সুদের টাকা নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধের জের’র অভিযোগ বিশ্বনাথে হামলায় নারীসহ আহত ২

83
Spread the love

gtyhবিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি : সিলেটের বিশ্বনাথে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে মহিলাসহ ২ জন আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার সদলপুর গ্রামে শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় জগন্নাথপুর উপজেলা জিগলী গ্রামের মৃত রমজান আলী ওরফে কোটিপতি’র স্ত্রী রাহিমা বেগম (৩৮) ও রিকশা চালক আবুল কালাম খান (৩৭)’কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে আলাপুর গ্রামের দবিরুল ইসলাম ও সদলপুর গ্রামের সিতাব আলী গং একে অপরকে দায়ী করছেন।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজের বসতবাড়ী বিক্রি করে বিশ্বনাথ উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারস্থ দবিরুল ইসলাম’র বাসা ভাড়া নিয়ে প্রায় ৫ বছর পূর্বে স্ব-পরিবারে বসবাস শুরু করেন রমজান আলী ওরফে কোটিপতি। এর কিছু দিন পর রমজান আলী মৃত্যুবরণ করেন। বিধবা রাহিমা বেগম ৩ সন্তান নিয়ে ওই বাসাই বসবাস করে আসছেন। স্বামীর বসত বাড়ি বিক্রি থেকে প্রাপ্ত টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা স্বামীর মুত্যুর প্রায় ২ বছর বিশ্বনাথ উপজেলার সদলপুর গ্রামের সিতাব আলীকে ধার (খরজ) হিসেবে দেন রাহিমা বেগম। কিšুÍ একাধিক বার সিতাব আলী তারিখ করেও রাহিমা বেগমের টাকা পরিশোধ করছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এবিষয়টি রাহিমা বেগম এলাকার মুরব্বীদেরকেও অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে জানা গেছে, দাদনের (সুদ) টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন দবিরুল ইসলাম ও সিতাব আলী গংদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এরজের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলাও চলছে।
এব্যাপারে দবিরুল ইসলাম বলেন, রাহিমা বেগম সিতাব আলী-আফরোজ আলী গং লোকজনের কাছে ৩ লাখ টাকা পান। টাকা পাওয়ার বিষয়টি রাহিমা বেগম এলাকার অনেককেই অবহিত করেন। শনিবার তিনি (রাহিমা) নিজের পাওনা টাকা চাইতে গেলে তারা (সিতাব-আফরোজ) তাকে মারধর করে। পরে আমরা খবর পেয়ে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করি। পুলিশ এসে আফরোজ আলীর বসত ঘরের বারান্দা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাহিমা বেগমকে উদ্ধার করে। তাদের বিরুদ্ধে সিতাব আলী গংদের আনিত অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেন।
রাহিমা বেগমের টাকা পাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা ও রাহিমাকে অপরিচিত দাবি করে সিতাব আলী বলেন, দবিরুল, ছৈফুল ও কবিরের কাছ থেকে সুদে (দাদন ব্যবসা) মাসে ২০ হাজার টাকা প্রদানের বিনিময়ে ১০ টাকা আনি। সেই ১০ লাখ টাকার  বিনিময়ে আমি (সিতাব) কালীগঞ্জ বাজারস্থ মার্কেটে দুটি দোকান কোঠা দেই, ১৮শতক ভূমি, হাওরে এক কিয়ার ভূমি ও নগদ ২৭ লাখ টাকা প্রদান করেছি তবুও তাঁর ১০ লাখ টাকা পরিশোধ হয়নি। আদালতে মামলা দায়ের করেছে আমার উপর। এখন দবির আমার কাছে আরোও ২০ লাখ টাকা দাবি করেছে। কোন ভাবে আমাকে (সিতাব) ঘায়েল করতে না পেরে তারা (দবিরুল, ছৈফুল, কবির) ওই মহিলাকে (রাহিমা) মারধর করে আমার ঘরের বারান্দায় ফেলে গেছে আমাকে (সিতাব) ফাঁসানোর জন্য।


Spread the love