ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করে সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আব্দুল হেকিম

117
Spread the love

12000জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া,সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হেকিম (২৭) বিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করে। সুনামগঞ্জের সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত জারু মিয়ার ছেলে। মুক্তিযোদ্ধা জারু মিযার ৪ মেয়ে ২ছেলের মধ্যে সবার ছোট। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাশে অভারে তারনায় ছোট বেলা থেকেই সংসারের হাল ধরতে লেখা পড়া বন্ধ করে নেমে পড়েন বিভিন্ন কাজে। ১০ বছর আগে একদিন ট্রাক্টার মেশিন দিয়ে জমি চাষ করার সময় অসাবধানতা বশত ট্রাক্টার তার বাম পায়ের উপর দিয়ে চলে যায়। পরে তার এই পা কেটে ফেলতে হয় বন্ধ হয়ে যায় কাজ করার ক্ষমতা। অভাবের সংসারেই বোনদের বিয়ে দেওয়া হয়। নিজের অক্ষমতা মেনে নিতে পারে নি হেকিম মিয়া। কাজের জন্য চেষ্টা করেন কিন্তু কেউ কাজ দিতে চায় না পা না থাকার কারনে। পরে এক প্রকার বাধ্য হয়ে নেমে পরেন ভিক্ষাবিত্তির পথে। চলে আসেন এলাকা ছেড়ে সিলেটে। প্রথমে সিলেটের কুমার গাঁও বাস ষ্ঠ্যান্ডে শুরু করেন। এই ষ্ট্যান্ড থেকে দিরাই,ছাতক,সুনামগঞ্জ গামী প্রতিটি বাসের ভিতরে গিয়ে সবার কাছে সাহায্য চান আর সবাই থাকে কম বেশী সাহায্য করে। আর এবাবেই চলছে তার জীবন সংগ্রাম। এখন সিলেটেরে হুমায়ুন রশিদ চত্তরে শুরু করেন ভিক্ষাবীত্তি সিলেট-ঢাকা,হবিগঞ্জ,জগন্নাথপুর,মৌলভী বাজার রোড়ে আসা যাওয়া বাসের যাত্রীদের কাছ থেকে। আর এভাবেই ভিক্ষাবীত্তি করে সারাদিন ২০০-২৫০ টাকা উপার্জন হয়। কোন দিন হয় আবার কোন দিন খালি ফিরতে হয় বাসায়। ভিক্ষাবীত্তির মাঝেও পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন হেকিম মিয়া। তিনি চান এই ভিক্ষাবীত্তি ছেড়ে দিয়ে ভাল ব্যবসা করতে কিন্তু কে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিবে,করবে সহযোগীতা। হেকিম মিয়া বলেন-আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আমি মুক্তিযোদ্ধার ছেলে তার পরও এই সরকারের কাছ থেকে কোন প্রকার সাহায্য সহযোগীতা না পেয়ে কারো কাছে সংসারের বোঝা না হয়ে নেমে পড়েছি এই ভিক্ষাবীত্তিতে। এই কাজ করে আমার কোন লজ্জা নেই পা হারিয়ে আমি অসহায়। তাই সবাই আমাকে খুশি মনেই ২-৫-১০টাকা দিয়ে থাকেন। সারাদিনে যা পাই তা দিয়ে বাসা বাড়া ও খাওয়ার খরচ চালিয়ে নেই। কোন কোন দিন পাই না তখন না খেয়ে থাকতে হয়। বৃষ্টি হলে সব শেষ বেড় হতে পারি না। আমি এই ভিক্ষার করার কাজ ছেড়ে দিতে চাই। ভাল ব্যবসা করতে চাই।


Spread the love