মাধবপুরে প্রেমিককে গলা কেটে হত্যা

75
Spread the love

gthমাধবপুর হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা গ্রামে আশিক নামে (২২) এক প্রেমিককে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় আশিককে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার প্রেমিকা রিমাকে (১৪) ধারালো অস্ত্রদিয়ে আঘাত করে  রক্তাক্ত জখম করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার বাঘাসুরা পূর্বগ্রাম ইন্ডিয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আশিক কুমিল্লা জেলার বুরিচং উপজেলার রাজাপুর গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে। এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাঘাসুরা পূর্বগ্রাম ইন্ডিয়াপাড়ায় রফিক মিয়ার মেয়ে রিমা আক্তারের সাথে শায়েস্তাগঞ্জের জনি নামে জনৈক রাজমিস্ত্রী যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রিমা প্রায় ৬/৭ আগে ভারতের পশ্চিম ত্রিপুরার কলমচোরা থানার আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা চাচাতো চাচা এমরান মিয়ার বাড়িতে থাকতো। সেখানেই কুমিল্লার বুরিচং উপজেলার রাজাপুর গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে আশিক মিয়ার (২২) সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। রিমা বাড়িতে (বাঘাসুরা ইডিয়াপাড়াতে) আসার পর আশিক কয়েকবার ওই বাড়িতে বেড়াতে আসে। শনিবার সকালেও আশিক বুরিচং থেকে ওই বাড়িতে বেড়াতে আসে। আর সেখানেই খুন হয় আশিক। খবর পেয়ে মাধবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এছাড়া আহত রিমাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিমার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
এ ব্যাপারে মাধবপুর থানার ওসি মোল্লা মুনির হোসেন জানান, রিমার সাথে শায়েস্তাগঞ্জের জনি নামে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে রিমা আশিকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত খুন। এছাড়া ওই এলাকার মৃত দুবরাজ মিয়ার ছেলে সৈয়দ মিয়ার (৪৫) বাড়ি থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি পলিথিনসহ বিভিন্ন জিনিস আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে। রাতে সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাঘাসুরা পূর্ব গ্রাম ইন্ডিয়াপাড়ার সৈয়দ মিয়ার বসতঘর, উঠান এবং তার ভাই রফিক মিয়ার উঠানে রক্তের দাগ। হালকা লাল এবং নীল রংয়ের শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা যুবকটির মরদেহ রফিক মিয়ার বসতঘরের কোনায় পড়ে রয়েছে। এ সময় কথা হয় আহত রিমার বড় বোন প্রতিবন্ধি মিনারা খাতুনের সাথে। তিনি জানান- তার ছোট বোন রিমার চিৎকার শুনে তিনি ও তার সৎ মা জোসনা (৩৫) ঘর থেকে বের হন। এর আগে তিনি বাইরে ২ থেকে ৩ জনের হৈ-হুল্লোড় শুনতে পান।
তিনি আরও জানান- রিমা ভারতের পশ্চিম ত্রিপুরার কলমচোরা থানার আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা চাচাতো চাচা এমরান মিয়ার বাড়িতে থাকতো। মাসখানেক আগে রিমা দেশে ফিরে আসে।


Spread the love