সফলতা পেয়েছে কৃষক গাবতলীতে পার্চিং ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে

52
Spread the love

PIC GABTOLI 26.10.2015বগুড়া থেকে আল আমিন মন্ডল : রোপা আমন ধান ক্ষেতে ক্ষতিকারক পোকা নিধনে বগুড়া গাবতলীর কৃষকেরা পার্চিং ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছে। কৃষকদের জমিতে বিষের ব্যবহার কমেছে। ফলে দিনদিন কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হচ্ছে পার্চিং ও আলোক ফাঁদ। এ উপজেলার বিস্তীর্ন মাঠ জুড়ে এখন ধান ক্ষেতে সবুজের সমরোহ।
জানাযায়, চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানে ক্ষতিকারক পোকা নিধনে বিষের বিকল্প হিসাবে কৃষক ক্ষেতে পার্চিং হিসাবে জীবন্ত ধঞ্চে গাছ, ডালপালা ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। ফলে জমিগুলো থাকছে নিরাপদ। গাবতলী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহন করার পর সফলতা আশায় ধান ক্ষেতে এসব পদ্ধতি ব্যবহারে ঝুকে পড়েছেন উপজেলা কৃষকেরা। ধান ক্ষেতের প্রধান শত্রু ক্যারেন্ট মাজরা পোকা, গান্ধি ও চুঙ্গি পোকাসহ বাদামী ঘাস ফড়িং পোকা নিধনে কৃষকরা এলাকার ধান চাষের ৯৫ভাগ জমিতে পার্চিং ও আলোক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। পোকা মাকড়ের মারাত্মক আক্রমনের হাত থেকে ২টি পদ্ধতি ব্যবহার করে ধানের ক্ষেতগুলো নিরাপদ রাখা হয়েছে। গাবতলী উপজেলা কৃষি অফিসার আঃ জাঃ মুঃ আহসান শহীদ সরকার জানান, প্রতিটি আলোক ফাঁদ, জীবন্ত গাছ পার্চিং (ডালপালাপার্চিং) করে কৃষকরা সফলতা পেয়েছে। এদুইটি পদ্ধতি দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গাবতলী উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা জুলফিকার আলী হায়দার জানান, ধান ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকা মারতে কৃষকেরা এসব পদ্ধতি ব্যবহার করে ভাল ফল পেয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষীদের ধানের সর্বোচ্চ ফলন নিশ্চিত করতে আলোক ফাঁদ ও পার্চিং পদ্ধতি ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে দিতে চাষী পর্যায়ে নিয়মিত চাষী (কৃষক) সভা, কৃষক মাঠস্কুলে উঠান বৈঠক, মনিটরিং ও মাঠ দিবসসহ সকল তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহযোগীতা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জমিতে পোকা মাকড়ের উপস্থিতি জানার জন্য আলোক ফাঁদ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, জাহেদুর রহমান জাহিদ, সাহাদত হোসেন, মোছাঃ আখতার জাহান ও জান্নাতুন মহল তুলি জানান, কৃষকদের মাঝে এসব পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। ইতিমধ্যে গাবতলীর কৃষকরা সুফল পেতে শুরু করেছে। গাবতলী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা  মোঃ নাজমুল হক মন্ডল জানান, মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের আমরা আলোক ফাঁদ ও পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার সম্পকে পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করে আসচ্ছি। কৃষক এখন ধানের জন্য উপকারী ও ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় শনাক্ত করতে শিখেছে। কৃষকেরা পদ্ধতি ২টি ব্যবহার করে বালাইমুক্ত রাখছে ধান ক্ষেত। পদ্ধতিগুলো স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ তৈরীতে ভূমিকা রাখছে। এ মৌসুমে গাবতলীতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ১৮হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে। এবছরে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। ফলে গাবতলীতে আমন ধানের বাম্পার ফলন আশা করছেন কৃষি বিভাগ।


Spread the love