রামডাকুয়া ব্রিজ বন্যায় ভেসে যাওয়া মেরামত না করায় ২০ গ্রামবাসীর দুর্ভোগে

75
Spread the love

4ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধি : সুন্দরগঞ্জ পৌর শহরের রামডাকুয়া ব্রিজ গত বছর বন্যায় ভেসে যায়। এক বছরেও মেরামত না করায় ২০ গ্রামবাসি দুর্ভোগে পড়েছেন।
সাবেক এমপি ডা. কর্নেল আব্দুল কাদের খান নিজ অর্থায়নে ইঞ্জিনিয়ারিং প্ল্যান স্টিমেট ছাড়াই ২০০৯ সালে তিস্তার শাখা নদী রামডাকুয়ার উপর ব্রিজটি নির্মাণ করেন। নির্মাণের পর থেকেই অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করে আসছিলো উপজেলার বেলকা, হরিপুর, তারাপুর ও পাশ্ববর্তি উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের ২০ গ্রামবাসি।
উপজেলা শহরের সাথে ওইসব ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র রুট হচ্ছে এটি। প্রতিদিন ওইসব ইউনিয়নের খোর্দ্দার চর, চর খোর্দ্দা, বেকরির চর, পঞ্চানন্দ চর, শ্যামরায়ের পাঠ, বজরা চর, চর চরিতা বাড়ি, টাবুর চর, রামডাকুয়ার চর, পাড়া সাদুয়ার চর, মাদারি পাড়ার চর, রিয়াজ মিয়ার চর, রহমতের চর, মহিষবান্ধির চরসহ ২০টি চরাঞ্চলের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীসহ ১০ হাজার লোকজন ওই পথে যাতায়াত করে থাকেন। গত কয়েক দিনে অবিরাম বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তার পানি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় রামডাকুয়া ব্রিজের নিচে ১৫ হতে ২০ ফিট পানি জমে যায়।  গত বছর বন্যায় ব্রিজটি ভেসে যাওয়ার পর পৌর প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন স্থানটি পরিদর্শন করলেও দীর্ঘ এক বছরেও সেটি মেরামতের কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।  তালুক বেলকা চরের ভ্যান চালক শহিদুল ইসলাম জানান, ব্রিজটি না থাকায় দীর্ঘদিন থেকে ভ্যান চালিয়ে বাড়িতে যেতে পারছি না। দিনভর ভ্যান চালিয়ে রাতে গ্যারেজে ভ্যান ভাড়া রেখে বাড়িতে ফিরতে হচ্ছে। যার কারণে প্রতিদিনের রোজগারের কিছু অংশ গ্যারেজ ভাড়া দিতে হয়। কিশামত সদর চরের ব্যবসায়ি সাজু মিয়া জানান, শুকনা মৌসুমে পায়ে হেঁটে ঘাড়ে করে এবং ভ্যান যোগে বিভিন্ন প্রকার তরি-তরকারি নিয়ে উপজেলা শহরের যাওয়া-আসা করা যেত। বর্তমানে তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় তা হচ্ছে না। এ জন্য নৌকায় করে বাড়তি ভাড়া দিয়ে মালামাল পারাপার করতে হচ্ছে। চরাঞ্চলবাসির স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে ব্রিজটি নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন।শ্যামরায়ের পাঠ চরের ডি.ডব্লিউ ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন সাইকেল নিয়ে বিনা পয়সায় কলেজে যাওয়া আসা করতাম। কিন্তু বর্তমানে নৌকা যোগে পারাপারের কারণে ১০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে প্রতিদিন এভাবে ১০ টাকা করে দেয়া অত্যন্ত কষ্টকর। তাই আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই অতি দ্রুত যেন ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়।
পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জানান, ব্রিজটি মেরামত ও নির্মাণের মত অর্থ পৌর সভায় নেই। যার কারণে পৌর অর্থায়ানে এটি নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা বিষয়টি স্থানিয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।
উপজেলা প্রকৌশলি আবুল মনছুর জানান, ব্রিজটির একটি খসড়া তালিকা জেলা অফিসে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হাবিবুল আলম জানান, রামডাকুয়া ব্রিজটি নির্মাণ এবং মেরামতের জন্য বহুবার জেলা প্রশাসকের নিকট চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন প্রকার ব্যবস্থা গৃহিত হয়নি।


Spread the love