সুনামগঞ্জের খেয়া পারাপাড়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় দেখার কেউ নেই

66
Spread the love

415জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) : হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সহ জেলার শতাধিক খেয়া পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে ইজারাদাররা। খেয়াঘাটের পারাপাড়ের মূল্য তালিকার বড় বড় অক্ষরে সাইনবোর্ড ঝুলানোর নিয়ম থাকলেও না ঝুলিয়ে ইচছা মত টোল আদায় করছে। সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর,বিশ্বাম্ভরপুর,ধর্মপাশা,মধ্যনগর সহ ১১টি উপজেলায় বিভিন্ন ব্রীজের সংযোগ মাটিনা দিয়ে সামান্য বাঁশের চাঁটাই বিছায়ে টোল আদায় করছে মসজিদ,মাদ্রাসা,ইউনিয়ন ও মন্দিরের নাম দিয়ে। তাহিরপুর উপজেলা উত্তর শ্রীপুর,দক্ষিন শ্রীপুর,বাদাঘাট,বড়দলের সোলায়মানপুর,নতুনবাজার,কাউকান্দি,বাগলী,মানিকটিলা,মিয়ারচর,বিন্নাকুলি,লাউড়েরগড়,মাহারাম,দিঘীরপাড়,তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কের টাকাটুকিয়া,পাঁতার গাওঁ,সুনামগঞ্জ সদরের ব্যস্ততম খেয়া ঘাট ওয়াজখালি,সাব বাড়িঘাট সহ শতাধিক খেয়া ঘাটে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। তাহিরপুর উপজেলা থেকে দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নের সোলেমানপুরে একটি ব্রীজ না থাকায় নদীতে বাঁশের চাটাঁই দিয়ে ও বাজার পশ্চিম পাশের পাটলাই নদীতে টোল আদায় করছে। এই রাস্তা দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে মধ্যনগড়,ধর্মপাশা সহ বিভিন্ন স্থানের লোকজন পায়ে হেঠে ও শতাধিক মটর সাইকেল যাতায়াত করে। নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে টেন্ডারের মাধ্যমে লিজ নিয়ে চুক্তির শর্ত মেনে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে টিকেই ইজারাদাররা। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে কতৃপক্ষের চোখে বৃদ্বাঙ্গুলী দেখিয়ে কাজ করছে উল্টো। ইজারাদাররা যে যার মত অতিরিক্ত টোল আদায় করছে সাধারন মানুষের কাছ থেকে। প্রত্যেক দিনেই প্রতারিত,ঝগড়া-বিবাদ ও হয়রানীর শিকার হচেছ কৃষক,শ্রমিক সাধারন মানুষ। জেলা পরিষদ কতৃক নির্ধারিত ভাড়া জন প্রতি ১টাকা,মোটর সাইকেল ৫টাকা,গরু-ঘোড়া ১০টাকা,২০কেজির মালামালের উপড়ে ভাড়া আদায়ের নিয়ম থাকলে ও তা কেউ মানছে না। জন প্রতি ১ টাকার স্থলে ৫টাকা,৫টাকার স্থলে ২০টাকা,১০টাকার স্থলে ৩৫-৪০ টাকা আদার করছে। এছারাও প্রতিটি খেয়া ঘাটে ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ করলে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে ও টাকা দিতে বাধ্য করে ইজারাদারদের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজন। অনেকে নিজেদের সর্ম্মান রক্ষার্থে কোন কথা না বলে টাকা দিয়ে চলে যান। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ইজারা প্রদান ও তদারকির দ্বায়িত্বে থাকা অসাধু কর্মকর্তাদের কারনে এ অনিয়ম গঠছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। জেলা ও উপজেলা প্রর্যায়ে কোন প্রকার তদারকির ব্যবস্থা না থাকায় দিন দিন ইজারাদারদের দৌরাত্ব বেড়েই চলছে। পূর্বে দেখা যেত যারা ইজারা নিত তারা মেতর বা মুছি শ্রেনীর লোক ছিল। বর্তমানে এই ইজারা প্রথা এমন হয়ে দারিয়েছে যে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও এলাকার প্রভাবশালী লোকজন এতে যোগ হচেছ। এতে করে কম মূল্যের খেয়া ঘাট প্রতিযোগীতা করে বেশি মুল্যে ইজারা নিতে হচেছ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগন। আর সরকার লাভবান হলেও জনসাধারনের উপর এর প্রভাব পরছে। ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান-খেয়া পারাপারে অতিরিক্ত টোল আদায় কারীদের বিরোদ্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান-সরজমিন পরিদর্শন করে সকল খেয়াঘাটের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান-প্রতিটি খেয়াঘাটে নির্ধারীত পরিবহনের সাইন বোর্ড টাংঙ্গানোর জন্য আমি প্রসাসন কে বলেছি। সাইনবোর্ড টাঙানো হলে ভাড়া বেশী নিতে পারবে না খেয়াঘাটে দায়িত্বে থাকা লোকজন।


Spread the love