ভারি বর্ষণে আবারো নাকাল কক্সবাজারবাসি

96
Spread the love

Cox Pic (10)আমিনুল কবির, কক্সবাজার :  গেল দু’দফা ভারি বর্ষণের পর আবারো ২ দিন ধরে কক্সবাজার জেলাব্যাপি মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। সাথে পাহাড়ি ঢল। ভারি বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি চিংড়ি ঘের, বীজতলা, লবণ মাঠ ও পানবরজ-এর ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। জন ও যানবাহন চলাচলে সীমাহিন দুভোর্গ বাড়ছে। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামি শিক্ষার্থীরা বেকায়দায় পড়েছে। রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে একের পর একের প্লাবন পরিস্থিতি কক্সবাজারের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে একেবেরে পথে বসিয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিুচাপ সক্রিয়
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিুচাপ ও মৌসুমী জলবায়ু সক্রিয় থাকায় বুধবার কক্সবাজার জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার থেকে এর প্রভাব কিছুটা কমলেও তা একেবারেই থেমে যাবে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
এদিকে, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট নিুচাপটি উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আবহাওয়া অধিদফতর।
এজন্য কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ (তিন) নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বেশি ১৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে। আর রাজধানীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬৪ মিলিমিটার। তবে সকাল ৬টার পর ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় কক্সবাজারে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৩০ মিলিমিটার।
বৃষ্টিপাতের বিষয়ে আবহাওয়াবিদরা বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় কক্সবাজারসহ দেশ জুড়ে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
তারা আরো বলেন, বুধবার দিনভর বৃষ্টি হবে। তবে সন্ধ্যার পর কিছুটা কমতে পারে। বৃহস্পতিবার থেকে কিছুটা কমলেও তা একেবারে থেমে যাবে না।
অপরদিকে, মঙ্গলবার রাত থেকে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণ কক্সবাজার শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার পৌরসভার রুমালিয়ারছড়া ইটখোলা রোড, চৌফলদন্ডী-ঈদগাঁও সংযোগ সড়ক, হাশেমিয়া মাদ্রাসার সামনের এলাকা, আলির জাহাল ও ঝিলংজার শত-শত বাড়ি-ঘর বর্তমানে কোমর পরিমাণ পানিতে নিমজ্জিত। কোথাও-কোথাও হাঁটু পর্যন্ত পানিও জমেছে। প্রধান সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। উচু এলাকার মানুষজন গিয়ে পানিবন্দীদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।
এছাড়াও কক্সবাজার সদর, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, উখিয়া ও টেকনাফসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।


Spread the love