সিলেটে রাজন হত্যা মামলায় কামরুলসহ ৪ জনের ফাঁসি

45
Spread the love

14সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় প্রধান আসামি কামরুল ইসলমাসহ চারজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ফাঁসির দন্ডাদেশপ্রাপ্ত বাকি ৩ জন হচ্ছে জালালাবাদ থানার পীরপুর গ্রামের মৃত মব উল্লাহর ছেলে সাদিক আহমদ ময়না ওরফে বড় ময়না ওরফে ময়না চৌকিদার (৪৫), শেখপাড়া গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে তাজউদ্দিন আহমদ ওরফে বাদল (২৮) ও সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামের অলিউর রহমান ওরফে অলিউল্লাহর ছেলে মো. জাকির হোসেন পাভেল ওরফে রাজু (১৮)। তন্মধ্যে পাভেল পলাতক রয়েছে। এদিকে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে আলোচিত এই হত্যা মামলায় পূর্ব জাঙ্গাইল গ্রামের মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের ছেলে ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর আহমদ ওরফে নূর মিয়া (২০) কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে দুই মাসের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া প্রধান হোতা কামরুল ইসলামের মেজো ভাই মুহিদ আলম (৩২), বড়ভাই আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও ছোটভাই শামীম আলমকে ৭ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরো ২ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এদিকে রাজন হত্যা মামলায় দুলাল ও আয়াজ আলীকে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাদেরকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় ফিরোজ আলী, আজমত উল্লাহ ও রুহুল আমিনকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসনে মৃধা এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে ১৩ আসামির মধ্যে ১১ জন উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট মফুর আলী। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাদিপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মশরুর আহমদ চৌধুরী শওকত, এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, এড. ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী, এড. আব্বাস উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী। অন্যদিকে আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব, আশরাফুল ইসলাম, আলী হায়দার প্রমুখ।
গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে সামিউল আলম রাজনকে চোর সাজিয়ে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। এরপর ১৬ আগস্ট রাজন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত ২৪ আগস্ট, সোমবার চার্জশিট আমলে নেন। পরে ২২ সেপ্টেম্বর ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে রাজন হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় রাজন হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। এরপর ৪,৭,৮,১১,১২,১৩,১৪,১৫ ও ১৮ অক্টোবর চলে সাক্ষ্যগ্রহণের কাজ। মামলার মোট সাক্ষী ৩৮ জনের মধ্যে ৩৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয় আদালতে।
এদিকে রাজন হত্যাকা-ের পর মুহিদ আলমের স্ত্রী লিপি বেগম ও শ্যালক ইসমাইল হোসেন আবলুছকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা না পেয়ে মামলার অভিযোগপত্র থেকে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়।
এদিকে,চার্জশিট আমলে নেয়ার পর, ২৫ আগস্ট পলাতক কামরুল ও শামীমের মালামাল ক্রোক করে নগরীর জালালাবাদ থানা পুলিশ। গত ৩১ আগস্ট রাজন হত্যাকা-ের মূল আসামি পলাতক কামরুল ইসলাম, তার ভাই শামীম আহমদ ও আরেক হোতা পাভেলকে পলাতক দেখিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাজন হত্যা মামলা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে হস্তান্তর করা হয়। গত ১৫ অক্টোবর রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি সৌদিতে পলাতক কামরুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
কণ্ঠে কণ্ঠে ফাঁসির সুর : রাজন হত্যা মামলার রায় শোনার জন্যে মিনিটে মিনেটে ভিড় বাড়ে আদালত প্রাঙ্গনে। তিল ধারণের ঠাই ছিল না সেখানে। আইনজীবী, সংবাদকর্মীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষে এখন সরগরম সিলেটের আদালত প্রাঙ্গন। সবখানেই এখন রাজন হত্যার রায় নিয়ে চলে আলোচনা। কার কার ফাঁসি হবে তা নিয়েও চলছে মন্তব্য-বিশ্লেষণ। তবে সকলেই ফাাঁসি চান নির্মম এই হত্যার আসামিদের। ফাঁসির দাবিতে থেকে রোববার সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গনে ভিড় বাড়তে থাকে সাধারণ মানুষের। ভিড় সামলাতে ও আদালতে নিরাপত্তায় প্রশাসন নেয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকদারি পুলিশ ও গোয়েন্দারা কড়া নজরদারি করে আদালত প্রাঙ্গনে।


Spread the love