যশোর কারাগারে প্রস্তুতি সম্পন্ন : কাজী আরেফের হত্যাকারীদের ফাঁসি আজ রাতে

82
Spread the love

bd 0যশোর প্রতিনিধি : মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা কাজী আরেফ আহমেদ হত্যা মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির রায় আজ বৃহস্পতিবার রাতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে কার্যকর হবে। যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  যাদের ফাঁসি কার্যকর হবে তারা হলেন কুষ্টিয়ার মীরপুর উপজেলার রাজনগর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে সাফায়েত হোসেন হাবিব, একই উপজেলার কুর্শা গ্রামের মৃত উম্মতের ছেলে আনোয়ার  হোসেন ও আবুল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু। যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে তিনিসহ জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের কাছে কারা কর্তৃপক্ষ চিঠি পাঠিয়েছেন। রাত ১১টা ১ মিনিটে, ১১টা ৩০ মিনিট ও রাত ১২টা ১ মিনিটে তিনজনের ফাঁসি হবে। ইতিমধ্যে কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসির রায় কার্যকরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। ফাঁসির রায় কার্যকরকে কেন্দ্র করে যেন কোন সমস্যা না হয়, সেজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ায় জাসদের একটি সমাবেশে দুর্বৃত্তরা ব্রাশ ফায়ার করলে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কাজী আরেফসহ ৫জন নিহত হন। ঘটনার পরদিন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার এসআই মোহাম্মদ ইসহাক আলী বাদী হয়ে ২৯জনের নামে একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে আদালত ২৫জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। মামলার বিচার শেষে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত দায়রা জজ ২০০৪ সালের ৩০ আগস্ট ১০ আসামিকে ফাঁসি ও ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেন। বিচারিক আদালতে মৃত্যুদ-াদেশ পাওয়া ১০ আসামি হলেন ইলিয়াস, রাশেদুল ইসলাম ওরফে ঝন্টু, সাফায়েত হোসেন হাবিব, আনোয়ার হোসেন, শাহিরুদ্দিন, মান্নান মোল্লা, বাকের, রওশন, জাহান ও জালাল। এছাড়া যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্তরা হলো রাফাত ওরফে রাফা, গারেস, তাসিরুদ্দিন, আসগর জোয়ারদার, নজরুল ইসলাম, ওয়ালিউর রহমান, একুব্বার, টিক্কা ওরফে জব্বার, লাবলু, ফিরোজ ওরফে ফরু, লাল্টু ওরফে নুরুজ্জামান।
২০০৮ সালের ৫ আগস্ট দন্ডিতরা হাইকোর্টে আপীল করে। আপিলের রায়ে হাইকোর্ট যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের দ- থেকে খালাস দেওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুদ-প্রাপ্ত শাহিরুদ্দিনকেও খালাস দিয়ে  দেয়। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত বাকি ৯ আসামির দ- কার্যকরের অনুমতি দেয় হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিলের আবেদন করে। অন্যদিকে মৃত্যুদ-াদেশ বহাল থাকায় ইলিয়াস হোসেন, রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু ও আনোয়ার হোসেন হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে। ২০১১ সালের ৬ আগস্ট আপিলের রায়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখা হয়। ফলে ইলিয়াস, রাশেদুল ও আনোয়ারের মৃত্যুদ-াদেশও বহাল থাকে। এর মধ্যে আনোয়ার হোসেন ও রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করে। রিভিউ আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে তা খারিজ করা হয়। এদিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র সুপার শাজাহান আহমেদ জানিয়েছেন, রায় কার্যকরের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে তাদের রায় কার্যকর করা হবে। এদিকে কারাগারে একটি সূত্র জানিয়েছে, বুধবার বিকেলে জেল সুপার, জেলরসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফাঁসির মঞ্চের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন। ফাঁসি কার্যকরের জন্য সকল কাজ শেষ করতে
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ফাঁসির দন্ডে দন্ডিত ৯ আসামির মধ্যে ৫জন শুরু থেকেই পলাতক রয়েছে। এছাড়া আটক চারজনের মাধ্যে ইলিয়াস হোসেন কারাগারেই মারা গেছে। অন্য তিনজনের ফাঁসির রায় কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে।

 


Spread the love