যমুনায় দুই ভেন্ট সুইস গেট বিধ্বস্ত, হুমকিতে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

55
Spread the love

1ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা, প্রতিনিধি : উজান থেকে নেমে আসা ভারতের পানি ও পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তীব্র স্রোতে গাইবান্ধার সাঘাটায় দুই ভেন্ট বিশিষ্ট একটি স্লুইস গেট বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। পানি প্রবেশ করেছে জুমারবাড়ি, হলদিয়া ও সাঘাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অকালে বন্য দেখা দিয়েছে। নদী থেকে মাত্র ১০ ফুট দূরে রয়েছে ত্রিতল দাখিল মাদ্রাসা ও হলদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে এলাকাবাসী জানান। ভারত থেকে পানি প্রবেশ করার ফলে তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় যমুনায় পানির চাপ বেড়ে গেছে। আর এ চাপের ফলে সাঘাটা উপজেলার দুই ভেন্ট বিশিষ্ট একটি স্লুইস গেট বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।জুমারবাড়ি, হলদিয়া ও সাঘাটা ইউনিয়নকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ২০০০ সালে এলজিইডি দুই ভেন্টের এ স্লুইস গেটটি নির্মাণ করে। এছাড়া সাঘাটা উপজেলা সদর থেকে গোবিন্দপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার পাকা সড়কসহ ওই এলাকা নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে প্রায় ৫০ লাখ টাকায় জরুরি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বালুভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ যমুনা তীরে স্থাপন এবং নিক্ষেপ করলেও ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হয় নি। হলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষীকা জয়নব বেগম বলেন, নদী ভাঙনের কবলে পড়ায় ইতোমধ্যে এ স্কুলের দুই চালা একটি টিনসেড ঘর সড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। যেভাবে ভাঙন দেখা দিয়েছে তাতে আজ রাতেই বিদ্যালয়টি রক্ষা করার কোন পথ নেই। হলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, যদি দুই তিন দিনের মধ্যে জরুরি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় তাহলে মাদ্রাসা ও সরকারি স্কুলটি যে কোন সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। দুই ভেন্ট বিশিষ্ট একটি স্লুইস গেট ভাঙনের ফলে পানি প্রবেশ করায় এ তিন ইউনিয়নের কয়েশ’ বিঘা জমিতে আমন ধান করাও সম্ভব হবে না। ভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাইবান্ধা নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কুমার সরকার জানান, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে স্থায়ী পদক্ষেপ হিসেবে সাঘাটার হলদিয়া, ভরতখালী ও ফুলছড়ির গজারিয়ায় মোট আট কিলোমিটার অংশ তীর সংরক্ষণ কাজ করার লক্ষ্যে ২৫৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই স্থায়ী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।


Spread the love