শিশু রাজন হত্যা : কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে

60
Spread the love

7891সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামকে সৌদি আরব থেকে নিয়ে এসেছে পুলিশ। অপরাধ সংগঠনের পর পালিয়ে যাওয়া এই বাংলাদেশিকে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বিচারের মুখোমুখি করতে ফেরত আনা হয়েছে। সৌদি আরবে পুলিশের হেফাজতে থাকা কামরুলকে আনতে গত সোমবার ভোরে রিয়াদে যান পুলিশ সদরের তিন কর্মকর্তা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে আসামিকে নিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তারা ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দরে নামেন বলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ রহমতউল্লা জানান। এবার বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম। সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরানোর পর তাকে রাতেই নেওয়া হয় সিলেটে। গত শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। এদিন কামরুলের ১৬৪ ধারা জবানবন্দী রেকর্ড করা হতে পারে। পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় কামরুলকে নিয়ে হজরত শাহজালাল (রঃ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান পুলিশের তিন কর্মকর্তা। সফররত পুলিশের এই দলের সদস্য সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিকেলে তারা সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেছেন বলে জানা যায়। সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি-প্রসিকিউশন) আব্দুল আহাদ চৌধুরী বলেন, সিলেটে আনার পর আদালতের মাধ্যমে কামরুলকে কারাগারে পাঠানো হবে। এছাড়া ধার্য তারিখে সাক্ষ্য দেবেন এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সুরঞ্জিত তালুকদার। ওই তারিখে কামরুলকেও আদালতে হাজির করা হবে বলেও জানান তিনি। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত সুপার মাহবুবুল করিম বলেন, ১২ জুলাই কামরুলকে সৌদির জেদ্দায় আটক করা হয়। প্রথমে তিনি কনস্যুলেটে ছিলেন। সর্বশেষ সৌদির রিয়াদ থানা থেকে পুলিশ তাকে বুঝে নিয়ে ঢাকায় এসেছে। এআইজি (গণমাধ্যম) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের কোনো বন্দী বিনিময় চুক্তি ছিল না। তারপরও আমরা তাকে আলোচনার ভিত্তিতে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনেছি। গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ তুলে খুঁটিতে বেঁধে ১৩ বছরের শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যার পর বিদেশে পালিয়ে যান কামরুল। রাজনকে নির্যাতনের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর সারাদেশে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তখন প্রবাসীদের সহায়তায় কামরুলকে আটক করে সৌদি পুলিশের হাতে তুলে দেন বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা। এরপর কামরুলকে ফেরাতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ পুলিশ, জারি করা হয় রেড নোটিশ। ওই দিন শিশু রাজনকে পেটানোয় কামরুলই বেশি সক্রিয় ছিল বলে ওই ঘটনার ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়। রাজন হত্যাকাণ্ডের বিচার ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে সিলেটের আদালতে। গত বুধবার পর্যন্ত এই মামলায় ২৯ জনের জবানবন্দী শুনেছে আদালত। ঘটনার দেড় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে গত ১৬ আগস্ট ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে আলোচিত এই হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। কামরুলকে নিয়ে এই মামলার আসামিদের মধ্যে ১১ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পলাতকদের মধ্যে কামরুলের ভাই সদর উপজেলার শেখপাড়ার বাসিন্দা শামীম আহমদের সঙ্গে পাভেল আহমদ নামে আরেকজন রয়েছেন। কামরুলের আরেক ভাই মুহিত আলম এই মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এআইজি নজরুল বলেন, ১৩ আসামির মধ্য ১১ জন গ্রেফতার হলেন। বাকি দু’জনকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক শামীম ও পাভেলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির পর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে।

Spread the love