যমুনায় স্লুইস গেট ধসে ২০ গ্রাম প্লাবিত

59
Spread the love

12ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা, প্রতিনিধি : উজান থেকে নেমে আসা ঢলে যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে স্রোতের তীব্রতায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে ২ ভেন্ট স্লুইস গেট বিধ্বস্ত হয়ে তিন ইউনিয়নের ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় হাজার পরিবার। এসব গ্রামের ফসলি জমি, পাট খেত, সদ্য রোপণকৃত বীজতলা, খাদ্য শস্যসহ প্রায় ৫শ’ থেকে ৬শ’ হেক্টর ফসল তলিয়ে গেছে। জুমারবাড়ি, হলদিয়া ও সাঘাটা ইউনিয়নকে বন্যার হাত থেকে রক্ষাকরতে ২০০০ সালে এলজিইডি দুই ভেন্টের এ স্লুইস গেটটি নির্মাণ করে। ভাঙনের কবলে পরে গত সপ্তাহে এটি কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে দেবে যায়।  চলতি সপ্তাহে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, ঘুড়দহ, জুমারবাড়ী ইউনিয়নের মদনের পাড়া, আমদির পাড়া, কঠুয়া,গোবিন্ধপুর, জটিরপাড়া, থৈকরের পাড়া, জুমারবাড়ী, চিনির পটল, পালপাড়া, চকপাড়া, পবনতাইর, কুন্ডপাড়া, চান পাড়া, মিয়া পাড়াসহ প্রায় ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জুমারবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হাই জানান, স্লুইস গেট দেবে যাওয়ার ফলে এলাকায় পানি প্রবেশ করায় তার প্রায় ১৫ বিঘা জমির জন্য লাগানো বীজতলা ডুবে গেছে। ফলে এবার তার আর আমন ধান চাষ করা হবে না। ঘুড়দহ ইউনিয়নের চিনিরপটল গ্রামের কৃষক আ. গফুর জানান, হঠাৎ বন্যার পানি এসে তার ৭ বিঘা জমির পাট খেত তলিয়ে গেছে। ফলে চরম ক্ষতিতে পড়েছেন তিনি। হলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলায় প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক হাজার কৃষক। স্লুইস গেট দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ কারণে হুমকিতে পড়েছে হলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ত্রিতলা কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসা।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফিউজ্জামান ভূঁইয়া জানান, হলদিয়া ইউনিয়নের কানইপাড়া স্লুইস গেট ধসে যাওয়ার ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে তাতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের তালিকা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ত্রিতলা কানাইপাড়া দাখিল মাদ্রাসা ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


Spread the love