ভারতীয় কাপড়ের দখলে সিলেটের ঈদ বাজার

74
Spread the love

dftবিশেষ প্রতিবেদক : ঈদকে সামনে রেখে বর্ণিল সাজে সেজেছে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট। দেশি ও বিদেশি পণ্যের চোখ ধাঁধানো পোশাক ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। তবে নগরের বিভিন্ন শপিংমল রং বেরঙের ভারতীয় কাপড়ের দখলে চলে গেছে। সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে আসছে এসব ভারতীয় কাপড়ের চালান। দেশীয় কাপড়ের দোকানে তরুণীদের আকৃষ্ট করতে ভারতের বিভিন্ন সিনেমার নামে পোশাকের নামকরণও করা হয়েছে। ভারতীয় কাপড়ে বাজার সয়লাব হলেও প্রশাসন এ ব্যাপারে নিরব রয়েছে। এদিকে, ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ও দ্রুত বাড়ছে। কিছুদিন আগ পর্যন্তও অনেক ক্রেতা পছন্দের জিনিসটি খুঁজতে এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেট ঘুরে বেরিয়েছেন। বিশেষ করে নগরের ফ্যাশন ও পাঞ্জাবি হাউসগুলোতে এখন তরুণ-তরুণী ও নারী-শিশুদের উপচেপড়া ভিড়। দেশি ও ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, শিশুদের পোশাক এবং পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে বেশি। তবে ভারতীয় পোশাকের প্রতি নজর বেশি তরুণ-তরুণীদের। বিভিন্ন শপিংমলে দুবাই, ইতালি, চায়নার কারুকাজ করা বিভিন্ন পণ্যও পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ঈদের ১৮ রমজান অতিবাহিত হওয়ার আগ থেকেই জমে ওঠেছে সিলেটের বাজার। নগরের বিপণিবিতান আল-হামরা, ব্লু-ওয়াটার, শুকরিয়া, প্লাজা, মধুবন, মিলেনিয়াম, মানরু, হাসান মার্কেট, মণিপুরি শোরুম, আড়ং, শী, মাহা, মাম্মী, প্রাইড, বুনয়ন, সুতি পল্লী, লিবাছ, নিপুণ, অঞ্জনস, নাইওরী, ফেরি, মনোরম, ফেবুলাস, মেগাবাজার, কুশিয়ারা, জেক্স টেক্সটাইলসহ সবকটি প্রতিষ্ঠানে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। মহানগরের বিভিন্ন বিপণিবিতান ও দেশি শোরুম ঘুরে দেখা যায়, দেশীয় পোশাক ছাড়াও বিদেশি পোশাক নজর কেড়েছে ক্রেতাদের। এদের মধ্যে ভারতীয় ভায়োল্যান্ট, নাগাশিখা, খুবছুরত, সগাতসহ বাহারি কারুকাজের নান্দনিক ডিজাইনের ড্রেস তরুণীদের আকৃষ্ট করেছে। এসব পোশাক ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৮ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর রেডিমেড দেশি ও ভারতীয় পোশাক বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। শাড়ির মধ্যে মসলিন, জামদানি, টাঙ্গাইল, তাঁত, তসর, কাতান সিল্ক, সিপন কাতান, অপেরা কাতান, জর্জেট কাতান, ব্লক, বেনারসি কাতান, জুট কাতান এবং নেট ছাড়াও বিভিন্ন রকমের শাড়ির চাহিদা বেশি। জামদানি ৩ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা, জার্গান ১২ থেকে ২২ হাজার টাকা, ব্লক ১২০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, মসলিন ৭ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা, টাঙ্গাইল শাড়ি ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা, সিল্ক ২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা, তসর ২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা, জুট কাতান ৫ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা, অপেরা কাতান ১১ হাজার ৫০০ টাকা, জর্জেট কাতান ৭ হাজার থেকে ১৭ হাজার টাকা, বেনারসি কাতান সাড়ে ৭ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা এবং কাতান ৫ হাজার থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। রুচিশীল পোশাকের মধ্যে লং স্টাইল, ফরপিস, টু পিস, কাশিশ, মাশাককলি, বুটিকস বেশ নজর কেড়েছে সবার। এগুলো মধ্যে বিদেশি পোশাকের দাম হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর দেশি পোশাকগুলোর মূল্য ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। ছেলেদের শার্ট সাড়ে ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা, প্যান্ট ৭০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা, ফতুয়া সাড়ে ৩০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা, পাঞ্জাবি ১২০০ টাকা থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা, শেরোয়ানি ২ হাজার থেকে সাড়ে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুয়েলারি সামগ্রীর দিকে নজর ক্রেতাদের কোনো অংশে কমতি নেই। তরুণীরা ড্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে জুতা থেকে শুরু করে অলংকারও কিনছেন। দেশি বিদেশি পোশাকে সেজেছে জিন্দাবাজারের ব্লু-ওয়াটার শপিং সিটি। তরুণ-তরুণীরা পছন্দের পোশাক কিনতে ছুটছেন এ শপিংমলে। মার্কেটের তৃতীয় তলায় ফেয়ারি ফ্যাশন কালেকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আহমদ বলেন, তরুণীদের পছন্দ এবার ভারতীয় পোশাক। তবে দেশি পোশাকও ভালো বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় বজরঙ্গি, সারারা, গুপি, সুলতান, রাসলীলার চাহিদা একটু বেশি। নগরের নয়াসড়কের অভিজাত কাপড়ের দোকান মাহায় রমজানের শুরু থেকেই তরুণীদের ভিড়। পছন্দের পোশাক কিনতে প্রতিদিন রাত পর্যন্ত চলছে মাহায় কেনাকাটা। মাহার অনলাইন অ্যাডমিন শারমিন চৌধুরী জানান, এবার গত বছরের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে। ভারতীয় পোশাক ভায়োল্যান্ট, নাগাশিখা, খুবছুরত, সগাত বেশি বিক্রি হচ্ছে। রমজানের শুরু থেকেই এবার আড়ংয়ে ক্রেতাদের সমাগম বেশি বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, টেক্সটাইলের তৈরি পাঞ্জাবি, কটন পাঞ্জাবি, শর্ট কোর্তা, ফতুয়া, ক্যাজুয়াল শার্ট, সিল্কের পাঞ্জাবি, শিশুদের পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি আড়ংয়ের বিশেষ ড্রেস টাগা এবার তরুণীদের বেশি পছন্দ। নকশিকাথার শাড়িসহ সব ধরনের শাড়ির পাশাপাশি চামড়ার স্যান্ডেল, পার্স ও বটুয়া গত বছরের তুলনায় বেশি বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, ঈদের আগে ক্রেতা সমাগম আরো বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, মেয়েদের ড্রেস সর্বনিম্ন ১৯০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঈদের কেনাকাটাকে নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে জানিয়ে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে ১৪টি টিম গঠন করা হয়েছে। ৭টি টিম সকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এবং বাকি ৭টি টিম সন্ধ্যা ৭টা থেকে মার্কেট বন্ধের আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।


Spread the love