ময়না কাটার বুকে চর পর্ব ০৩

51
Spread the love

জামাল উদ্দিন জীবন : আমেনা বেগম ঘুমিয়ে আছে মধ্যরাতে কিসের সোরগোল শুনে বাহিরে এসে বুঝার চেষ্টা করে কি হয়েছে। ছিদাম কে বাড়ির উপর দিয়ে যেতে দেখ জানতে চায় কি হয়েছে? গরু চোর এসেছে কাদের কাদের গরু চুরি করে পালিয়ে এদিকে আসছে সকলে তাই বলছে। অনিক ডাকে দাদী ও দাদী ঘুমিয়েছ নাকি আমাকে খেতে দাও আমেনা বেগম অবাক! হয়ে তাকিয়ে বলে তুই কোথা হতে এলিরে বলো না কিত্তন শুনতে গেছিলাম।
আসুক তারা বাড়ি সব বলে দিব আয় ভাত খাবি। বাতেন কামরান ও সবুজ বসে আড্ডা দিচ্ছে চায়ের দোকানে বলে চল নদীর ধারে যাই। মোহন ও মারিয়া ঘাটে বসে কথা বলছে পড়ন্ত বিকেল চারিদিকে প্রশান্তির হাওয়া বইছে নীল আকাশে সাদা মেঘ গুলি ভেসে বেড়ায় দেখে বেশ আনন্দ হচ্ছে দুজনার। প্রতিবেশী দুজনে বিভিন্ন প্রয়োজনে একে অন্যের সহযোগী। চল ফেরা যাক তখনি বাতেনদের দেখতে পায় বলে এদের তো চিনলাম না এর আগে কখনও দেখেছি বলে মনে হয় না। বেড়াতে এসেছে হয়তো
তাড়া তাড়ি যেতে হবে সন্ধ্যা হলে মা বকবে আচ্ছা
পরে দেখছি ওদের। সবিতাকে নিয়ে সকালে মাজাহারুল বাড়িতে ফিরে দেখে অনিক তখনও বিছানায় শুয়ে আছে। আমেনা বেগম বলে তোমাদের কি বুদ্ধি বলো ছেলেকে একা রেখে দুজনে কোথায় ছিলে ওর খাওয়া দাওয়া লাগে না। সবিতা পরিবেশটা তার প্রতিকূলে দেখে বলে মা তুমি ওর হয়ে কথা বলো না একটু শিক্ষা দেওয়া দরকার ভবিষ্যতে আর না করে। তোমরা এটা ঠিক করোনি ছোট মানুষ ওর বয়সে তোমরা আরো বেশি করেছো বড় হলে আর করবে না। যাও ঘরে যাও হাত মুখ ধুয়ে কিছু মুখে দাও।
গোকুল বাজার সেরে বিকেলে একবার হিজলদিঘির গাঁয়ে যাবে প্রয়োজনে সাথে টাকা ও কাপুড় রয়েছে ভাবছে মাতবর হাট যাবে না সময়টা ভালো যাচ্ছে না। সময়ের স্রোত ধারায় কালের বিবর্তনে সব কিছুর পরিবর্তন ঘটে এটাই স্বাভাবিক। ময়না কাটার জীবনেও পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগবে মনে হচ্ছে তবে সেটা কতটা কল্যাণ কর ও মঙ্গল জনক হবে মানুষের জীবনে সেটাই দেখার বিষয়। নিরাঞ্জন গভীর রাতে আরাধনায় ব্যস্ত হটাত করে একটা স্বপ্ন দেখে তার ভিতরে কেমন একটা অস্থিরতা কাজ করছে। রাতে ঘুমাতে পারেনি ভাবছে কখন সকাল হবে। নগেন সব সময় নিরাঞ্জনের সাথে থাকে ও কিছু বুঝতে পারছে না কখনও তাকে এমন দেখেনি। মনে মনে ভাবে কি হয়েছে জানতে চাইবে আবার ভাবে আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে গেলে বিপদ হতে পারে দরকার নেই আমার।
যতিন খবর দিয়েছে মন্ডপে দুটো পূজা আছে ঠাকুর যেন একবার আসে। নগেনকে নিয়ে দুপুরে আসে। অনুষ্ঠান শেষ করে ফিরবে কিছুটা পথ আসতেই সিরাজের সাথে দেখা কিরে কত দিন চলবে এভাবে গ্রামের লোকের জন্য কিছু একটা কর নয়তো ভালো হবে না বলেই পাগল উধাও। ঠাকুর মনে মনে চিন্তা করে কি হচ্ছে আমার সাথে মা কিসের ইঙ্গিত করছে বুঝতে পারছি না। নদীর মাঝ পথে আসার পরেই শুরু হলো প্রচণ্ড ঝড় নৌকা একটা ধাক্কায় উল্টে যায় নগেন যে কোথায় গেলো ঠাকুর তাকে আর পেল না। হাবু ডুবো খাচ্ছে পানিতে স্রোত বইছে প্রচণ্ড বেগে কি করি? এখন কে যেন তার হাত ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে হাতটা ছাড়াতে প্রাণ পণ চেষ্টা করে কোন লাভ হয় না। দেখে একটা মন্দির সামনে পড়ে আছে অনেকে শীতলা দেবীর পূজা করছে। মনের মধ্যে হাজারো প্রশ্ন ঘুর পাক খাচ্ছে কোনটার উত্তর মিলে না।


Spread the love