মেয়র আরিফ এখন সিলেটে

83
Spread the love

daq[1]সিলেট প্রতিনিধি : সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রহরায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে গতরাতে সিলেট নিয়ে আসা হয়। গতকাল বুধবার ভোর ৪টার দিকে আরিফকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,শারীরিক বিভিন্ন অসুস্থতার ফলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কারাবন্দী আরিফুল হক চৌধুরী। মঙ্গলবার বিকেল ৪ টায় আরিফকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এরপর বিকেলেই কারা কর্তৃপক্ষ আরিফকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেন। গত রাত ৮টা ৩৮ মিনিটের সময় সাদা রং এর এ্যাম্বুলেন্সে করে ডি.এম.পির একটি দল আরিফকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটক ত্যাগ করে। প্রায় ৮ মাস পর সিলেটে  আসলেন আরিফ। মেয়র আরিফের পরিবারিক সূত্র জানায়,গত মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকা মেডিকেলে আরিফের এম.আর.আই করার পর মাথা ও মেরুদন্ডের মাঝামাঝি স্থানে কয়েকটি ক্রেক ইনজুরী ধরা পড়ে। ৪, ৫, ও ৬ কডে নং ক্রেক ছাড়াও আরিফের হাইপারটেনশন ও ডায়াবেটিক সমস্যা রয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত মেডিকেল বোর্ড সে সময় দেয়া প্রতিবেদনে বলেছিল,আরিফের মেরুদন্ডের জোড়ার জায়গাটি ভাঙ্গা। সার্ভাইকাল কোডের উপর বড় ধরণের চাপ রয়েছে। যদি এতে হঠাৎ চাপ পড়ে তাহলে পঙ্গুত্ব ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এ অবস্থায় কোন প্রকার দীর্ঘ ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হবে যা যেকোন সময় তার হাত-পা অবশ (প্যারালাইসিস) হওয়ার কারণ হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,আরিফুল হক চৌধুরীর শারীরিক এমন অবস্থায় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ. এম. এস কিবরিয়া হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ ৯ বার পিছিয়েছে। অসুস্থতার ফলে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আরিফকে হাজির করতে পারেনি কারা কর্তৃপক্ষ। গত রোববার কিবরিয়া হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য্য ছিল। একই কারণে এদিনও আরিফকে হাজির করা হয়নি। এদিন আরিফের অসুস্থতা তুলে ধরে তার আইনজীবী তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ দিতে আদালতে আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মকবুল আহসান আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য্য করে আরিফের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন বলে ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এডভোকেট কিশোর কুমার কর জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস  কিবরিয়া হত্যা মামলায় আরিফসহ ১১ জনের নাম যুক্ত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন নেছা পারুল সম্পূরক চার্জশিট জমা দেন। পরে ৩১ ডিসেম্বর দুপুরে হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারক হাকিম রোকেয়া আক্তারের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন আরিফুল হক চৌধুরী। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আরিফকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ বিচারক। পরদিন তিনি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পাড়লে তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর তাকে আর সিলেট আনা হয়নি। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ ৫ জন। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন।


Spread the love