মাদারীপুরে জোড়া খুন : ৪ জনের ফাঁসি

73
Spread the love

Law_373272961মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নে ২০০৩ সালের জোড়া খুনের মামলার এক রায়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক শাহেদ-নূর-উদ্দিন ৪ আসামীকে ফাঁসির আদেশ, ১ জনের যাবজ্জীবন ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে করাদণ্ড দিয়েছেন। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ১২ মার্চ পবিত্র ঈদ-উল-আযহার দিন নামাজ শেষে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে আগাম ইউপি নির্বাচনের বিরোধের জের ধরে সংর্ঘষ বাধে। এ সময় বিএনপি দলীয় ক্যাডারদের এলোপাথারী গুলি বর্ষণে আওয়ামীলীগকর্মী সৈয়দ আলী মোল্লা ও ছলেমান মোল্লা নামের ২ জন মারা যায়। এছাড়াও এ সময় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। এ ঘটনায় পরবর্তীতে হাসপাতালে বেলাল শেখ নামের আরো এক জনের মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে নিহত সৈয়দ আলী মোল্লার ভাই আইয়ুব আলী মোল্লা বাদী হয়ে রাজৈর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। অপর মামলাটি দায়ের করেন এসকেন শেখ। দুইটি মামলার মধ্যে একটি মামলা মাদারীপুর আদালতে নিষ্পত্তি হলে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মামলাটি পরবর্তীতে সিআইডিতে স্থানান্তরিত করা হয়। এরপর চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে বিচার কাজ সম্পন্ন করতে ঢাকা স্থান্তরিত করা হয়। সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে দ্রুত বিচার আইনের ১নং আদালতের বিচারক শাহেদ-নূর-উদ্দিন চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মামলার এক রায়ে বৃহস্পতিবার মাদারীপুর জেলা বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন হাওলাদার মনি, তার ছেলে সোহাগ হাওলাদার, হবি সিকদার ও হালিম সরদারকে ফাঁসির আদেশ দেন। এছাড়া রাজৈর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সামসুল হক হাওলাদারকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও অন্য ৯ আসামীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের মধ্যে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী হালিম সরদারসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রাপ্ত কয়েকজন জেল হাজতে রয়েছে। অন্যরা পলাতক রয়েছে। চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মামলার রায়ে এলাকায় স্বস্তি ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মামলা পরিচালনায় বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন ঢাকা দ্রুত বিচার আদালতের পিপি আবু আব্দুলাহ ভূইয়া ও মাদারীপুর জজ কোর্টের সাবেক পিপি সুজিত চাটার্জী বাপ্পী এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মোশারফ হোসেন কাজল ও শফিকুর রহমান। মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্যা, মাদারীপুর জজ কোর্টের সাবেক পিপি সুজিত চাটার্জী বাপ্পী ও রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মোল্যা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 


Spread the love