সিলেটের গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার-শিকপুর-বহরগ্রাম রাস্তাটি যেন মরণ ফাঁদ

63
Spread the love

gowainghat photo-03-01-15নাঈম হোসেন, গোলাপগঞ্জ, সিলেট : সিলেটের গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার ভায়া শিকপুর-বহরগ্রামের রাস্তাটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দিন থেকে সংস্কারের অভাবে খানাখন্দে ভরপুর। আর এ খানাখন্দ অতিক্রম করতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ভুক্তভোগি যাত্রী সাধারণের। ১৯৯৩ সালে গোলাপগঞ্জ-শিকপুর ভায়া আমূড়া রাস্তার কাজ শুরু হয়। তৎকালীন সময়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে কাজের সমাপ্তি ঘটালেও আজোবধি রাস্তার ভাগ্যে জুটেনি কোন প্রলেপের ছোয়া। ২০০৫ সালে খানাখন্দের মেরামত কাজ চলাবস্থায় মুখে মুখে শোনা গেল আসছে বছর পুরো রাস্তার কাজ শুরু হবে। সেই আসছে বছরের জন্য আজো সবাই অপেক্ষমান। বর্তমানে রাস্তার যে হাল অবস্থা চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করা মুশকিল। শিকপুর থেকে গোলাপগঞ্জ যেতে হলে গাড়িতে যাচ্ছি বলে মনে হয়না কখনো মনে হয় ঘোড়ায় যাচ্ছি। ছোট বড় গর্তের সাথে সংগ্রাম করে হেলেদোলে গন্তব্যে পৌছলে যে কেউ বলবে, আর না। উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা কর্মচারী এমনকি মন্ত্রী মহোদয় এ রাস্তা দিয়ে মাজে মধ্যে যাতায়াত করে থাকেন। বিষয়টি চোখে পড়ার কথা তার পরও যেহেতু কাজ হচ্ছে না, তখন ধরে নিতে হবে গাড়ির গূণগত মান। কারণ উনাদের দামি গাড়ির ভিতর বসলে হয়তো ঝাকুনীটা দোলনার কাজ করে তাই মনে থাকার কথা নয়। প্রতিদিন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলার যান বাহন একমাত্র রাস্তা দিযে বাংলাদেশের নয়নাভিরাম পর্যটন কেন্দ্র মাধবকুন্ডে যাতায়াত করে থাকেন হাজার হাজার যাত্রী সাধারণ। অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে মাধবকুন্ডে দেখতে যান, ফেরার পথে বিকল্প রাস্তা না থাকায় এ পথই ব্যবহার করে থাকেন। অনেকে ইচ্ছে করে পথের দুরবস্তার কারণে এ পথ দিয়ে আসতে নারাজ। বাংলাদেশের সফল শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের এলাকায় রাস্তার এমন অবস্থা যে কেউ দেখলে অবাক হওয়ার কথা। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছেন ঠিকই , কিন্তু বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষা গ্রহণ করতে রাস্তার প্রয়োজন। তাই অতি জরুরী ভিত্তিতে কাজ না হলে ঘরেই বসে থাকা ভাল মনে করেন। এ নিয়ে চালকদের যত অভিযোগ। সরকারকে প্রতি মাসে, বছরে রাস্তার ট্যাক্স দিয়েও কাজের কাজ কিছুই না হওয়ায় তাদের ভোগান্তি বেড়েই চলছে। চালকরা এ রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাতে নারাজ। কখনো দেখা গেছে যাত্রীসাধারণের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত ভাড়া দাবী করতে । যাত্রীদের তাড়া তাকায় বাধ্য হয়ে তা পরিশোধ করতে হয়। চালকরা জানান রাতায় গাড়ি নিয়ে বের হলে তাদের অনেক কষ্ট হয়, প্রথমত যাত্রীর কাছ থেকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এর জন্য কত বাক বিতন্ডা দ্বিতীয়ত গাড়ি যে নিরাপদে গন্তব্যে পৌছবে তার গ্যারান্টি কোথায়। অনেক সময় দুর্ঘটনায়ও কবলিত হয়ে জান মালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। গত মাস দু’য়েক পূর্বে হাসপাতালে রোগী দেখার উদ্দেশ্যে ক’জন যাত্রী নিয়ে বের হলে তাদেরকেও হাসপাতালে রেখে আসতে হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাস্তাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের থাকায় এখানে তাদের কিছু করার নেই। তিনি আরো জানান যেহেতু এটি শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের এলাকা মন্ত্রী চাইলে যে কোন সময় কাজে হাত দিতে পারেন। দেশে বিরাজমান সংকটাপন্ন মুহুর্তে রাস্তা নিয়ে কাউকে ভাবার সময় নেই। যে যার আখের গোছানোর জন্য ব্যস্থ্য থাকায় ভুলে গেছেন এসব জনপদের কথা। হয়তো তাদের মনে পড়বে যদি সামনে কোন নির্বাচন আসে তখন আসতে যেতে দিনে রাতে সর্বক্ষণে এলাকার উন্নয়ন রাস্তার উন্নয়নসহ নানা সমস্যার কথামালা তৈরী করে লোকালয়ে কবিতার মত সবার কানে কানে পৌছে দেয়ায় ব্যস্থতা বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে রাস্তাটির যে বেহাল দশা তা দূর না করলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা বেড়েই চলবে। দুর্ভোগ পোহাবে চালক আর ভুক্তভোগি যাত্রীসাধারণ।


Spread the love