লামায় বন্য হাতি হত্যার মহোৎসব চলছে

75
Spread the love

এস.কে খগেশপ্রতি চন্দ্র খোকন, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ বান্দরবানের লামায় বন্য হাতি হত্যার মহোৎসব চলছে। বন্যহাতি নিয়ন্ত্রনে লামায় সরকারের কোন ধরণের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় একের পর এক হাতি হত্যা করে হাতির দাঁত পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে একদল পাচার কারী চক্র। বহিরাগত হাতির দাত পাচারকারীরর সাথে এখন স্থানীয় একটি গ্রুপ ও সৃজিত বিভিন্ন রকমের ফলজ বনজ বাগান মালিকেরা মিলিত হয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে হাতির দাত পাচার কাজ এখন অপেন সিক্রেট। জানাগেছে, গত ২৫ আগষ্ট লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সানমারের বাগানে একটি বয়স্ক হাতির মস্তক বিহীন মৃতদেহ দেখতে পায়। এ সংবাদটি লামা বনবিভাগ ও প্রশাসনকে অবহিত করলেও পরবর্তীতে সংবাদটি গুজ বলে উড়িয়দেয় বনবিভাগ। এ ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় জল্পনা কল্পনা সরব থাকলেও অবশেষে গত ১লা সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে ১০ দিন পর গলাকাটা হাতিটির গলিত অবস্থায় পূনঃরায় সন্ধান পায় স্থানীয়রা লোকজন। অবশেষে ৩ সেপ্টম্বর লামা বনবিভাগ ও লামা থানার কুমারী পুলিশ ফাঁড়ী’র কর্তৃপক্ষ সানমার গ্রুপের রাবার বাগান থেকে মাটি চাপা অবস্থায় মস্ক বিহীন একটি হাতির মৃতদেহ উদ্ধার করে। দ্বিতীয়বার মস্কবিহীন হাতিটির সন্ধানের পর বন বিভাগ ও পুলিশকে উৎকোচ দিয়ে গুলি করে হাতি মারার ঘটনা ধামাচাপা দিতে ব্যর্থ হন সানমার রাবার প্লানটেশনের কর্তৃপক্ষ। বুধবার লামা ফাঁসিয়াখালীর হারগাজা এলাকায় সানমার নামের একটি রাবার বাগানে মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় মস্তক বিহীন গলিত হাতির লাশের হদিস পান গ্রামবাসিরা সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রায় ১০ দিন আগে সানমার রাবার বাগানের সুপারভাইজার একটি হাতিকে গুলি করে হত্যার পর মাথা কেটে দাঁত পাচার করেছেন বলে জানান স্থানীয়রা। সংবাদ কর্মীদের থেকে খবর পেয়ে ২৫ আগষ্ট মঙ্গলবার লামা বন বিভাগ ও কুমারী পুলিশ ফাঁড়ি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নাটকীয়তার আশ্রয় নিয়ে বিষয়টি গুজব বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এদিকে স্থানীয়রা মৃত হাতির দেহটির সন্ধান পেতে সন্দেহ প্রবন এলাকা অনুসন্ধান চালিয়ে ঘটনার ৮দিন পর ১লা সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে হাতির গলিত লাশ উদ্ধার করেন। মৃত হাতির লাশ চিহ্নিত করে হত্যাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তৎপর হন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসি জানান, সানমার রাবার বাগান মালিকপক্ষ বন বিভাগ ও পুলিশকে ৪ লাখ টাকা উৎকোচ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়। বিষয়টি নিয়ে সানমার রাবার প্লানটেশনের জেনারেল ম্যানাজার শফিক উদ্দিন মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, আমি চট্টগ্রাম অফিসে বসে কাজ করি। অনেক বড় বাগান হওয়ায় সর্ম্পূন্ন বাগান নজরদারিতে রাখা সম্ভব হয়না। হাতি মারার ঘটনাটি আমি বুধবার জানতে পারি। কে বা কারা হাতিটি মেরেছে তার সর্ম্পকে আমি অবগত নয়। এ ব্যাপারে লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মোবাইল ফোনে জানান, হাতির গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে হাতির হত্যাকারীদের আইনী আওতায় আনা হবে। উল্লেখ্য, লামা বন বিভাগের সূত্র মতে গত তিন বছরে লামা উপজেলায় ৯টি বন্য হাতি মারা হয় এবং হাতি অপমৃত্যুর বিষয়ে লামা বন বিভাগ শুধুমাত্র সাধারণ ডায়েরী করে দায়িত্ব শেষ করেছে বলে জানা যায়। বনবিভাগের এরকম দায়িত্বহীনতার কারণে লামায় বন্যহাতি হত্যার ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলেছে।


Spread the love