রাজশাহীতে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আলু চাষ

205
Spread the love

নাজিম হাসান,রাজশাহী : আলুর জন্য পরিচিতি এখন রাজশাহী। যেদিকে চোখ যায় দেখা যায় কেবল সারি সারি সবুজ ছোট্ট গাছ। সকালে গেলে দেখা যাবে সেসব গাছ থেকে গড়িয়ে পড়ছে বিন্দু বিন্দু শিশির। গ্রামের মেঠোপথ বা কাঁচা-পাকা যে পথ ধরেই চলুন না কেন, এমন দৃশ্য চোখে পড়বেই। আর এই ছোট্ট গাছগুলোই হচ্ছে আলু গাছ। চলতি রবিশস্য মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে চাষ করা হয়েছে আলু। রাজশাহীতে রবি মৌসুমে গ্রামীণ জনপদের কৃষকরা ডায়মন্ড, লালপাকরী ও দেশী জাতের আলু লাগিয়েছেন। যথা সময়ে আলু ঘরে তুলতে পাড়লে এবং চাহিদা ও বাজার মূল্য ভাল থাকলে বন্যার অতীতের সব মৌসুমকে ছাড়িয়ে এবারে গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এতে করে যেমন চাষিরা বেধেছেন আশার আলো। অপেক্ষা করতে হবে আলু উত্তোলন পর্যন্ত। এলাকার কৃষকরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধান কাটা মাত্রই পড়ে আলু লাগানোর হিড়িক। উপজেলার এমন কোন ধানী জমির মাঠ নেই যে সেখানে আলু চাষ হচ্ছে না। গত বছর আলু রাজশাহীর কৃষকদের ভাগ্য বদল করেছে যেমন একদিকে তেমনি ভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে অনেকেই। তারপরেও থেমে থাকেননি কৃষকরা। লাভের আশায় প্রায় কৃষকরা আলু চাষে ঝুকে পড়েছেন। শীতের রাত জেগে বিরামহীন পরিশ্রম করছেন চাষিরা। প্রচন্ড শীতে রাত জেগে আলু জমিতে দিচ্ছেন পানির সেচ। বেশীর ভাগ জমিতে আলু রোপন হয়ে গেছে। অল্প সামান্য পরিমাণ জমি হয়তোবা আছে বাকী। আমন ধান কাটার সাথে সাথে ট্রাক্টর নামিয়ে দ্রুত চাষ দিয়ে আলু রোপন করে ফেলেছেন চাষিরা। গুবিরপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক হান্নান জানান, গত বছরে দেড় বিঘা জমিতে আলু চাষ করে মোটামুটি লাভ পেয়েছিলাম। এবারে লাভের আশায় আড়াই বিঘা জমিতে আলু চাষ করছি। কালনা গ্রামের কৃষাণী শারমিন জানান, জীবনের প্রথম ঋণ নিয়ে জমি টেন্ডারে আড়াই বিঘা জমিতে আলু চাষ করছি। কিন্তু আছি শঙ্কায়। কারণ হিসেবে জানান, যে হারে আলু চাষ হয়েছে কি যে হয় আল্লাহ ভরসা। গুবিরপাড়া গ্রামের অন্যতম চাষি হালিম যিনি সব রকমের চাষাবাদ করে থাকেন। হালিম গত বছর ২৮ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। এবারে কমিয়ে ১৮ বিঘাতে আলু চাষ করেছেন। বাকী জমিতে অন্য সবজির চাষাবাদ করেছেন বলে জানান তিনি। একই গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান গত বছর ২০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করলেও এবারে বাড়িয়ে ৩৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করছেন। তার ভাই মনি জীবনের প্রথম ৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে জানান, যে হারে আলু চাষ হয়েছে এক প্রকার শঙ্কা কাজ করছে ভিতরে। আরেক চাষি কাবুল গত বছর ৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে লাভ ভাল পাওয়ায় এবারে তিনি ৮ বিঘা জমিতে আলু চাষ করছেন। সিন্দুকাই গ্রামে মাসুদ জানান, এবারে ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করছি। গতবার ৫ থেকে ৬ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে মোটামুটি লাভ পেয়েছিলাম। সে আশায় এবারে কিছু বাড়তি জমিতে আলুর আবাদ করেছি। তানোরে বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, অনেক চাষির জমিতে গজিয়ে উঠেছে আলুর সবুজ গাছ আবার অনেকে আলু রোপন করে প্রথমবারের মতো দিচ্ছেন সেচ। যাদের জমিতে গাছ বেরিয়েছে তারা পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে আছেন। এছাড়াও চাপড়া গ্রামের চাষি আফজাল গত বছর ২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করলেও এবারে তিনি দেড় বিঘা জমিতে আলু চাষ করছেন। একই এলাকার সাইদুল গত বছর ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করলেও এবারে বাড়িয়ে ১২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করছেন বলে জানান তিনি। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে আলু চাষ হয়েছিল ৮ হাজার হেক্টর জমিতে। এবার বেড়ে দাড়িয়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হচ্ছে। যা তানোরের ইতিহাসে কখনো এ পরিমাণ আলু চাষ হয়নি। কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকার জন্যে সঠিক সময়ে চাষিরা আলু রোপন করতে পেরেছেন। আশা করছি যতই আলু চাষ হোক কৃষকদের লস হবেনা। তবে যাহা হিমাগারে রাখতে পারবেন তারা বেশী লাভ পেতে পারেন বলে জানান তিনি। #


Spread the love