মোটর সাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ

98
Spread the love

Sablu - sylhet pic -  09-02-15.docসাথী আকতার : সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় ২০হাজার বেকার যুবক মোটর সাইকেল ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের পথ বেচেঁ নিয়েছে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে যেমন জলপথ বিপ¬ব এনেছে তেমনি এই সব মোটর সাইকেল চালকরা সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরেকটি বিপ¬বিক পরিবর্তন এনেছে। যোগাযোগের এই উন্নয়নটি গঠিয়েছে কিছু পরিশ্রমী ও উদ্যোমী যুবকের প্রচেষ্ঠার ফলে। সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর উপর ব্রীজ না হওয়ায় ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় জেলার বৈঠাখালি থেকে যাত্রী নিয়ে বিশ্বাম্ভরপুর উপজেলা হয়ে ও তাহিরপুর উপজেলার অনাছে কানাছে ছুটে চলছে বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পৌছে দিচ্ছে মোটর সাইকেল চালকরা যাত্রীদের। সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বাম্ভরপুর,জামালগঞ্জ,মধ্যনগড়,ধর্মপাশা,দিরাই-শাল¬া সহ হাওরাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে দ্রুত যাত্রী পরিবহনের একমাত্র বাহন মোটর সাইকেল। এই মটর সাইকেলে দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কম সময়ে যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে সারা দিন পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করছে তাহিরপুর উপজেলার বিশ হাজার পরিশ্রমী যুবক। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষ এক সময় মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে ও বর্ষায় নৌকায় চলাচল করত এখন তাদের প্রধান বাহন এখন মোটর সাইকেল। সুনামগঞ্জের সুরমা সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় ও সড়ক পথে ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় বিশ্বাম্ভরপুর,জামালগঞ্জ,মধ্যনগড়,ধর্মপাশা ও তাহিরপুরে বড় ধরনের কোন ভাল গাড়ি চলাচল করে না। এ অবস্থায় মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও কমিয়ে দিয়েছে মোটর সাইকেল চালকরা। দু-চাকার মোটর সাইকেল বাহনে চালক ও চালকের পেছনে ২জন সহ মোট তিন জন। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে এক ধরনের বিপ¬বিক পরিবর্তন এনেছে অর্ধলক্ষাধিক যুবক। এই সব বেকার যুবকরা মোটর সাইকেল চালিয়ে একদিকে যেমন যাতায়াত কারীদের জীবনে স্বাচ্ছন্দ এনে দিয়েছে। তেমনি নিজেদের জন্য তৈরি করেছে একটি সৎ কর্মসংস্থান। চালকদের অনেকেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে চাকরী না পেয়ে বেকার হয়ে বাবা,মার ঘারে না বসে শক্ত হাতে মোটর সাইকেলের হ্যান্ডেল ধরেছে।এ সব চালকদের রয়েছে বিভিন্ন মোটর সাইকেল সংগঠন। এ সব মোটর সাইকেল কোন কোন যুবক নিজের টাকায় কিনেছে আবার কেউ কেউ অন্যের মোটর সাইকেল সারাদিনের জন্য ২৫০-৩০০টাকায় ভাড়া নিয়ে যাত্রী পরিবহনের কাজে নেমে পড়ে। তাহিরপুর উপজেলার বীরনগড় গ্রামের মোটর সাইকেল চালক সবুজ মিয়া জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১২পর্যন্ত ভাড়ায় চালিয়ে খরচ শেষে ৪০০-৫০০ টাকা ও কোন দিন তার বেশী টাকা উপার্জন হয়। নির্বাচন ও রাজনৈতিক মিটিং মিছিলে মোটর সাইকেল চালকদের গুরুত্ব বেড়ে যায় তখন সাধারন যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সারাদিন উপার্জনের টাকা সঞ্চয় করে কেউ কেউ আবার একাধিক মোটর সাইকেলের মালিক হয়েছেন। মাঝে মধ্যে এমন সময় যায় সারা দিন কোন যাত্রী পাওয়া যায় না তখন বেকার বসে খাকতে হয়। তার পরেও আমরা গ্রাম-গঞ্জে যারা মোটর সাইকেল চালিয়ে উপার্জিত টাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখেই আছে। ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম যানান, প্রতিটি বাজারে কোন ষ্ঠান্ড নেই যাত্রী উঠানো-নামানো ও যেখানে সেখানে রাখার কারনে বাজারে অনেক জামেলা পড়তে হয়। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান, এসব মোটর সাইকেল চালকরা সরকারী চাকরীর আশায় বসে না থেকে পরিশ্রম করে নিজের ও পরিবারে চাহিদা মিটিয়ে সৎ ভাবে চলাচল করছে যা প্রশংসার যোগ্য।


Spread the love