তরী ডোবায়, আফসোসেই যেন পুড়ছে গোটা সিলেট সুপার স্টার্স শিবির। জয়ের জন্য সিলেটের দরকার ১৮১ রান। শুরুটা ভালো হয় তাদের। লংকান ওপেনার দিলশান মুনাবিরার সাবলিল ব্যাটে স্বস্তিই পাচ্ছিল মুশফিকুর শিবির। ওপেনিংয়ে মুনাবিরার সঙ্গে নামা দেশি ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকীর ব্যাট ছিল অনেকটাই নিষ্ফলা। তার ব্যাটিং ধরণ অনেকটাই টেস্ট মেজাজের। তবে উল্টো মুনাবিরা। তার স্ট্রাইক রেট ২০০ এর উপরে। ওপেনিং জুটিতে সিলেটের সংগ্রহ ৬৬ রান। ১৩ বলে মাত্র পাঁচ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন জুনায়েদ সিদ্দিকী শফিউলের বলে বোল্ড হয়ে। একটু পর তার পথে হেঁটেছেন মুনাবিরাও। খুব দ্রুত ফিফটি করা মুনাবিরাকে থামিয়েছেন পাকিস্তানী স্পিনার সাঈদ আজমল। ৩০ বলে ৬৪ রান করে বিদায় নিয়েছেন মুনাবিরা। এর মধ্যে ছিল ১৩টি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা। ঠিক পরের বলেই আউট মুমিনুল হক। আজমলের ঘূর্ণি বলে এলবিডব্লিউর শিকার তিনি। ৪ বলে মাত্র ২ রান করেছেন মুমিনুল। ১০ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে অনেকটাই চাপে সিলেট। চতুর্থ উইকেট জুটিতে দলকে পথ দেখানো শুরু করেন অধিনায়ক মুশফিক ও নুরুল হাসান। এই জুটিতে রান আসে ৫৫। সিলেটের জয় দেখানো এই জুটিতে ভাঙ্গন ধরান চিটাগংয়ের শফিউল। দলীয় ১৩১ রানের মাথায় বিদায় নেন ২০ বলে ৩২ রান করা নুরুল হাসান। পরে শফিউল বোল্ড করেন নাজমুল হোসেন মিলনকে (৯)। দলীয় রান তখন ১৪৫। পেসার শহীদকে সঙ্গে করে এগুচ্ছিলেন অধিনায়ক মুশফিক। চার বলে তিন রান করে বাজেভাবে রান আউট হন শহীদ। তবে পরে আর উইকেট পরেনি। লংকান স্পিনার অজন্তা মেন্ডিজকে সঙ্গে করে শেষ পর্যন্ত ছিলেন মুশফিক। কিন্তু জয়টাই আসেনি। শেষ ওভারে আমিরকে ভালোমতো মোকাবেলা করতে পারেনি মেন্ডিজ। প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়েছিলেন মুশফিক। কিন্তু পরের তিন বলে মেন্ডিজ ছিলেন অসহায়। আর তাই চতুর্থ বলে কোনমতে প্রান্ত বদল করেন মুশফিক। পঞ্চম বলে বলে চার হাকালেও শেষ বলে পেলেন এক রান। ১৭৯তে থামে সিলেটের ইনিংসে। প্রথম ম্যাচে চার উইকেট নিলেও হারের বেদনায় ছুয়েছিল চিটাগংয়ের পাক পেসার মোহাম্মদ আমিরকে। আজ কোন উইকেট পাননি। তবে ৪ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ১৯ রান। শেষ ওভারে তার কার্যকরী বোলিংই ১ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দিয়েছে চিটাগংকে। আমির উইকেট না পেলেও তার স্বদেশী স্পিনার সাঈদ আজমল পেয়েছেন দুটি উইকেট। আর সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন চিটাগংয়ের শফিউল ইসলামই।


Spread the love