সুনামগঞ্জের কামার শিল্পীরা কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত

281
Spread the love

141414জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের ১১উপজেলার হাট-বাজারের মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎবস কোরবানী ঈদ কে সামনে রেখে প্রতিটি বাজারে ও হাওর পাড়ের কামাররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। ঈদুল আযহা কে সামনে রেখে সবাই এখন কামারদের শরনাপন্ন হচ্ছেন। আর এই কোরবানী ঈদ কে সমানে রেখে পশু জবাই ও কাটার জন্য পুরনো ঝং ধরা বটি,চাপাতি,দা,ছুরি,চাকুতে শান দিতে ও নতুন ভাবে তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছে কামাররা। আগুনে পুড়িয়ে লোহদন্ড কে বিভিন্ন আকৃতি দিতে এখন হাতুরী পেটার টুং টাং শব্দে মুখরিত প্রতিটি বাজারের কামারশালার চারপাশ। লোহার মানের উপর নির্ভর করে তৈরী দা,চাপাতি,চাকু সহ বিভিন্ন রখমের জিনিস পত্রের দাম নির্ধারন করে বিভিন্ন দামে বিক্রি করছে কামার শিল্পীগন। আর অডার দেওয়া কাষ্টমারদের সময় মত সকলের প্রয়োজনীয় সামগ্রী গুলো শান দিয়ে ও তৈরী করে দিতে রাত দিন কঠোর পরিশ্রম করছেন তারা। এ কারনে জেলা তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা,মধ্যনগর,দিরাই,শাল্লা,বিশ্বাম্ভরপুর সহ ১১টি উপজেলার হাট বাজারের ছোট বড় কামারের দোকানে কাজের ধুম পড়েছে। দিন দিন এ শিল্পের প্রধান উপকরন লোহা,ইস্পাত ও কয়লার দাম বেড়ে দাড়িয়েছে দ্বিগুন। বাতাশ দেবার বাতির দাম বেড়েছে। শ্রমিকদের মজুরী বেড়েছে ৩০০-৩৫০ টাকা। ঈদ এলেই কাজের ব্যস্ততা বেড়ে যায় কিন্তু শ্রমিক পাওয়া যায় না। তাই দা,চাকু,চাপাতি,বটির দাম একটু বেশী দামে বিক্রি করছে কামারা। এ সকল কারনে তারা অর্থ সংকটের সাথে এক প্রকার যুদ্ব করছে। যানাযায়-এক সময় কয়লা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আনা হত প্রতি বস্তা ৩৫-৪০ টাকায় কিন্তু বর্তমানে এর দাম বেড়ে দারিয়েছে ১৪০-১৯০ টাকায় তাও আবার পাওয়াও যায় খুব কম। অধিকাংশ সময়ই এই কামার গন বেকার সময় কাটান কোন কাজ থাকে না। প্রতি মাসে নতুন বটি,দা,ছুরি,চাকু তৈরীতে ও পুরনো গুলোকে শান দিয়ে যে পরিমান অর্থ উপার্জন হয় তা দিয়ে তাদের সংসার চালানো কষ্ট কর হয়ে দাড়াঁয়। তাই অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় মনোনিবেশ করছেন। এছারাও কামারের তৈরী লোহার জিনিস পত্রের পরির্বতিতে স্টিলের যন্ত্রপাতির দিকে সবারই আগ্রহ পাচেছ। কামার শিল্পীদের সাথে কথা বলে জানাযায়-সারা বছর তেমন কোন কাজ না থাকলেও ঈদ এলেই আমাদের কদর বেড়ে যায়। দা,বটি,চাকু,চাপাতি তৈরী ক্রয় করতে আবার অনেকেই আসছেন পুরুনো ঝং ধরা অস্ত্রে শান দিতে যার কারনে এখন প্রচুর ব্যস্ত সময় পার করছেন। যা উপর্জন হয় তা দিয়ে কোন রখমে সংসার চালিয়ে নেই বাপদাদার পেশা ছাড়তেও ত পারি না ভাই আগের দিন নাই আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমরা কামররা হারিয়ে যাচ্ছি। সরকারের সহযোগীতা পেলে আমরা বেচেঁ থাকতে পারব।


Spread the love