রাজশাহীতে জলবায়ু পরিবর্তনে বন্ধ হচ্ছে মুরগির খামার

209
Spread the love

নাজিম হাসান,রাজশাহী থেকে : রাজশাহীতে গরমকালে তীব্র গরম ও শীতকালে তীব্র শীত প্রড়ছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। আবাহাওয়াবিদরা একে বলছেন, জলবায়ুর পরিবতনের ফল। পরিবেশের পাশাপাশি এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে এ অঞ্চলের কৃষিতেও। বিশেষ করে ঝুঁকিতে রয়েছে এ অঞ্চলের পোলট্রি শিল্প। অব্যহত লোকসানে গত ছয় মাসে বন্ধ হয়ে গেছে ২ হাজার ১১৩টি খামার। বছর পাঁচেকের মধ্যে বন্ধ হয়েছে ছোটবড় মিলিয়ে অন্তত ১০ হাজার খামার। রাজশাহী আবহাওয়া অফিস বলছে, গত সোমবার রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বোনিম্ন তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকা আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসেবে, ডিসেম্বরজুড়েই রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাবে। ডিসেম্বরের শেষার্ধে তাপমাত্রা নামবে ১০ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে সবচেয়ে বেশী শীত অনুভূত হবে আগামী জানুয়ারীতে। ওইসময় এ অঞ্চলের তাপমাত্রা নামবে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে। গত কয়েক বছর ধরেই তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে রাজশাহী অঞ্চলে। অন্য দিকে খরা মৌসুমে তাপমাত্রার পারদ চড়ছে। গিয়ে ঠেকছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। বছরের ছয় মাস এমন চরম পরিস্থিতি দারুণভাবে ভোগাচ্ছে এ অঞ্চলের পোলট্রি খামারীদের। শীত ও গরম এ দুই মৌসুমে নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মুরগি। বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগি আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। আর লেয়ারের কমে যাচ্ছে ডিম। প্রতি বছরই লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারিদের। এতে বাধ্য হয়ে অনেকেই বন্ধ করে দিচ্ছেন খামার। রাজশাহী নগরীর ছোটবনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মুনতাসীর রহমান শুভ। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষে জড়িয়ে ছিলেন পোলট্রি খামারে। ১৯৯৭সালে বাড়ির ঠিক পেছনে একখণ্ড জমিতে টিনের চালা আর বাঁশের বেড়া ঘিরে তৈরি করেন স্বপ্নের খামার। ভালোই চলছিলো খামার তার। পরের পনেরো বছর টানা লাভ করেছেন তিনি। কিন্তু শেষ কয়েক বছরের লোকসানে খেই হারিয়ে ফেলেন। ঋণে দাঁড়ানো ব্যবসা হয়ে পড়ে টালমাটাল। খামার গুটিয়ে নিয়ে এখন বেকার স্বপ্নবাজ এ মানুষটি। তার অভিজ্ঞতায়, শীতকালে প্রচন্ড ঠান্ডা এবং খরায় প্রচন্ড গরম পড়ছে। এছাড়া শীতের রোগ হচ্ছে গরমে, গরমের রোগ ছড়াচ্ছে শীতকালে। রোগে মুরগি সাবাড় হচ্ছে। যে গুলো টেকানো যাচ্ছে কোনমতে সেগুলো ডিম দিচ্ছেনা। থমকে যাচ্ছে বৃদ্ধি। ওষুধ কিনতে কিনতে পুঁজি শেষ। দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা দিয়ে ফল হচ্ছেনা। জেলার মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট এলাকার খামারি মশিউর রহমান, তিনি প্রায় ৫ বছর ধরে মুরগি খামার করছেন। শুরু দিকে ভালো লাভ হলেও এখন উল্টো চিত্র। বিশেষ করে মার্চ থেকে জুন এবং ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী এই সাত মাস মুরগি সুস্থ রাখায় কঠিন হয়ে পড়েছে। ঠাণ্ডা থেকে গরম আবার গরম থেকে ঠাণ্ডা-এই হচ্ছে আবহাওয়া। একটু বেশি গরম বা ঠাণ্ডা পেলেও অসুখ হয়ে মারা যাচ্ছে মুরগি। আর কী অসুখ হচ্ছে তাও ঠিক মতো বলতে পারছেন না চিকিৎসকরা। বাধ্য হয়ে তাই খামার গুটিয়ে নিচ্ছেন অনেকেই।


Spread the love