সীম চাষে লাভবান হরিণাকুন্ডুর ভাতুড়িয়া গ্রামের চাষিরা

118
Spread the love

bdঝিনাইদহ প্রতিনিধ : ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার নবগঙ্গা নদীরতীর ঘেষে অবস্থিত ভাতুড়িয়া গ্রাম। সাতটি পাড়া মিলে প্রায় ১০ হাজার লোকের বসবাস এই গ্রামে।  আগে ৮০ ভাগ  হিন্দুর বসবাস ছিল, এখন  দিনে দিনে হিন্দু বসতি কমে প্রায় ৯৮ ভাগ মুসলিম বসতি গড়ে উঠেছে। নদীর অপর দিকে ঝিনাইদহ সদরের সাগান্না ইউনিয়নের বৈডাঙ্গা বাজার। প্রাচীনকাল থেকেই এই দুই ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। হিন্দু বসতির সময় থেকেই হরিণাকুন্ডু থানার শীতকালীন সবজি চাষের জন্য এই এলাকা প্রসিদ্ধ ছিল। এখন অন্যান্য সবজির সাথে সিম এনে দিয়েছে নতুন মাত্রা। অনেকে ভাতুড়িয়াকে বলে সিম নগরী আবার অনেকে বলে সিমের গ্রাম। এই গ্রামে এমন কোন কৃষক নেই যার দু চার শতক সিমের চাষ নেই। তাছাড়া বড় বড় চাষীর রয়েছে দু’এক একর পর্যন্ত। কয়েক জন চাষির সাথে আলাপ কালে তারা জানান, এবার অগ্রিম চাষ করে তারা লাভবান হয়েছেন। গ্রামের একজন সফল চাষি শফি উদ্দীন বলেন, এবার তার ১ বিঘায় আবাদ রয়েছে। সেখান থেকে সে খরচ বাদে ২৫ হাজার টাকা আয় করেছে। এভাবে আরও যাদের সাথে কথা হলো তারাও এমনটিই জানালেন। ভাতুড়িয়া ও বৈডাঙ্গা  গ্রামে সকাল ১০টা থেকেই মোড়ে মোড়ে বসে সীমের হাট আর তা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। তবে গ্রামের ব্রীজের পাশে কাসেম বাজারে বসে সবচেয়ে বড় সিমের হাট। এছাড়া পার্শ্ববর্তী বৈডাঙ্গা গ্রামের পাটবীক মোড় ও তেতুলতলা মোড়েও বসে বড় সীমের হাট। এসব বাজারে সীমের ভরা মৌসুমে  প্রায় ৭০/৮০ মেট্রিক টন সিম প্রতিদিন ট্রাক যোগে ঢাকার কারওয়ান বাজার, খুলনা ও চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। কাসেম বাজারের এক জন বড় ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, এই বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ মেট্রিক টন সীম উঠে। দুর দুরান্ত থেকেও চাষিরা এখানে সীম নিয়ে আসেন। সীম চাষিরা বলেন, এখানে চাষিরা সীমের ন্যায্য মূল্য পান। বৈডাঙ্গা বাজার হতে  ভাতুড়িয়া সীমের বাজার পর্যন্ত রাস্তাটির খুব দুরাবস্থা। ব্যবসায়ীদের দাবি বৈডাঙ্গা বাজার থেকে ভাতুড়িয়া  কাসেম বাজার সীমের হাট পর্যন্ত পাকা রাস্তটির সংস্কার করা প্রয়োজন। এছাড়াও মোড়ে মোড়ে প্রায় ২০ মেট্রিকটন সীম ক্রয় করেন ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা। সবমিলে গ্রামটি ঘিরে সীম চাষি ও বিক্রেতাদের প্রতিদিন বসে মিলন মেলা।

Spread the love