যোগাযোগের মাধ্যম এখন বাঁশের সাঁকো

143
Spread the love

08উত্তম কুমার হাওলাদার পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভাগ্য আর দুর্দশা যেন পিছু ছাড়ছেনা। ওই ইউনিয়নের চারিপাড়াসহ কয়েকটি পয়েন্টের ভাঙ্গা বেড়িবাঁধের অংশ দিয়ে দফায় দফায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করে তলিয়ে যায় গ্রামের পর গ্রাম। এরফলে ওই ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও লোহার ব্রিজ বিধ্বস্ত হয়। সংস্কার কিংবা মেরামত না করায় গ্রামবাসীরা নিজ উদ্যোগে সাঁেকা তৈরি করে যোগাযোগ রক্ষা করছে। এদিকে ওইসব সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন শত শত লোকজন সহ স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূঁর্নিমার প্রভাব ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারনে বঙ্গোপসাগর ও বিভিন্ন নদীর পানি ফুলে ফেপে উঠেছে। বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে প্রতিদিন দুই দফা হু হু করে জোয়ারের পানি ঢুকে পরছে চারিপাড়া, পশরবুনিয়া, বানাতিপাড়া, ১১ নংহাওলা ও ধঞ্জুপাড়া গ্রামের ভিতর। ফলে দ্রæত লোনা পানিতে তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট, কৃষকের ক্ষেত, বাড়ির আঙ্গিনা, পুকুর ও মাছের ঘের। এ কারনে ওই ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাটের বেহালদশা হয়ে পরেছে। জোয়ারের পানির তোরে ভেঙ্গে গেছে লোহার ব্রিজ ও কালভার্ট। ভেঙে যাওয়া অংশে বাঁশের সাঁকো ও গাছের গুঁড়ি ফেলে ঝুঁকির মধ্যে কোমলমতি স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ সকলে চলাচল করছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে লবনপানি ঢুকে প্লাবিত হয়ে যায় ইউনিয়নের বেশীরভাগ আবাদী জমি। রামনাবাদ নদীর কোল ঘেসে বসবাস করা পরিবার গুলোকে এভাবে জোয়ার-ভাটার সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়।
স্থানীয় গৃহবধূ রুমি বেগম বলেন, অমাবস্যা-পূঁর্ণিমা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্য়োগ দেখা দিলে গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। জোয়ারের পানির চাপে রাস্তাগুলো ভেঙ্গে গেছে।
চারিপাড়া গ্রামের কৃষক মন্নান হাওলাদার বলেন, প্রতিদিন নড়বড়ে সাঁকো পার হয়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে। এছাড়া জোয়ারের পানিতে রাস্তা ঘাট তলিয়ে থাকায় যোগাযোগ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পরেছে। কিছু কিছু স্থানে আমরা নিজেরা বাঁশ ও গাছ দিয়ে সাঁকো তৈরি করেছি।
ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর তারিকুজ্জামার তারা জানান, জোয়ার-ভাটাই এ ইউনিয়নের মানুষের নিত্য দিনের সঙ্গী। বিধস্ত বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় রাস্তাঘাটসহ কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া ভাঙ্গা ব্রিজ ও কালভার্ট গুলোতে বাঁশের সাঁকো ও গাছের গুড়ি ফেলে মানুষ চলাচল করছে। তবে বিষয়টি উপজেলা পরিষদকে জানান হয়েছে।


Spread the love