মাশরাফির বিধ্বংসী ব্যাটে হারলো চিটাগাং ভাইকিংস

83
Spread the love

120নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৭৭ রানের বিশাল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই মোহাম্মদ আমিরের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে পড়তে হয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে। ১০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারের শঙ্কায় যখন মাশরাফির দল, তখনই দৃশ্যপটে উদয় হলেন মাশরাফি আর মারলন স্যমুয়েলস। দু’জনের অপরাজিত ১২৩ রানের জুটি ৭ উইকেটে দারুন এক জয় এনে দিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে। টি২০ ক্যারিয়ারে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি পেলেন মাশরাফি। ৩২ বলে অপরাজিত থাকলেন ৫৬ রানে। এছাড়া মারলন স্যমাুয়েলস অপরাজিত থাকলেন ৫২ বলে ৬৯ রান করে। ৭ বল হাতে থাকতেই চিটাগাং ভাইকিংসের বিপক্ষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে জয় এনে দেন মাশরাফি। প্রথম ম্যাচে লড়াই করে হেরেছিল ঢাকা ডাইনামাইটসের কাছে। একদিন বিরতি দিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি চিটাগাং ভাইকিংসের। মাশরাফি বিন মর্তুজার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের জয়ে ফেরার মিশন। তবে মাশরাফির দলের সামনে ১৭৭ রানের বিশাল লক্ষ্য বেধে দিয়েছে তামিমের চিটাগাং ভাইকিংস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে কুমিল্লা। প্রথম ওভারেই পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমিরের তোপের মুখে পড়তে হলো কুমিল্লার ওপেনিং জুটিকে। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই আমিরের বোলিং তোপের মুখে পড়ে উইকেট হারিয়েছেন ইমরুল কায়েস। ওভারের চতুর্থ বলে আমেরকে ফ্লিক করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন ইমরুল। সেটি তালুবন্দী করে নিতে মোটেও কষ্ট হয়নি তামিম ইকবালের। ১ বল মোকাবেলা করে কোন রান না করেই আউট হয়ে যান ইমরুল। এ ওভারে রান দেন মাত্র ৫ রান। পরের ওভারে তাসকিন আহমেদের কাছ থেকে মাত্র ১ রান নিতে সক্ষম হয় কুমিল্লা। তৃতীয় ওভারে আবারও বল করতে আসেন মোহাম্মদ আমির। এ ওভারের চতুর্থ বলে লিটন দাস একটি বাউন্ডারি মারেন আমিরকে। কিন্তু শেষ বলে এসে উইকেট বিলিয়ে দিলেন লিটন
কুমার দাস। আমির শট খেলার জন্য দিয়েছিলেন একটি হালকা বাউন্স। তাতেই প্রলুব্ধ হয়ে পুল করতে গেলেন লিটন। মিড উইকেটে ক্যাচটি তালুবন্দী করে নিলেন জিয়াউর রহমান। পরপর দুই উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দারুন বিপদে পড়ে যায় মাশরাফির কুমিল্লা। টি২০ বলে দেখে-শুনে খেলারও কোন উপায় নেই। সুতরাং, উইকেটে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলার চেষ্টা করেন শুভাগত। শফিউলের এক ওভার থেকেই তিনি নিয়েছিলেন ১৮ রান। মাত্র ১৬ বল খেলে ৩০ রান করে চিটাগাং ভাইকিংসের সামনে বেশ বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিলেন শুভাগত। কিন্তু সেই শফিউল ইসলামের বলেই দিলশানের দুর্দান্ত এক ক্যাচে পরিণত হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হলেন শুভাগত। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নামেন মাশরাফি। তবে অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলে মোহাম্মদ আমিরের সরাসরি এক থ্রোতে রানআউটের শঙ্কায় পড়েছিলেন মাশরাফি। শেষ পর্যন্ত টিভি রিপ্লেতে তিনি বেঁচে যান। রানআউট থেকে বেঁচে গিয়ে চিটাগাং ভাইকিংসের ওপর একাই যেন স্ট্রিম রোলার বইয়ে দিতে শুরু করেন মাশরাফি। শফিউল, সাঈদ আজমল কিংবা জিয়াউর রহমান, কাউকেই রেহাই দিলেন না।  তবে তার ভাগ্যটাও কেন যেন আজ খুব ভালো। তিন-তিনবার আউট থেকে বেঁচে যান তিনি। দু’বার তো থার্ড আম্পায়ারের টিভি রিপ্লে থেকে। ১৫তম ওভারের প্রথম বলে শফিউলকে খেলতে যান তিনি। কিন্তু বল ব্যাটের নিচের কানায় লেগে বল আঘাত করে মাশরাফির ক্যাডসে। এরপর বল চলে যায়
ফিল্ডারের হাতে। চিটাগাং ভাইকিংস আউটের আবেদন জানালে টিভি রিপ্লে দেখে থার্ড আম্পায়ার নট আউটের ঘোষণা দেন। একই ওভারের শেষ বলে লং অফে ক্যাচ দিয়েছিলেন মাশরাফি। কিন্তু ফিল্ডার শ্রীলংকান কাপুগেদারা বলটি হাতের তালুতে নিয়েও জমিয়ে রাখতে পারেননি। ফলে তৃতীয়বারেরমত আউট হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যান মাশরাফি। মাশরাফির এই লাইফ পাওয়াটাই চিটাগাংয়ের হারের জন্য যথেষ্ট ছিল। এরপর টি২০ ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরিটা তুলে নিয়ে মাশরাফি একাই কচুকাটা করলেন চিটাগাংকে। একে একে সাঈদ আজমল, জিয়াউর রহমান কিংবা মোহাম্মদ আমিরকে পাঠালেন মাঠের বাইরে। মাশরাফির সঙ্গে জ্বলে ওঠেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান মারলন স্যামুয়েলসও। তিনিও হাফ সেঞ্চুরি করেন, ৪৬ বল খেলে। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৫২ বল খেলে ৬৯ রান করে। ৮টি বাউন্ডারির সঙ্গে মারলেন ১টি ছক্কার মার। মাঝে অবশ্য একবার জীবন পেয়েছিলেন স্যামুয়েলস। মাশরাফি অপরাজিত থাকলেন ৩২ বলে  ৫৬ রানে। ৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছক্কা মারলেন ৩টি। উইনিং শটটাও আসলো মাশরাফির ব্যাট থেকে। পাকিস্তানের বিধ্বংসী বোলার মোহাম্মদ আমিরকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি মেরে কুমিল্লাকে সুপার জয় এনে দিলেন ম্যাশ। দুর্দান্ত ব্যাটিং করার কারণে ম্যাচ সেরাও হলেন মাশরাফি।


Spread the love