সিএবির নতুন প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি, সবখানে সচ্ছতার আশ্বাস

65
Spread the love

full_1734552039_1444990426প্রতিবেদক : সিএবির নতুন প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি, সবখানে সচ্ছতার আশ্বাস! বিশাল-বিশাল ফুলের মালাগুলো এগিয়ে আসছে একের পর এক। আর মিনিটে দু’বার ঘাড় নিচু করতে হচ্ছে তাকে। বড়-সেজো-মেজো-আধা কর্তাদের হাতে কারও পুষ্পস্তবক, কেউ হাজির সোজাসুজি মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে। ‘আর না প্লিজ’, ‘আরে, মালা-টালা পরা ছেড়ে দিয়েছি কত দিন’ এ জাতীয় কাকুতি-মিনতিতে লাভের লাভ শূন্য। কারণ কেউ শুনছেনই না। শোনার কোনও রকম ইচ্ছেও দেখাচ্ছেন না। ভিড়টা সময়ে পাতলা হল একটু, কিন্তু তাতে কী? উপস্থিত এ বার নতুন ভিড়, নতুন আবদার। মিডিয়ার ভিড়, আলোকচিত্রীদের আবদার। হুড়মুড় করে যা টেবলের উপর দিয়ে প্রায় ঘাড়ে উঠে আসতে চাইছে অদ্ভুত সব চাহিদা সমেত— ডালমিয়ার ফোনটা কানে নিয়ে একটা পোজ লাগবে… অভিষেকেরসঙ্গে দাঁড়ান না একটু প্লিজ! সন্ধে সোয়া পাঁচটা এখন। এটা, সিএবি-র দোতলার কোনাকুনি বিখ্যাত সেই ঘর। প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়ার ঘর। যেখানে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় মানে নতুন সিএবি প্রেসিডেন্ট দাঁড়িয়ে আছেন। ‘তেরো মাস আগে যদি কেউ আমাকে বলত যে, তুমি তেরো মাস পর সিএবি প্রেসিডেন্ট হচ্ছ বিশ্বাস করতাম না। এটা তো অনেকটা এ রকম হয়ে গেল যে, লর্ডসে সেঞ্চুরির আগে কেউ আমাকে বলে গিয়েছে তুমি সেঞ্চুরি করছ!’ শুনে হাসতে শুরু করেন সিএবি-র নতুন যুগ্ম-সচিব অভিষেক ডালমিয়া। সঙ্গে ডালমিয়া-পুত্র জুড়ে দেন, ‘জন্ম থেকে মহারাজদাকে দেখছি। যে কোনও সমস্যায় পাশে পেয়েছি। আমার কোনও আর চিন্তাই থাকল না।’ সন্ধে ছ’টা। সিএবির তিন তলার কনফারেন্স রুম। যেখানে লম্বা টেবিলের সামনে দু’জন বসে। এক জন সংস্থার নতুন ক্যাপ্টেন। সৌরভ। দ্বিতীয় জন, তার ভাইস ক্যাপ্টেন। তারই অভিহিত ‘আমার নতুন রাহুল দ্রাবিড়!’ রীতিমতো রাজকীয় সংবর্ধনায়, বিপুল উৎসবের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার বঙ্গ ক্রিকেট প্রশাসনে সূচনা হয়ে গেল সৌরভ-যুগের। প্রায় একশো সদস্যের উপস্থিতিতে ঠিক হয়ে গেল বাংলার ক্রিকেট প্রশাসনের তাজ কার মাথায় উঠতে যাচ্ছে। কোনও বিরুদ্ধ মনোনয়ন জমা পড়ল না, বিশেষ সাধারণ সভা শুরু হতে না হতে শেষ হয়ে গেল (ডালমিয়ার স্মৃতিতে নীরবতা পালন সমেত) এবং সিএবির প্রেসিডেন্ট ও যুগ্ম সচিব পদে সর্বসম্মত ভাবে নির্বাচিত হয়ে গেলেন সৌরভ ও অভিষেক। আর সেটাও মাত্র দশ মিনিটে। এবং শুধু উৎসব নয়, সিএবি-র নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বঙ্গ ক্রিকেটের আগামী রূপরেখাও দিয়ে গেলেন। যেখানে নিজের তিন দর্শনের কথা বলে গেলেন খোলাখুলি। বুঝিয়ে গেলেন, তার জমানায় বঙ্গ ক্রিকেট কোন দিকে হাঁটতে যাচ্ছে। পরিকল্পনা ১— ইডেন গার্ডেন্স। মাঠ থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধে, সব কিছু নিয়ে দ্রুত বসা হবে।ইডেনের বর্তমান মডেল পাল্টে দেওয়া হবে তিন মাসে। এমন করে দেওয়া হবে যা পাল্লা দেবে বিশ্বের সেরা ক্রিকেট স্টেডিয়ামগুলোর সঙ্গে। যার নিগূঢ় অর্থ, এ সব হবে ইডেনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের আগেই। পরিকল্পনা ২— জুনিয়র ক্রিকেট। আট-ন’বছর বয়সি থেকে প্লেয়ার তোলার কাজ শুরু হবে। যারা পনেরোয় গিয়ে বিশ্বপর্যায়ে লড়ার ক্ষমতা রাখবে। পরিকল্পনা ৩— আপসহীন সিএবি। সংস্থার স্বার্থবিরোধী কোনও কিছু বরদাস্ত করা হবে না। কোনও নামকেই সংস্থার উপরে গুরুত্ব দেওয়া হবে না। এমনকী স্বয়ং ‘গাঙ্গুলি’-কেও নয়। সঙ্গে চেষ্টা করা হবে প্রশাসনে যতটা সম্ভব স্বচ্ছতা রাখার। সবশেষে একটা কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন সৌরভ, ‘আমিনিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করব। আর না পারলে চলে যাব!’ সূত্র: আনন্দ বাজার


Spread the love