সিলেটের বাজার ধর : কমেছে সবজির দাম, মাংস ও ডিমের বাজার চড়া

97
Spread the love

download17সিলেট প্রতিনিধি : শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় সিলেটের বাজারগুলোতে অধিকাংশ সবজির দাম কিছুটা কমেছে। শুক্রবার নগরীর সোবহানীঘাট, বন্দরবাজার, রিকাবীবাজার, মদিনা মার্কেট, আম্বরখানা সবজিবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। সরবরাহ বাড়ায় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে বলে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাবি করলেও ক্রেতারা বলছেন, সরবরাহের তুলনায় দাম কমেছে খুব সামান্যই। খুচরা ব্যবসায়িদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, বাজারে নিত্যপণ্যের কোনো সঙ্কট নেই। কাঁচাবাজারে পণ্যের দাম অনেক কম, ক্রেতাও কম। তাই বেচাকেনায় মন্দা যাচ্ছে। খুচরা বাজারে সবজির দাম আগের চেয়ে কমে ক্রেতাদের হাতের নাগালের মধ্যে আছে। শুক্রবার সকালে রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে আলাপকালে এমনটিই জানা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফুলকপি, বাঁধাকপি, সিম, মুলা, বিভিন্ন ধরনের শাক, শালগম, বীট ও লাউয়ের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি কেজিতে কমেছে ৫ থেকে ১০ টাকা।
গত সপ্তাহে ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া মাঝারি আকারের ফুল কপি গতকাল শুক্রবার সিলেটের বাজারগুলোতে ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। একটু ছোট আকারের ফুলকপি ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন আকারের বাধা কপি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২৫ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। শিমের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা পর‌্যন্ত কমেছে। বিভিন্ন বাজারে শিম ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫ টাকা। তবে লাল সিম ও গোটা সিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন ছিল ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায়, সাদা গোলাকার বেগুন ৪২ টাকা থেকে ৪৮ টাকায়, মরিচ ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকায়, টমেটো ৮০ টাকা থেকে ৯০ টাকায়, গাজর ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায় (গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায়), শশা ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকায়, করলা ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকায়, ঝিঙ্গা ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়, পটল ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকায়, কাকরুল ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায়, ঢেঁড়স ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায়, ওস্তা ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকায়, চিচিঙ্গা ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকায়, পেঁপে ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকায়, জলপাই ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়। বাজারে সাদা গোল আলুর দাম বেড়েছে। গতকাল প্রতিকেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টায়। গত সপ্তাহে এসব আলু বিক্রি হয়েছে ২৮ টাকা থেকে ৩০ টাকায়। বাজারে প্রতিটি বড় লাউ ৪০ টাকায় এবং ছোট লাউ ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, প্রতিটি ছোট কুমড়া ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকা এবং বড় কুমড়া ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বন্দর বাজারের কাঁচাপণ্যের ব্যবসায়ি আবদুল লতিফ জানান, বাজারে এখন সব পণ্যে দামই কম। তবু বেচাকেনা খুব খারাপ। যখন পণ্যের দাম বেশি ছিল তখন যেমন আমদানি করতাম তেমনি বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন পণ্যের দাম কম কিন্তু কাস্টমার নেই। অন্যদিকে প্রতিকেজি খাসির মাংসে দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। আগে প্রতিকেজি খাসির মাংস বিক্রি হতো ৫০০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকায়, শুক্রবার তা বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায়। তবে কী কারণে খাসির মাংসের দাম বেড়েছে তা সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। এদিকে, বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ৩৫ টাকা থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, মানভেদে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতিকেজি দেশি রসুন ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় এবং আমদানি করা রসুন ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি আদা ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সোবহানীঘাটের আড়ৎ ব্যবসায়ীরা বলেন, সিলেটসহ দেশের সব এলাকায়ই শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এই কারণে অন্যা সবজির দামও কমছে। গতকাল শালগম বিক্রি হয় ৩০ টাকা কেজি দরে। মাঝারি আকারের লাউ পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বাজারে এসেছে নতুন কাঁচা টমেটো; ৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে নতুন এই মৌসুমী সবজি। আমদানি করা পাঁকা টমেটোর দাম অন্তত ২০ টাকা কমে ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। লাল শাক আটি তিন থেকে চার টাকা, পালং শাক ছয় থেকে আট টাকা, ধনে পাতা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, লাউ শাক ২০ থেকে ৩০ টাকা ও টক পালং ৬ থেকে ৮ টাকা আটি দরে বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার বাজারে প্রতি হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হয় ৩২ থেকে ৩৪ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৩২ টাকার মধ্যে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম একটু বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বাজারে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত আছে। প্রতিকেজি গরুর মাংস ৩৮০টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি মিনিকেট চাল ৪২ টাকা থেকে ৪৩ টাকায়, নাজিরশাইল ৪৭ টাকা থেকে ৪৮ টাকায়, মোটা চাল ৩০ টাকা থেকে ৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।কাপ্তান বাজারের খাসির মাংস বিক্রেতা হাজি মনির হোসেন জানান, শীতকালে খাসির মাংসের চাহিদা বেশি। কিন্তু বাজারে খাসির সঙ্কট, সে কারণে খাসির মাংসের দাম সামান্য বেড়েছে।


Spread the love