রাজশাহীতে নিজের পোশাক খোলার হুমকি দিয়ে হিজড়াদের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

56
Spread the love

raj-pic-1নাজিম হাসান,রাজশাহী : ঈদকে ঘিরে রাজশাহী মহানগরীতে বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে মেতে উঠেছে হিজড়ারা। শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানগুলোতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের চাঁদাবাজি। আর চাঁদা না দিলে দলবদ্ধ হিজড়াদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরবাসী। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদকে ঘিরে হিজড়াদের তৎপরতা যেমন বেড়েছে তেমনি তাদের দাবির পরিমাণও বেড়েছে। আগে তারা ১০-২০ টাকায় তুষ্ট হলেও এখন দোকান প্রতি কমপক্ষে ৫০ টাকা আদায় করছে। কখনো কখনো তা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে জোর করে। আর টাকা দিতে রাজি না হলে নানা ধরনের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিসহ কখনো কখনো নিজেদের পোশাকও খুলে ফেলছে। তাই বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে ব্যবসায়ীরা হিজড়াদের টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। নগরীর কুমারপাড়া এলাকার একজন ব্যবসায়ী জানান, শুক্রবার বিকেলে পিন্টু নামে এক হিজড়ার নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল এ এলাকায় চাঁদাবাজি করে। এ সময় কোনো ব্যবসায়ী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। আলুপট্টি মোড়ের আরেক ইফতার ব্যবসায়ী জানান, শুক্রবার ইফতারের আগ মুহূর্তে কয়েকজন হিজড়া তার দে তিনি টাকা দিতে রাজি না হলে কয়েকজন হিজড়া তাকে লাঞ্ছিত করে। নগরীর সাহেববাজারে ইফতারি কিনতে আসা শেখ জুলমত াকানে গিয়ে চাঁদা দাবি করে। এ সময় তাদের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির কারণে ইফতারি কিনতে যাওয়া লোকজন দ্রুত দোকান ত্যাগ করেন। এতে তার ব্যবসা লাটে ওঠে। সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকার আরেক ব্যবসায়ী জানান, হিজড়ারা তার দোকানে গিয়ে ৫০০ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি ১০০ টাকা দিতে রাজি হন। কিন্তু তারা আরও ১০০ টাকা দাবি করে। আলী (৫০) বলেন, রমজান মাসের মধ্যে হিজড়াদের অশ্লীলতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মনে হচ্ছে, এলাকার সন্ত্রাসীদের থেকেও হিজড়াদের দাপট বেশি। এদের চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও রাজপাড়া জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) ইফতেখায়ের আলম বলেন, হিজড়াদের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি থানার পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। পুলিশ বিষয়টি দেখছে। এছাড়া কোথাও কোনো ব্যক্তি হিজড়াদের কাছে হয়রানির শিকার হলে খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সহায়তা করা হচ্ছে। তবে নগরবাসী বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, পুলিশের চোখের সামনে হিজড়ারা বেপরোয়াভাবে চাঁদা আদায় করে যাচ্ছে। কখনো কখনো থানা মোড়গুলোর সামনেই চলছে চাঁদাবাজি। এরপরেও নীরব দর্শকের ভূমিকায় পুলিশ।


Spread the love