সিলেটে হাছন রাজার স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি এখন ধ্বংসস্তুপ

159
Spread the love

hr22রাহুল ঠাকুর রনি : বিশ্বনাথে মরমী কবি হাছন রাজার স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি বর্তমানে অবহেলা আর অযত্নেই পড়ে আছে। ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ এক ধ্বংসস্তুপেই পরিণত হওয়ার পথে আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অন্যতম স্বাক্ষী এই বাড়িটি। অথচ দেখার যেন কেউ নেই।

হাছন রাজা তাঁর একটি গানে লিখেছিলেন, লোকে বলে বলেরে ঘর বাড়ি ভালা নায় আমার…। বর্তামানে তাঁর এই অমর গানের বাস্তবতাই হয়ে আছে তাঁরই স্মৃতিবিজড়িত সিলেটের বিশ্বনাথের রামপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত বাড়িটি।

সরেজমিনে হাছন রাজার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে বাড়িটি জুড়ে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সবুজ গাছে চেনা-অচেনা কয়েকটি পাখির কলতানও শুনা গেল। বাড়ির বিস্তৃর্ণ প্রাঙ্গন জুড়ে গরু-ছাগলকে ঘাস, লতা-পাতা খেতেও দেখা গেল। কিন্তু চোখে পড়লো না কোনো মানুষের পদচারণা। সঙ্গে থাকা শ্রদ্ধেয় আরেক সহকর্মী বড্ড আফসোস করে ওঠলেন হাছন রাজার বাড়ির অবস্থা দেখে। এই প্রতিবেদকও আফসোসে সঙ্গী না হয়ে পারলেন না। তাঁর বাড়িতে ভবন বলে এখন যেটি টিকে আছে, সেটিকে পরিত্যক্ত ভবন বলাই সবচেয়ে ভালো হবে। ভবনটির জায়গায় জায়গায় দেয়ালের পলেস্তার খসে পড়েছে। দ্বিতীয় তলার রেলিং ভেঙ্গে পড়েছে। শ্যাওলা,আগাছা আর লতা-পতায় আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে অমূল্য বাড়িটিকে। তাছাড়া ভবনের দরজা-জানালাও নেই হয়ে গেছে। দেয়ালের রং মলিনতর হয়ে কালো রংয়ের রূপ ধারণ করেছে।

সবমিলিয়ে ইতিহাসের স্বাক্ষী হাছন রাজার বাড়িটি এখন এক ধ্বংসস্তুপ বৈ কিছুই নয়। একসময় বাড়িটি দেখতে আসতেন অসংখ্য পর্যটক। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে হাছন রাজার বাড়িটি আসল রূপ হারিয়ে ফেলায় বর্তমানে কোনোও পর্যটকের দেখা মিলে না। হঠাৎ যদিও দু-একজন পর্যটক বিপুল আগ্রহ নিয়ে বাড়িটি দেখতে আসেন, কিন্তু বাড়ির ভগ্নদশা দেখে তারা হতাশ হয়েই ফিরে যান।

এদিকে বাড়িটি সংস্কার না হওয়ায় এবং একে সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করায় স্থানীয় মানুষদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ। অনেকক্ষণ হাছন রাজার বাড়িতে অবস্থান করার পর একজন স্থানীয়, জানালেন কবির হোসেন, তাকে পাওয়া গেল। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন,আমরা কতো অভাগা আমাদের ইতিহাসের অমূল্য এই সম্পদকে কতোইনা অবহেলায় চোখের সামনেই নষ্ট হতে দিচ্ছি। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও বাড়িটি সংস্কার না হওয়ায় কবির হোসেন ঝাঁঝালো কন্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। হাছন রাজার বাড়ি থেকে ফিরে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনামণি চাকমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাড়িটি ভগ্নদশার ব্যাপারে আমরা অবগত আছি। অচিরেই বাড়িটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে। সাংস্কৃতিক সংগঠন খেলাঘর-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান সাঈদ বলেন, এটা সত্যিই দূর্ভাগ্য যে এতোদিনেও হাছন রাজার বাড়িটি সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হলো না। আমাদের এই ধরনের ঐতিহ্যকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতেই সংস্কার এবং সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।


Spread the love