শীতের শুরুতেই কক্সবাজারে জমে উঠেছে ভাপাপিঠা ও বিনি ভাতের বিকিকিনি

86
Spread the love

bd 5কক্সবাজার প্রতিনিধি : প্রকৃতিতে এখন শীতল হাওয়া বইছে। প্রকৃতির বুকে ডাকা পডে়ছে কুয়াশার ছাদর। এতে কক্সবাজারের সর্বত্রই ভাপাপিঠা বিক্রির ধুম পডে়ছে। পাশাপাশি চলছে বিনি চালের ভাত বিক্রিও। কক্সবাজার অঞ্চলের গ্রাম-শহর, অলি-গলি সবখানেই চলছে ঐতিহ্যবাহী এই পিঠা তৈরী ও বেচা-কেনার উৎসব। এই পিঠার স্বাদে ক্রেতারা মন রাঙ্গালেও, এটিই এখন এখানকার নিম্ন আযে়র অনেক মানুষের উপার্জনের একমাত্র হাতিয়ার। গরম গরম ভাপা পিঠা রাস্তার পাশে দাডি়যে় খেতে দেখা যায় স্কুল পড়–য়া থেকে সকল বয়সের মানুষকে। প্রকৃতির ওই চিত্র দেখে মনে হয় চুলার পাশে বসে মাযে়র হাতের পিঠে খাচ্ছে তারা। কুয়াশায় ঢাকা ভোরে এমন গরম গরম ভাপাপিঠা ও বিনি চালের ভাতের মজাই আলাদা। একদিকে ভাপাপিঠার স্বাদ গ্রহণ, অন্যদিকে চুলার আগুন আর জলীয়বাষ্পের উত্তাপ যেনো চাঙ্গা করে দেয় দেহ মন। কক্সবাজারের সর্বত্রই এখন এই পিঠা ও বিনি ভাত তৈরি এবং বেচাকেনার ধুম পডে়ছে। শীতকালে এ অঞ্চলের নিম্ন আযে়র অনেক মানুষই যুক্তহন এই পিঠা তৈরির সাথে। এ সময় এই পেশাই হযে় ওঠে তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।
স্থানীয়ভাবে এই পিঠাকে বলা হয় ধু-পিঠা। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পুরনো এক অনুষঙ্গ। চালের গুড়া ও নারকেলের সাথে খেজুরের গুড় মিশিযে় তৈরি হয় ঐতিহ্যবাহী এই ভাপা পিঠা। আকার ভেদে প্রতিটি পিঠা ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হযে় থাকে। আর বিনি চালের ভাত হচ্ছে আটালো তার উপর তিল ছডি়যে় দিযে় নারকেল ও খেজুরের গুড় মিশিযে় খেতে হয় ভাত। জানা যায়, এমন গরম গরম ভাপাপিঠা ও বিনি চালের ভাত বিক্রি কুয়াশায় ঢাকা ভোর থেকে শুরু হযে় সকাল ১০টা পর্যন্ত এবং বিকেল ৫টা থেকে শুরু হযে় চলে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে এর বিকিকিনি। মাঝে মধ্যে পিঠে খেতে এসে সিরিয়ালে দাডি়যে় অপেক্ষা করতে দেখা যায় পথচারীদের। লালদীঘির পাডে়র এক পিঠা বিক্রেতা জাকির জানান, প্রতি বছরই সে পৌষের প্রথম থেকেই শীতের পিঠা বিক্রি করে তার সংসার চলে। বর্তমানে খেজুরে গুরের অভাবে হারিযে় যেতে বসেছে আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের সেই ভাপা পিঠার উৎসব যা কিনা প্রচলন ছিল গ্রামের প্রতি বাডি় বাডি় অতিথি আপ্যায়নের প্রধান খাদ্যে।


Spread the love