সিলেটের গোলাপগঞ্জে কুশিয়ারা নদীতে মিনি নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা অনুষ্টিত!

112
Spread the love

নাঈম হোসেন,গোলাপগঞ্জ সিলেট : সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ  বাজারস্থ কুশিয়ারা নদীর বুকে প্রতি বছরই নৌকাবাইচ খেলার অায়োজন করে মীরগঞ্জ ও শরিফগঞ্জের কুশিয়ারা  পাড়ের স্থানীয় মানুষ। প্রতি বৎসরের ন্যায় এবারো মঙ্গলবার কুশিয়ারা নদীতে বিকেল ৫টায় এই অনুষ্ঠান করে এলাকাবাসী। এখানে অংশ গ্রহন করে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের অভিঞ্জ নওজোয়ান নৌ চালকরা। চালকরা এখানে তাদের নৌ চালনার দক্ষতা ও শক্তি সম্পর্কে দর্শকদের ধারনা এনে দেয় অার হাজার হাজার দর্শক ভিড় জমিয়ে এই খেলা দেখার অপেক্ষা করে নদীর তীরে।এনাম আহমদ ও আজিজুলের পরিচালনায় এলাকার  প্রবিণ মুরব্বী আবু বক্করের সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন,গোলাপগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম খান,বিশেষ অতিথি ছিলেন, ৮ নং ভাদেশ্বর ইউনিয়নের সফল চেয়ারম্যান এম,এ,ছালিক ও প্রবিণ রাজনিতিবীদ ভাদেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামীলিগের সভাপতি মাস্টার লুৎফুর রহমান, প্রমুখ। নৌকাবাইচে অংশ গ্রহন করা ৬টি নৌকার মাঝে প্রথম স্থান অধিকার করে বাহাদুর পুর বড়লেখা নামক নৌকাটি। দর্শকদের নদীর তীরে জায়গা সংকট দেখা দিলে তারা স্থান নেয় নদীর উপরের বাজারের বিভিন্ন উঁচু ভবণে। দর্শকদের উপচে পড়া ভীড় দেখলেই বুঝা যায়,যে  কুশিয়ারার তীরবর্তী মানুষের কাছে এটি ওনেক জনপ্রিয় খেলা। এই খেলাটির প্রচলন চলে অাসে মুসলিম যুগের নবাব-বাদশাহর সময় হতে। নৌকা বাইচ এর মূল অর্থ দ্বাড়ায় বাজি খেলা। নৌকার দাঁড় টানার কসরত ও নৌকা চালনার কৌশল দ্বারা জয়লাভের উদ্দেশ্যে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় দূরত্ব হয় ৬৫০ মিটার। ঠিক সেই ধারাবাহিকতা ধরে ৬৫০ মিটার নৌ চালনা করা প্রতিযোগীতা হয় কুশিয়ারার বুকে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌকা বাইচ প্রচলিত আছে স্মরণাতীত কাল থেকে। বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় নদ-নদীর উপস্থিতি প্রবল এবং নৌকা বাইচ এদেশের লোকালয় ও সংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ ফসল। ইতিহাসে পাওয়া যায়- মুসলিম যুগের নবাব-বাদশাহগণ নৌকা বাইচের আয়োজন করতেন। অনেক নবাব বা বাদশাহদের জল বা নৌ বাহিনীর দ্বারা নৌকা বাইচ উৎসবের গোড়াপত্তন হয়। পূর্ববঙ্গের ভাটি অঞ্চলে প্রশাসনিক অন্যতম উপায় ছিল নৌশক্তি। বাংলার বারো ভুঁইয়ারা নৌবলে বলিয়ান হয়ে মুগলদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। অাজও সেই সংস্কৃতি ধরে অাছে কুশিয়ারা পাড়ের মানুষ। সেই অামলের মত হয়ত এক দেশ অারেক দেশের সাথে যুদ্ধে যায়না কিন্তু সেই পুরোনো ইতিহাসকে জাগ্রত করে রাখে মানুষের হৃদয়ে। এরুপ খেলা দেশহতে লুপ্ত হয়ে গেলে হয়তো অাগামী প্রজন্ম ভুলে যাবে অতিতের সেরা কাহিনীগুলো অার হয়তবা কেউ জানবেইনা কি হয়েছিলো একসময় এই নৌকোর খেলাতে। তাই স্থানীয় মানুষ যথাযথ কর্তপক্ষের নিকট অাবেদন করেন, এই খেলাটি প্রতি বৎসর যেন অারো জমকানো অায়োজনে করা হয়।


Spread the love