ভারতীয় কাপড় প্রসাধনী ও মসলায় সয়লাব খুলনা অঞ্চলের বাজার এক দিনেই অর্ধকোটি টাকা মূলের শাড়ী জব্দ

81
Spread the love

cdrনিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট এলাকার বেপরোয়া চোরাচালানী সিন্ডিকেটে ভারতীয় কাপড় ও দ্রব্যসামগ্রীতে সয়লাব খুলনা অঞ্চলের মাকের্টগুলো। ভারত থেকে অবৈধ পথে আনা শাড়ি, থ্রী-পিচ, শার্ট ও প্যান্ট পিচ, থান কাপড়, জিরা, গুঁড়ো দুধ, মসলা, চকোলেট বিস্কুট ও ওষুধসহ নানা ধরণের পণ্য সামগ্রী পৌঁছেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। সবশেষ গতকাল মঙ্গলবার খুলনার খানজাহান আলী সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে অর্ধ-কোটি টাকা মূল্যর অবৈধ ভারতীয় শাড়ী কাপড় জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এর আগে গত ১৫ মে একই এলাকা থেকে বিশাল চালানের সোয়া দুই কোটি টাকামূল্যের ভারতীয় কাপড় ও দ্রব্যসামগ্রী জব্দ করে কোস্ট গার্ড। মাঝে-মধ্যে এসব অভিযানের আড়ালেই রয়ে যায় রাঘব-বোয়ালরা। সেই জন্যই তো খুলনা অঞ্চলের মার্কেটগুলোতে ভারতীয় পোশাকের আধিক্য লক্ষ্যণীয়। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট এম ফরিদুজ্জামান খান জানান, গত সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সংবাদের ভিত্তিতে রূপসা খানজাহান আলী সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় অবৈধ ভারতীয় বিলাস বহুল শাড়ি ও পিকআপ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত অবৈধ ভারতীয় ৭২১টি শাড়ি যার আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকার অধিক। তিনি আরো জানান, স¤প্রতি খুলনাসহ পাশ্ববর্তী জেলায় অবৈধ ভারতীয় পন্যের চোরাচালানী বৃদ্ধি পাওয়ায় বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা এলাকাসমূহে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন কর্তৃক টহল জোরদার করা হয়েছে। কয়েকটি চক্র অবৈধ ভারতীয় কাপড়ের চোরাচালানী চলছে। তাদের প্রতিরোধে ও চোরাচালানী বন্ধে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান অব্যহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের বাড়তি চাহিদাকে সামনে রেখে কয়েকটি অসাধু চক্র অবৈধ পথে ভারতীয় কাপড় ও দ্রব্যসামগ্রীর মজুদ গড়ে তুলেছে। সড়ক ও নৌ-পথ চোরাচালানীদের নিরাপদ রুট। খুলনার বড় বাজার, রেল স্টেশন, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল ও গল্লামারী মোড়, দৌলতপুর, বটিয়াঘাটা উপজেলার জিরোপয়েন্ট এবং ডুমুরিয়া থানার কয়েকটি স্থানে সবচেয়ে বেশি চোরাই ভারতীয় পণ্য খালাস হয়। পুলিশকে ম্যানেজ করে চোরাকারবারীরা তাদের অবৈধ ব্যবসা দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে। এজন্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কোন চোরাচালানী মালামাল জব্দ করতে পারছে না বলে রয়েছে অভিযোগ। মহানগরীর বড় বাজারের মসলা পট্টি বা বেনেপট্টিতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার জিরাসহ বিভিন্ন মসলা আসছে অবাধে। বিগত সময়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর জিরা ধরা পড়ার পরও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের ম্যানেজ করে চলছে ভারতীয় মালামাল আনার মহোৎসব। বেনেপট্টিসহ বড় বাজারের প্রায় প্রতিটি দোকানে প্রতিদিন অবাধে আসছে জিরাসহ বিভিন্ন চোরাই মালামাল। সূত্রটি জানায়, ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে যশোরের বেনাপোল ও সাতক্ষীরার ভোমরাস্থল বন্দর সংলগ্ন সীমান্ত থেকে আসা কোটি কোটি টাকার ভারতীয় বিভিন্ন ডিজাইনের মূল্যবান শাড়ি থ্রী-পিচ, শার্ট ও প্যান্ট পিচ, জিরা, মসলা, গুঁড়ো দুধ, চকোলেট বিস্কুট ও ওষুধসহ নানা পণ্য সামগ্রীর মজুদ গড়ে তোলা হচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শীর্ষ চোরাচালানীরা প্রতিনিয়ত ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের মাধ্যমে আনলেও ঈদ এবং পূজাকে সামনে রেখে এদের তৎপরতা বেড়ে যায়। খুলনার বড় বাজার চোরাচালানীদের অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। খুলনার একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ চোরাচালানী ও খুনি এরশাদ শিকদারের দোসর দক্ষিণাঞ্চলের চোরাচালানের গডফাদার হিসেবে এ অঞ্চলে নেতৃত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি আরও রয়েছে বেশকিছু চিহ্নিত চোরাকারবারী। যারা অবাধে চোরাচালানের সাথে যুক্ত রয়েছে। স¤প্রতি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে এসব চোরাচালানীদের হালনাগাদ তালিকা তৈরি হয়েছে। তালিকা ধরে এদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে বলে জানায় একটি সূত্র। সূত্রমতে, চোরাকারবারীদের কারণে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দেশীয় বস্ত্রের বাজার হারাচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় দেশীয় জামা কাপড় বিক্রির পরিবর্তে চোরাই পথে আসা ভারতীয় জামা কাপড় বিক্রি করছেন। ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। অন্যদিকে দেশীয় বস্ত্রের বাজার হারাচ্ছে শিল্প মালিকরা। আবার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য ও স্থল বন্দর এলাকার বিভিন্ন সেক্টরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিশাল বিশাল চালান পাচার করার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডিবি) মোঃ কামরুল ইসলাম জানান, কেএমপি’র সকল স্তরের পুলিশ চোরাচালানীদের ধরতে সবসময় কাজ করছে। চোরাকারবারী, মাদক ও অস্ত্র বিক্রেতাদের কোন অবস্থাতেই ছাড় দেয়া হবে না। এদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে চেকপোস্ট বসানো হবে। খুলনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, খুলনার ২০/২২জন চোরাচালানী পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। অভিযান শুরুর অনেক আগেই তারা খুলনা ও আশপাশের এলাকায় ভারতীয় পণ্যের মজুত গড়ে তুলেছে।


Spread the love