মুজিববর্ষে এটিই আমাদের বড় উৎসব : প্রধানমন্ত্রী

43
Spread the love

অনলাইন ডেস্ক : মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশে ৬৬ হাজার ১৮৯টি পরিবার বাড়ি পেয়েছেন। এ অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটা মানুষ যাতে সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে, তাদের জীবন যেন উন্নত হয়, বিশ্ব দরবারে আমরা বাঙালি হিসেবে মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে চলতে পারি। এদেশটাকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ যেন সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে কোনও মানুষ গৃহহারা থাকবে না। মুজিববর্ষে অনেক কর্মসূচি করতে পারি নাই। গৃহহীন ভূমিহীন মানুষকে ঘর দিতে পারলাম এর থেকে বড় উৎসব বাংলাদেশে হতে পারে না।’
প্রধানমন্ত্রী এ সময় ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষদের আরও এক লাখ ঘর করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
গতকাল শনিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবেই মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে সমগ্র বাংলাদেশের গৃহহীনদের নিরাপদ বাসস্থান তৈরি করে দেওয়া হবে যাতে দেশের একটি লোকও গৃহহীন না থাকে।’
‘যাতে তারা উন্নত জীবন যাপন করতে পারে, আমরা সে ব্যবস্থা করে দেব। যাদের থাকার ঘর নেই, ঠিকানা নেই; আমরা তাদের যেভাবেই হোক একটা ঠিকানা করে দেব’ ঘোষণা দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, মুজিববর্ষের অনেক কর্মসূচি আমাদের ছিল। সেগুলো আমরা করোনার কারণে করতে পারিনি। আমরা এই একটি কাজের দিকেই (গৃহহীনকে ঘর করে দেওয়া) নজর দিতে পেরেছি। আজকে এটাই আমাদের সব চেয়ে বড় উৎসব।
তিনি বলেন, আজকে আমি সবচেয়ে খুশি যে এত অল্প সময়ে এতগুলো পরিবারকে আমরা একটা ঠিকানা দিতে পেরেছি। এই শীতের মধ্যে তারা থাকতে পারবে। কেননা আমাদের যারা শরণার্থী (রোহিঙ্গা), তাদের জন্যও আমরা ভাসানচরে ঘর করে দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিল ’৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদেরও কক্সবাজার এবং পিরোজপুরে আমরা ফ্ল্যাট করে দিয়েছি অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থদেরও ঘর করে দিয়েছি এবং সেখানে শিগগিরই আরও ১০০টি ভবন তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, আজ এক লাখ ৬৬ হাজার ১৮৯টি ঘর করেদিলাম এবং শিগগিরই আরও এক লাখ ঘর আমরা করে দেব।
অনুষ্ঠানে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার কাঁঠালতলা গ্রাম, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুর গ্রাম, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সারাদেশের বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপকারভোগীদের মাঝে বাড়ির চাবি এবং দলিল হস্তান্তর করেন।


Spread the love