সিলেট নগরীর পশুর হাট জমে উঠছে

75
Spread the love

wসিলেট প্রতিনিধি : সিলেট নগরীর একমাত্র ঐতিহ্যবাহি কাজিরবাজার কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে। দেশের দুর-দুরান্ত থেকে পাইকাররা ট্রাকে করে দেশী-বিদেশী গরু এ হাটে নিয়ে আসছেন।
হাটের নিদিষ্ট স্থানে গরুগুলো নামিয়ে পাইকাররা আগে-বাগে বাঁশের হাড়ে সারিবদ্ধ করে বেঁধে রাখছেন। সেখানে সুবিদার্থে রয়েছে হাটের নিরাপত্তা কর্মীরা। রয়েছে পাইকেরদের থাকা খাওয়ারও সুব্যবস্থ। হাটের আশপাশ এলাকাতে নিরাপত্তায় রয়েছে আইন শৃৃংখলা বাহিনীর টহল দল। এছাড়া ক্রেতা ও পাইকারদের সুবিধার্থে হাটে বসানো হয়েছে জাল টাকা সনাক্তকরণের একটি বুথ। নির্ভিঘœ কোন ক্রেতা যাতে কোরবানির পশু ক্রয় করে বাড়ি ফিরতে পারেন সেই ব্যবস্থা করে রেখেছেন হাট কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার বিকেলে কাজিরবাজার পশুর হাটে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বিরাট কাজিরবাজার এ পশুর হাটে পাইকাররা দেশী-বিদেশী বড় বড় গরু-ছাগল নিয়ে আসছেন। সিলেট প্রবাসী অধ্যাশিত হওয়ায় দাম বেশী পাওয়ার আশায় তারা সেরা সেরা গরু নিয়ে আসছেন। ক্রেতারা গরু দেখছেন,দাম-দর করছেন, হাট ঘুরে ঘুরে দেখছেন সুবিধা মতো গরুÑছাগল ক্রয় করছেন গতকাল হাটে এমন ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, বৈধ কাজিরবাজার পশুর হাট ছাড়া নগরীতে এবার অবৈধ কোন পশুর হাট গড়ে উঠতে পারবে না। এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। তাই এবার নগরীর কোনো এলাকায় পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দেয়নি সিটি কর্পোরেশন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যক্তি মালিকাধিন নগরীর স্থায়ী ও বৈধ পশুর হাট কাজিরবাজার ছাড়া নগরীর কোনো স্থানে অবৈধভাবে পশুর হাট বসানো হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যোগাযোগ মন্ত্রণায়য়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সড়ক-মহাসড়কের পাশে কোনো পশুর হাট বসানো যাবেনা। তাই এবারও নগরীর কোনো স্থানে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেয়া হয়নি। যদি কেউ অবৈধ পশুর হাট বসায় তাহলে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এর ব্যবস্থা করবেন। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, নগরীতে কেউ যদি অবৈধ পশুর হাট বসান, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূত্রমতে, কোরবানির ঈদকে ঘিরে মহাসড়কের পাশে কোনো পশুর হাট বসতে না দেয়ার নির্দেশনা রযেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের। গত কোরবানির ঈদে সিলেটে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের শেল্টারে নগরীর রিকাবীবাজার, কয়েদির মাঠ, সোবহানীঘাট, শাহজালাল উপশহর, কদমতলী ফল মার্কেটের সামন, শাহী ঈদগাহ’র খেলার মাঠ ও বিভিন্ন রাস্তার পাশে বসানো হয় অবৈধ পশুর হাট। যার কারণে লোকসান গুনছেন বৈধ ইজারাদারদের। কাজিরবাজার পুশুর হাটের ম্যানেজার শাহাদাৎ হোসেন লোলন জানান, আমাদের হাটে কোরবানী উপলক্ষে পাইকাররা দেশী-বিদেশী গরু নিয়ে এসেছে ও আসছেন। দাম ক্রেতাদের নাগালে ভেতরের রয়েছে। হাট পুরাপুরি জমতে আরো দু’একদিন সময় লাগবে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় রয়েছে বিশেষ টিম।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব জানান,‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এবার কোনো পশুর হাট বসবে না। বিষয়টি আমরা জেলা প্রশাসন ও মহানগর পুলিশকে অবহিত করেছি।’ মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কশিশনার (গণমাধ্যম ও উত্তর) মো. রহমত উল্লাহ জানান, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ কোনো পশুর হাট বসানো যাবে না। আর রাস্তার পাশে পশুর হাট বসালে উচ্ছেদ করা হবে।’


Spread the love