সিলেটের মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ খেতাবধারী ক্যাপ্টেন আফতাব আলী বীরউত্তম ও বীরপ্রতীক

212
Spread the love

সাথী আকতার : সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ খেতাবধারী ক্যাপ্টেন হাজী আফতাব আলী বীর উত্তম ও বীর প্রতীক ১৯২৫ সালে উপজেলার ভাদেশ্বর দক্ষিন ভাগ গ্রামে এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ইদ্রিস আলী, তিনি পাঁক ভারত বিভক্তির পর ১৯৪৮ সালে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ঢাকা কুর্মিটোলায় সিপাহী পদে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অসীম বিরত্বের জন্য সর্বোচ্চ খেতাবধারী বীর মুক্তিযোদ্ধা অনারারী ক্যাপ্টেন হাজী আফতাব আলী বীর উত্তম ও বীর প্রতীক স্বাধীনতার ৪১ বৎসর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সরকারী ভাবে ঝাকজমক পরিবেশে কোন সংবর্ধনা বা সম্মাননা পাননি। তিনি বলেন কেবলমাত্র মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মের কয়েকটি সংগঠন আমাকে তাদের পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করেছে। মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত্বে সরকারী ভাবে সম্মাননা পেয়ে মৃত্যু বরণ করতে চাই। তৎকালীন সময়ে লেফটেনেন্ট কর্নেল পিটারসন বেটেলিয়ানের অধিনায়ক নিযুক্ত হন। সেই সাথে ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতার মর্যাদা লাভ করেন। তিনি ১৯৭১ সালে ৩য় ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধীনে সিলেটের মেজর নিজাম উদ্দিনকে নিয়ে রংপুরে দায়িত্ব পালন করে ছিলেন। তৎকালীন সময়ে সারাদেশের মত রংপুর ক্যান্টমেন্টের বিদ্রোহ শুরু করলে তিনি সেকেন্ড লেফটেনেন্ট রফিক,হাবিলদার মনসুর, কামালসহ তাহার সঙ্গীদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এখানে উলে¬খ্য যে, মুক্তিযুদ্ধে অসীম বীরত্ত্বের খেতাবপ্রাপ্ত মহিলা বীর মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবির সহযোগীতা ও ছিল অপরীসীম। তারামন বিবি কুড়িগ্রামের রৌমারি উপজেলায় এন,এম সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ত্বপূর্ণ অবদানের জন্য আফতাব আলীকে প্রথমে বীর প্রতীক ও পরবর্তীতে কুড়িগ্রামের যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখায় আগষ্টের শেষ দিকে বীর উত্তম খেতাব প্রদান করা হয়। সুদীর্ঘ নয় মাস ১১ নং সেক্টরের অধীনে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা এলাকায় সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন (বর্তমানে ঐ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে তাহার স্মৃতি রক্ষার্থে বিভিন্ন স্থাপনা নামকরণ রইয়াছে বলে তিনি জানান)। স্বাধীনতার পরবর্তীতে ২৪ ইনফেন্ট্রি ডিভিশনে যোগদান করেন তিনি।  ১৯৭৬ ইংরেজী থেকে ১৯৭৯ ইংরেজী পর্যন্ত ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর বীর উত্তম ও মেজর জেনারেল এম,এ মনাফ এর এডিসি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহীনি থেকে ১৯৮০ সালে অবসর গ্রহণ করেন। পারিবারিক জীবনে ক্যাপ্টেন হাজী আফতাব আলী বীর উত্তম ও বীর প্রতীক দুই পুত্র ও পাঁচ কন্যার জনক। ১৯৯৩ সাল থেকে কিছুদিন কানাডায় বসবাস করলেও পরবর্তীতে দেশের মাটি ও মানুষের টানে ফিরে আসেন গ্রামের বাড়িতে। গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসায় দেশ বিদেশের সংবাদ সংস্থা, বিভিন্ন চ্যানেল, স্থানীয় যুব সংগঠক এই খেতাবপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কাছে পেয়ে যুদ্ধকালী অনেক ঘটনা জানার আগ্রহ প্রকাশ করছে। স্থানীয় ভাবে ১২ই ডিসেম্বর গোলাপগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব কর্তৃক সংবর্ধনা প্রদান। একই বছর সৌরভ সাহিত্য পরিষদের সংবর্ধনা, ১৭ই এপ্রিল ২০১০ ইংরেজী গাইবান্ধা জেলায় বিশাল সংবর্ধনা ও সর্বশেষ ২০১১ সালে ঢাকাদক্ষিন ক্রীড়া চক্র কর্তৃক ছানোহর আলী সম্মাননা প্রাপ্ত হন তিনি। মুক্তযুদ্ধকালীন সময়ে গোলাপগঞ্জের এই বীর সেনানির তথ্য সংক্রান্ত সকল তথ্যের মধ্যে তা ১৫ই অক্টোবর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ গেজেটের প্রকাশিত হয়েছিল দুজন বীর উত্তম, সাতজন বীর বিক্রম ও একচলি¬শ জন বীর প্রতীকের নাম রয়েছে।


Spread the love