রায় শিগগিরই কারাগারে যাবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

75
Spread the love

bd 4স্টাফ রিপোর্টার : অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসির সাজা পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় শিগগির পাওয়া যাবে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আজ সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের রিভিউ আবেদন খারিজের সংক্ষিপ্ত রায়ের কপির জন্য আরজি জানান তিনি। এই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেন, সংক্ষিপ্ত রায়ের কপির প্রয়োজন হবে না। যত দ্রুত সম্ভব পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হবে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণের পর বেরিয়ে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “বুধবার দুটি রিভিউ আবেদনই খারিজ হয়ে গেছে। ওইদিন আমি আদালতে উল্লেখ করেছিলাম, শর্ট অর্ডার যাতে দেওয়া হয়, আইনের পরিভাষায় অ্যাডভান্সড অর্ডার। তখন আমাকে আদালত থেকে বলা হল- দরকার হবে না। যেহেতু কোনো স্থগিতাদেশ নেই।” উদাহরণ হিসেবে কাদের মোল্লার রায়ের পরের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, যখন মৃত্যুপরোয়ানা কারাগারে যাবে, তখন থেকে রাষ্ট্র যে কোনো তারিখ নির্ধারণ করতে পারবে বলে ওই রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। “যদি এর মধ্যে রিভিউ পিটিশন ও মার্সি পিটিশন করা হয়, তখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু গতকাল রিভিউ পিটিশন খারিজ হয়ে গেছে, কোনো স্থগিতাদেশও নেই, সুতরাং এটা কার্যকর করতে কোনোরকম অসুবিধা নেই। “তারপরও যেহেতু জেল কর্তৃপক্ষ আবার লিখিত আদেশের উল্লেখ করেছে, সেজন্য আজ আমি আবার আদালতে এটি উল্লেখ করেছিলাম। আদালত আজকে আমাকে বলেছেন, এটার দরকার হবে না। তাতে আমি ইঙ্গিত বুঝতে পারছি যে, অতি শিগগিরই আমরা মূল রায়টা অথবা একটি আদেশ পেয়ে যাব।” এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কারা কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে রায়ের বিষয়টি জানাতে পারেন। অথবা আদালত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করলে তা নিয়ম অনুযায়ী কারাগারে চলে যাবে। “কাদের মোল্লার রিভিউ খারিজ হয়েছিল। এর এক বছর পর রিভিউয়ের পূর্ণাঙ্গ রায় আমরা পেয়েছি। কিন্তু রায় ঘোষণার পর সেদিনই একটি শর্ট অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। “আমার কথা হল- কাদের মোল্লার পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য কিন্তু অপেক্ষা করতে হয়নি। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ একটি ইনটিমেশন (অবহিতকরণ) চায়। তারা ইনটিমেশন চায় যে, রিভিউ পিটিশনটা খারিজ হয়ে গেছে। এটা আমারা আশা করছি, তবে অতি শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ রায় পেয়ে যাব।” বুধবার রিভিউ খারিজের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন তারা কেবল কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। এর আগে যুদ্ধাপরাধ মামলার দুই আসামির দণ্ড কার্যকরের নজির থেকে দেখা গেছে, লিখিত রায় পাওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ ফাঁসির আসামিকে তা পড়ে শোনায়। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়- তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না। অবশ্য যুদ্ধাপরাধ আইনে দণ্ডিতরা অন্য মামলার আসামিদের মতো প্রাণভিক্ষার জন্য কারা বিধিতে নির্ধারিত সাত দিন সময় পাবেন না। তবে সিদ্ধান্ত জানাতে তারা কতদিন সময় পাবেন সে বিষয়েও আইনে স্পষ্ট কিছু বলা নেই। এর আগে আরেক জামায়াত নেতা মো. কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরের আগে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, প্রাণভিক্ষা চাওয়ার জন্য আসামি ‘যৌক্তিক সময়’ পাবেন। আর যৌক্তিক সময়ের ব্যাখ্যায় তিনি বলেছিলেন, একটি দরখাস্ত লিখতে যে সময় লাগে- ‘যৌক্তিক সময়’ তার চেয়ে বেশি হওয়া উচিৎ নয়। আসামি তা না চাইলে বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা না পেলে সরকার দিনক্ষণ ঠিক করে কারা কর্তৃপক্ষকে ফাঁসি কার্যকরের নির্দেশ দেবে। তার আগে স্বজনেরা তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারবেন। এর আগে যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লা ও মো. কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন একদিনের মধ্যে শুনানি শেষে খারিজ হয়ে গিয়েছিল। তারা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা চাননি বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরে তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝোলানো হয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লাকে। আর চলতি বছর ১১ এপ্রিল জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে কারা কর্তৃপক্ষ।


Spread the love