শামুক যখন সমস্যা

103
Spread the love

Snail 2আবুল বাশার মিরাজ,বাকৃবি থেকে : শামুকের সাথে কমবেশী আমরা সবাই পরিচিত। এটি প্রাণিজগতের মোলাস্কা (সড়ষষঁংপধ) পর্বের অন্তর্ভূক্ত। মরুভূমি, নদী ও ¯্রােতস্বিনী, বদ্ধ জলাশয়, জলাশয়, সমুদ্র উপকূল প্রভৃতি অনেক আবহাওয়াতে শামুকের দেখা পাওয়া যায়। তবে এর কোন কোন প্রজাতি মানুষ এবং উদ্ভিদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এ ধরনের প্রজাতির শামুকের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিচিত্র প্রজাতির এ শামুকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামূলক কৃষি ব্যবস্থাকে। সেই সাথে উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর  এ শামুকটি সারা দেশের কৃষি ও বাগান ব্যবস্থার উপর প্রভাব ফেলবে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, এবছর এই শামুক গাদা, জিনিয়া, সিলভিয়, বাগানবিলাস, কেকটাসসহ বিভিন্ন গাছের কচি পাতা খেয়ে ফেলছে। কোন গাছই কোনভাবে টিকানো যাচ্ছে না। এমনকি হলের নোটিশ বোর্ডে টানানো কাগজও খেয়ে ফেলছে। আর একবার কোন গাছ আক্রমণের শিকার হলে সে গাছকে বাচাঁনো যাচ্ছে না। শহীদ নাজমুল আহসান হলের বাগান মালিদের সাথে কথা বলে জানা প্রতিবছর শীতকে সামনে রেখে হলের সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য বিভিন্ন রকম ফুলের গাছ রোপন করে তারা।
শামুক সম্পর্কে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড.এম.এ সালাম জানান, এটি হচ্ছে আফ্রিকান জায়ান্ট ল্যান্ড ¯েœইল। বিদেশীদের আগমের সময় এটি হয়তো আমাদের দেশে এসে থাকবে। ২০০২ সালে শ্রীমঙ্গলে ব্রিটিশদের একটি রেস্টুরেন্টে আমি এটা প্রথম দেখতে পাই। ফসল ও বাগানের ক্ষতি করে বলে সে সময় তারা এদের ধরে ধরে পুড়িয়ে ফেলত কিংবা মেরে ফেলত। কিন্তু এরপর এদের তেমন আর দেখা যায়নি। এরা ফসলের জন্য খুব ক্ষতিকর। বাগান নষ্ট করে ফেলে। সন্ধ্যা হলেই ঝাকেঝাকে বের হয়ে আসে। আর দিনের বেলা অত্যাধিক সূর্যালোক থেকে বাচতে লুকিয়ে থাকে। অতি বৃষ্টির সময় এরা দালানের দেয়ালে বেয়ে উপরে উঠে আশ্রয় নেয়। এর মাংস খুবই শক্ত বিধায় পশু-পাখিরাও খেতে চায় না। আমাদের দেশীয় যে শামুক আছে সেটি উপকারী এবং তারা স্থলভূমিতে উঠে আসে না, বরং পানিতেই থাকে। কিন্তু এটি গাছপালা, লতাপাতা, ফলমূল খেয়ে ধ্বংস করে। এমনকি দিনের বেলা অনেক গাছের যেমন-পেঁপে মাথায় উঠে গাছের পাতা খেয়ে গাছ ধ্বংস করে। যা আমাদের দেশের কৃষির জন্য মারাতœক হুমকিস্বরূপ। এটা নিয়ে গবেষণাও করা যেতে পারে।
এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে কি করণীয় জানতে চাইলে ড. সালাম জানান, এটিকে স্বমূলে নির্মূলের জন্য এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং যেভাবেই হোক এর প্রজনন ও বৃদ্ধি প্রক্রিয়া নষ্ট করতে হবে। এর উপকারীতা বলতে কিছু নাই। একে ধ্বংস করার জন্য অনতিবিলম্বে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিতে হবে। অন্যথায় এটি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে যাবে। হুমকির মুখে পড়বে গোটা দেশের কৃষি ব্যবস্থা।


Spread the love