সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত এএসআই ইব্রাহিমের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

95
Spread the love

44030_fবাগেরহাট প্রতিনিধি : রাজধানীর দারুস সালাম থানায় কর্মরত এএসআই মোঃ ইব্রাহিম মোল্ল¬া সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহতের খবরে তার নিজ এলাকা কচুয়ার রাঢিপাড়া ইউনিয়নের পালপাড়ায় চলছে শোকের মাতম। একমাত্র আয়ক্ষম সন্তানকে হারিয়ে বৃদ্ধ পিতা এখন নির্বাক। বৃদ্ধ মা আছিয়া বেগম সন্তান হারানোর শোকে প্রলাপ বকছেন। একমাত্র ভাইয়ের অকাল মৃত্যুর খবর শুনে বাবার বাড়িতে ছুটে এসেছেন ইব্রাহিমের বড় ৪ বোন জাহানারা, আনোয়ারা, মনোয়ারা ও হোসনেয়ারা বেগম। ভাইয়ের এমন মৃত্যু কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। তাদের একটাই কথা “ইব্রাহিম ছিলো আমাদের পরিবারের প্রদীপ। বৃদ্ধা বাবা-মাসহ অসহায় বোনদের আগলে রাখত ছোট ভাই ইব্রাহিম। নিহত ইব্রাহিমের অবুঝ শিশুদের কি হবে, ওরা কিভাবে বাঁচবে, ওগো কেডা মানুষ করবে” এমন আহাজারি চলছে গোটা পরিবারের। বৃদ্ধ বাবা আব্দুস সাত্তার মোল্ল¬ার ৫ কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের মধ্যে ইব্রাহিম মোল্ল¬া ছিলেন পঞ্চম। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পালপাড়া এলাকার এক প্রতিবেশির মাধ্যমে ইব্রাহিম নিহত হবার খবর তার পরিবারের কাছে পৌঁছে। গতকাল শুক্রবার সকালে তার বাড়িতে ছুটে আসেন এলাকাবাসী। এসময় নিহতের পরিবারের আহাজারিতে গোটা এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। অবতারণা হয় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের। প্রতিবেশিরা ইব্রাহিমের মা বোনদের সান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করছেন। বৃদ্ধা বাবা ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে নিয়ে ঘরের বারান্দায় অঝোরো কাঁদছেন। এক সময়ের কঠোর পরিশ্রমী কৃষক আব্দুস সত্তারের ছোখে মুখে শুধু হতাশার ছায়া। ঢাকায় অবস্থানরত ছোট মেয়ে পেয়ারা বেগমকে মাঝে মধ্যে মোবাইল করে তার আদরের ধন ইব্রাহিম কখন বাড়িতে আসবে তার নিচ্ছেন খোঁজ। জানা গেছে, পালপাড়া এলাকার ছোট বড় সকলের কাছেই ইব্রাহিম ছিল প্রিয়। অত্যন্ত সদালাপি ইব্রাহীম গত কোরবানির ঈদে স্ত্রী খায়রুন্নেছা বেগম, ৬ বছরের কন্যা জান্নাতি ও ২০ মাসের পুত্র সন্তান মোহাম্মদকে নিয়ে নিজ গ্রামে আসে। প্রিয় বাবা মা ও বোনদের নিয়ে একসাথে আনন্দে কেটেছিল তাদের ঈদ। সেই ইব্রাহিম এখন আর নেই এমন কথা ভাবতে পারছেনা তার পরিবার, বন্ধু, প্রতিবেশিরা। নিহতের সেজ বোন মনোয়ারা বেগম জানান, থানার কাছেই ৫ তলা ভাড়া বাসায় গত দেড় বছর ধরে সে বসবাস করে আসছে। বড় মেয়ে জান্নাতিকে এবার স্কুলে দিয়েছে। কনেস্টবল পদে পুলিশে যোগদানের পর বিভিন্ন থানায় কর্মরত থাকাকালীন সাহসিকতা ও সততার জন্য ইব্রাহিম পরবর্তিতে এলিট ফোর্স র‌্যাবে কিছুদিন কাজ করে। দক্ষতা ও সততার কারনেই সে এএসআই পদে পদোন্নতি পায়। পুলিশে চাকুরির পাশাপাশি গ্রামের উন্নয়নে অসহায় মানুষের পাশে থেকে সামাজিক কর্মকান্ডেও তার ছিল স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। তিনি জানান, ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার ছোট বোন পিয়ারা ও বোন জামাই মোঃ জামাল এখন ঢাকায় রয়েছেন। বেলা ১১টায় লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়। সেখানে তার ছোট বোন, ইব্রাহিমের স্ত্রী খায়রুন্নেছা বেগম তার সন্তানসহ পরিবারের অন্য লোকজন রয়েছে। নিহতের বৃদ্ধা পিতা বলেন, তিনি একমাত্র ছেলের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। জনগনের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে কর্মরত অবস্থায় তার ছেলে খুন হয়েছে। তিনি খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি ইব্রাহিমের শিশু কন্যা ও পুত্রের লেখাপড়াসহ সার্বিক দায়িত্ব নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।


Spread the love