সিলেটে জেলের জালে ৩ নৌকা মাছ

105
Spread the love

37878সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজারের নৈখাই এলাকায় এক জেলের জালে এক টানে ৩ নৌকা মাছ ধরাপড়াকে ঘিরে এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠেছে। হাটে বাজারে, গাড়ীতে গত বুধবার এটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সিলেট-মোগলাবাজার সড়কের মইলুকা ব্রিজ সংলগ্ন খালে নৌকায় থেকে ভর জালটি খালের পানি ফেলে রাখা মাছ ধরার জন্য। প্রতিদিনের মত গত বুধবার দুপুর ১২টায় নৌকায় থেকে জালটি টান দিলে বিপুল সংখ্যক মাছ তার জালে লাফাতে শুরু করে। এক সাথে বিপুল পরিমাণ মাছ জালে দেখে সে ভয় পেয়ে যায়। তার পাশে ৩ জন জেলের ৩টি জাল থাকলে তাদের জালে তেমন কোন মাছ উঠেনি, শুধু তার জালে এত মাছ কিভাবে ধরবে ভেবে পাচ্ছিলনা। এক পর্যায়ে আশে পাশে জেলেদের ডেকে এনে তাদের সহযোগিতায় জাল থেকে সিলভার কার্র্প, ব্রিগেড কার্প, গনিয়া, রুইসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় প্রায় ৫ শতাধিক মাছ ৩টি নৌকা ভরে পাড়ে নিয়ে আসে। এ সময় বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতার মাছ ধরার দৃশ্য অবলোকন করেন। পরে মাছগুলো টেম্পোযোগে সিলেট নগরীর কাজিরবাজার মাছ আড়তে এনে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। দরিদ্র ভাগ্যবান জেলে লোকমান আহমদ লামারনৈখাই পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রতিদিনের মত গত বুধবার সকাল থেকে মইলুকার খালে মাছ ধরার জন্য জাল ধরে বসে ছিলেন। কিছু সময় পর পর জালটি উঠালে ছোট ছোট কিছু মাছ ধরা পড়তে ছিল। হঠাৎ করে দুপুর ১২টার দিকে জালে মাছের মিছিল বুঝতে পেরে জালটি টানতে থাকে। জালটি পানির কিছু উপরের উঠার পর মাছে লাফালাফি শুরু হয়। আশপাশের জেলেদের সহযোগিতায় প্রায় ১ ঘন্টা চেষ্টা করে জাল থেকে মাছ বের করে ৩টি নৌকায় উঠাতে সক্ষম হয়। লোকমানের পাশে অনেক জেলে পৃথক পৃথক ভাবে নিয়মিত মাছ ধরার জন্য জাল ধরে থাকে। লোকমানও প্রতিদিন ওই স্থানে জাল ধরে ৪/৫ শ’ টাকার মাছ ধরে। কিন্তু গত বুধবার ছিল তার শুভদিন। এক সাথে এতো মাছ ধরতে পেরে লোকমান আনন্দে আত্মহারা। এক সাথে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরতে পেরে সে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোগলাবাজার ইউনিয়নের লামার নৈখাই পশ্চিমপাড়া গ্রামের দরিদ্র জেলের লোকমান আহমদের ৫ সদস্যের পরিবারে মধ্যে একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তাই প্রতিদিন জাল দিয়ে মাছ ধরে তা বিক্রি করে তার সংসার চালাতো। পূর্বের জাল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন জাল ক্রয় করার সামর্থ্য তার ছিল না। তাই ঋণ নিয়ে জাল কিনেছে। সেই জাল দিয়ে প্রতিদিন যে মাছ শিকার করে সেই মাছ বিক্রি করে পরিবারের খরচ বহনসহ ঋণের টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করে আসছিল। গত বুধবারে মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করে এখন লোকমান ঋণমুক্ত। লোকজনকে বলাবলি করতে শোনা গেছে, একেই বলে ভাগ্য। অনেকেই ধারণা করছেন, ফিশারী খামার বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এক সাথে এতো মাছ ধরা পড়েছে।


Spread the love