সাংবাদিক দীপংকর হত্যাকান্ড তদন্তেই কেটে গেল ১১ বছর

123
Spread the love

image_1761_220880শেরপুর বগুড়া প্রতিনিধি : আজ ২ অক্টোবর। এই দিনেই একদল আজানা দুর্বৃত্তের হাতে নির্মমভাবে খুন হন উত্তরাঞ্চলের খ্যাতিমান সাংবাদিক দীপংকর চক্রবর্তী। সেই থেকে দিনটিকে দেশের সাংবাদিক সমাজ কালো দিন হিসেবে পালন করে আসছে। হত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে সাংবাদিক সমাজ নানা কর্মসূচিও পালন করছেন। সাংবাদিক সমাজের সেই দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে তৎকালীন ও বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কর্ণধাররা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের কর্তারা একাধিকবার খুনিদের শনাক্তকরণ এবং গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দীর্ঘ ১১টি বছর পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিক দীপংকর হত্যাকা ের রহস্য ভেদ করতে পারেনি সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী। আজও তারা খুনিদের চিহ্নিত করতে পারেনি। ধরতেও পারেনি। কেবল সাংবাদিক দীপংকর হত্যার মামলার নথিপত্র থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, আদালতের আদেশে থানা পুলিশ হয়ে চতুর্থবারের মত আবারও মামলাটির তদন্তভার ডিবি পুলিশের একজন কর্মকর্তার উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এ অবস্থায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। সাংবাদিক সমাজও চরম ক্ষুব্ধ। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার এ হত্যাকান্ডের বিচারের দাবি জানিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফিরোজুল ইসলামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় প্রেসক্লাবের সভাপতি নিমাই ঘোষ, সাপ্তাহিক আজকের শেরপুর পত্রিকার সম্পাদক মুনসী সাইফুল বারী ডাবলু, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজিত বসাক, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম শফিক, আব্দুল মান্নান, বেলাল হোসেন, আইয়ুব আলী, শাহজামাল কামাল, আব্দুল আলীম, আল ইমরান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপিতে হত্যাকা ের সাথে জড়িত খুনিদের দ্রুত সনাক্ত করে গ্রেফতারপূর্বক বিচারের দাবি জানানো হয়।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি, দনিক দুর্জয় বাংলা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক, বগুড়ার শেরপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক দীপঙ্কর চক্রবর্তী তার কর্মস্থল বগুড়া থেকে বাড়ি ফেরার পথে ২০০৪ সালের ২ অক্টোবর গভীর রাতে শেরপুর পৌর শহরের স্যানালপাড়াস্থ বাসার সামনে অজ্ঞাত একদল দুর্বৃত্তের হাতে নির্মমভাবে খুন হন। নৃশংস ওই হত্যাকা ঘটিয়ে ঘাতকরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন তার বড় ছেলে পার্থ সারথী কারো নাম উল্লেখ না করে শেরপুর থানায় একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে হত্যাকা ের মাত্র ৩ মাসের মাথায় ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে মামলাটি চাঞ্চল্যকর হিসাবে সিআইডিতে প্রেরণ করা হয়। মামলা চলাকালে প্রথমে পুলিশ ও পরবর্তীতে সিআইডির একাধিক কর্মকর্তা নিহতের পরিবারের সাথে দেখা করেন। তারা ওই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও আশ্বাস দেন। কিন্তু তাদের দেয়া আশ্বাস আশ্বাসই থেকে গেছে। সর্বশেষ মামলাটি চতুর্থবারের মত পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পড়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক এসআই মজিবর রহমানের উপর। এই কর্মকর্তা জানান, ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি এই মামলার নথিপত্র বুঝে পান। তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তিনি এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই হত্যাকা ের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে এই কর্মকর্তা দাবি করেন। এদিকে সাংবাদিক দীপংকর হত্যার বিচারের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শেরপুর পেসক্লাবের উদ্যোগে দুইদিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় কালো ব্যাজ ধারণ, বেলা ১০টায় স্থানীয় বাসষ্ট্যান্ডে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে।


Spread the love