যশোরে ট্রেন ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে নারী-শিশুসহ ৫ জন নিহত : আহত ১

64
Spread the love

যশোর প্রতিনিধি : যশোর সদর উপজেলার মথুরাপুর-মানিকদিহি জামতলা রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও প্রাইভেটকারের মধ্যে সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ৫ জন নিহত ও ১ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, যশোরের কেশবপুর উপজেলার খতিয়াখালী গ্রামের জয়া রাণী দাস (৫৫), সদর উপজেলার তীরেরহাট গ্রামের নিত্যরঞ্জন দাসের ছেলে চয়ন দাস (১২), কেশবপুরের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সমতা ওয়ার্ল্ড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও পাচারইল গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে রেজাউল ইসলাম (৩৮) তার গাড়ি চালক উপজেলার বাইশা গ্রামের আব্দুল হাকিম (৩২) ও খতিয়াখালি গ্রামের সুব্রত দাসের ছেলে বাঁধন দাস (১৮)। আহত হয়েছেন, নিত্যরঞ্জন দাসের স্ত্রী দিপিকা রাণী দাস (৩৫)। প্রত্যক্ষদর্শী সদর উপজেলার তিরেরহাট গ্রামের কামরুল ইসলাম জানান, যশোর-ঝিনাইদহ সড়ক থেকে নেমে এসে ছোট সড়কের এই রেলক্রসিংয়ে প্রাইভেটকারটি উঠে পড়লে দ্রুতগামী ট্রেনটি এসে কারে ধাক্কা দেয়। এ সময় ট্রেনটি গাড়িটিকে প্রায় ১শ’ গজ ঠেলে নিয়ে যাওয়ার পর এটি ছিটকে ট্রেনলাইনের পাশে পড়ে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে কামরুল তার গাড়িতে করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সদর উপজেলার তীরেরহাট গ্রামের চিত্তরঞ্জন দাস জানান, তার বৌদি দিপিকা রাণী পিতার বাড়ি কেশবপুরের খতিয়াখালী গ্রাম থেকে শ্বশুর বাড়ি সদর উপজেলার তীরেরহাট গ্রামে যাচ্ছিলেন। সাথে তার মা জয়া রাণী, ছেলে চয়ন, ভাইয়ের ছেলে বাঁধন এবং একই এলাকার রেজাউল ইসলাম রাজু নামে এক ব্যক্তি ও গাড়ি চালক ছিলেন। দুর্ঘটনায় দিপিকা রাণীর মা জয়া ও ছেলে চয়ন নিহত এবং দিপিকা ও তার ভাইয়ের ছেলে বাঁধন আহত হন। এছাড়া একই এলাকার রাজু ও গাড়ি চালক আব্দুল হাকিমও নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে নিহত জয়া রাণীর লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাকী দু’জনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বাঁধনকে বিকেল ৩টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে ফুলতলার কাছে বাঁধন মারা যায় বলে জানান তার আত্মীয় যশোর জেলা যুবমৈত্রীর সভাপতি অনুপ কুমার পিন্টু। নিহত রেজাউল ইসলাম রাজুর ভগ্নিপতি কিরণ খান জানান, তার শ্যালক রেজাউল কেশবপুরের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সমতা ওয়ার্ল্ড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক। তিনি অফিসের কাজে যশোরে আসছিলেন। তার গাড়ির চালক আবদুল হাকিমের পূর্ব পরিচিত জয়া রাণী দাসসহ ৪ জনের সঙ্গে দেখা হয়। তারা জানায় যশোরে যাবে। এরপর তাদেরকে প্রাইভেটকারে তোলা হয়। তারা জয়া রাণী দাসের জামাই বাড়ি সদর উপজেলার তীরেরহাটে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে গাড়িটি ট্রেনের সাথে দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে এসে লাশ সনাক্ত করেছেন। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক কল্লে¬াল সাহা বলেন, হাসপাতালে আনার পর তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। আহত দু’জনের মধ্যে একজনের চিকিৎসা চলছে ও অপরজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যশোর রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। এটি সদর উপজেলার মথুরাপুর-মানিকদিহি রেলক্রসিংয়ে সকাল ১০টার দিকে পৌঁছালে ক্রসিংয়ে উঠে পড়া একটি প্রাইভেট কারকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এই ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান নেই। যশোর কোতোয়ালী থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন জানান, সদর উপজেলার তীরেরহাট মথুরাপুর রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে কয়েকজন হতাহত হবার খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে।


Spread the love