সিলেট-বারইগ্রাম সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার আশংকা

149
Spread the love

BEANIBAZAR-BONNA-copyএম.হাসানুল হক উজ্জ্বল, বিয়ানীবাজার থেকেঃ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সুরমা কুশিয়ারা ও সুনাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে হঠাৎ করে বুধবার রাত থেকে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি হতে থাকে। কুশিয়ারা নদীর পানি অনেক স্থানে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে বেশ কিছু স্থান দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে পড়ে। এতে করে বানের পানি হাওরাঞ্চলে প্রবেশ করতে থাকে। যার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিয়ানীবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। বানের পানিতে বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় কয়েকশ বাড়ী ঘর তলিয়ে গেছে। অনেক মসজিদ মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে পড়ায় তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আকস্মিক বন্যার ফলে আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বানের পানিতে ভেসে গেছে বেশ কিছু মৎস্য খামারের মাছ। বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে নদী সংলগ্ন কয়েকটি বাজারে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতার। বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করার ফলে ব্যবসায়ী ক্ষতির সম্মূখিন হয়েছেন বলে জানাগেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে পানি বিপথ সীমার ২২ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিলেট-বারইগ্রাম সড়কের কাকরদিয়া নামক স্থানে পানি উঠে পড়ায় এ আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল করতে হচ্ছে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে। চালকরা জানিয়েছেন, পানি আরো একটু বৃদ্ধি পেলে সিলেটের সাথে সড়ক পথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এদিকে শুক্রবার দুপুরে বানের পানিতে ডুবে কুড়ারবাজার ইউনিয়নের খসির এলাকার এক কন্যা শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
সরেজমিন বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন এলাকা পরির্শনকালে দেখা গেছে, শুরমা-কুশিয়ারা-সুনাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নদী ও হাওর এলাকার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে দূর্ভোগ ও দুর্দশা। অনেক এলাকার মানুষের সাথে উপজেলা শহরের সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়েছে। রাস্তাঘাটে পানি উঠে পড়ায় সড়কপথগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। বিয়ানীবাজারের চারখাই, শেওলা, আলীনগর, দুবাগ, কুড়ারবাজার ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার বেশ কিছু মানুষ পানি বন্দি রয়েছেন। এছাড়াও মাথিউরা ইউনিয়নের কিছু অংশ বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানি প্রবেশ করার ফলে ডুবে গেছে দুবাগ স্কুল এন্ড কলেজ, দুবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাকরদিয়া তেরাদল উচ্চ বিদ্যালয়, তেরাদল-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুবাগ বাজার, বৈরাগীবাজার সহ উপজেলা চারখাই, দুবাগ, শেওলা ও মুড়িয়া ইউনিয়নের শতাধিক বাড়ি। বিয়ানীবাজার-সিলেট অভ্যন্তরিন সড়ক, শেওলা শুল্ক স্টেশনের রাস্তাসহ প্রধান ও গ্রামীন সড়ক পানিতে তুলিয়ে গেছে।
কুশিয়ারা নদীর ডাইক ভেঙ্গে তলিয়ে গেলে দক্ষিণ দুবাগের বেশ কিছু ঘর বাড়ি তলিয়ে গেছে। বানের পানি যাতে ব্যাপক আকারে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য অনেক স্থানে বাশ দিয়ে বেড়া দিয়ে বস্তায় মাটি ভরাট করে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করলেও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। দুবাগ বাজার রাতের আঁধারে তলিয়ে যাওয়া মুদি ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমদের কয়ের লাখ টাকার চিনি, চাল, পেয়াজ ও ডাল নষ্ট হয়ে গেছে। মোস্তাক বলেন, কয়েক বমÍা চিনি একটু পাইনি। হাটু পানি থেকে ডাল, চাল, পেঁয়াজ বের করে শোকাতে দিয়েছি। বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, বিকাল পর্যন্ত বন্যার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র খোলার। রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখনো আশ্রয় কেন্দ্রে কেউ উঠেন নি এবং দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য কোন ধরণের সরকারী সহযোগিতাও এখানে এসে পৌছেনি।


Spread the love