মনোনয়নপত্র জমা ৩ ডিসেম্বর দলীয়ভাবে এই প্রথম ২৩৬ পৌরসভায় ভোট ৩০ ডিসেম্বর

67
Spread the love

????????????????????????????????????

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের ২৩৪ পৌরসভায় ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ রেখে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তিনি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংসাদ সম্মেলনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ, মোঃ শাহ নেওয়াজ, ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম, জনসংযোগ পরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান। সিইসি জানান, আগ্রহী প্রার্থীরা ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর। বৈধ প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৩ ডিসেম্বর। প্রার্থীদের নিয়ে ভোট হবে ৩০ ডিসেম্বর। স্থানীয় সরকারে প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে ভোট হচ্ছে পৌরসভায়। এক্ষেত্রে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে লড়াই হবে কাগজে-কলমে নির্দলীয়ভাবে, যদিও তাতে দলীয় প্রভাব সব সময়ই ছিল। বর্তমানে দেশে ৩২৩টি পৌরসভা রয়েছে। এরমধ্যে ডিসেম্বর থেকে ফেব্র“য়ারির মধ্যে বেশির ভাগের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। জানুয়ারি ও ফেব্র“য়ারিতে নতুন ভোটার তালিকা হবে। তাছাড়া ওই সময় এসএসসি পরীক্ষা থাকায় ডিসেম্বরে ভোট শেষ করতে চাইছে ইসি। সর্বশেষ ২০১১ সালের জানুয়ারিতে চার দিনে নির্বাচন উপযোগী প্রায় আড়াইশ’ পৌরসভায় ভোট হয়। কাজী রকিব নেতৃত্বাধীন ইসি ২০১৩ সালে পাঁচ ধাপে উপজেলা নির্বাচনের আয়োজন করে। সে সময় গোলযোগ-সহিংসতার তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এবার পৌর ভোট একদিনেই হচ্ছে। এবারই প্রথম স্থানীয় কোনো নির্বাচনে দলীয়ভাবে ভোটগ্রহণ হবে। তবে কোনো দল কোনো পৌরসভায় একাধিক মেয়রপ্রার্থী দিলে সবগুলো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হবে বলে গণ্য হবে। এ নির্বাচনে মোট ৩ হাজার ৫৮২টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এতে পুরুষ ভোটার ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৫৬ এবং নারী ভোটার ৩৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪০ জন। তারা মেয়র পদে ২৩৪, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭৩৮ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৯৫২ জন প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন। ভোট গ্রহণ করবেন মোট ৬১ হাজার ১৪৩ জন কর্মকর্তা। সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইনের সংশোধনী অনুযায়ী, দেশে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে স্থানীয় এ নির্বাচন হচ্ছে। তবে দলীয় প্রতীকে শুধু মেয়র পদে ভোট গ্রহণ হবে। সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নির্দলীয়ভাবে ভোট গ্রহণ করবে ইসি। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দল রয়েছে ৪০টি। বাংলাদেশ জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে বিধায় দলটি এ নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দিতে পারছে না। এদিকে, নির্বাচন পরিচালনা বিধি অনুসারে মেয়র পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম তফসিল ঘোষণার পাঁচ দিনের মধ্যেই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে। পৌরসভায় কোনো দল একাধিক প্রার্থী দিলে সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। স্বতন্ত্র থেকে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ১০০ ভোটারের স্বাক্ষরসহ সমর্থনের দলিল দাখিল করতে হবে। এরমধ্যে পাঁচজনের তথ্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে দৈবচয়নের ভিত্তিতে যাচাই করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা বিধি অনুসারে মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হচ্ছেন-প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাদের সমমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।


Spread the love