সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদী-বারেক টিলা পর্যটন শিল্পে সম্ভাবনার হাতছানি

124
Spread the love

20612_1574245379498261_5628763669022837230_nসুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : জেলাশহর সুনামগঞ্জ থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নান্দনিক সৌন্দর্য্যে ঘেরা বারেক টিলা সংলগ্ন মায়ার নদী যাদুকাটায় প্রতিদিনই নৌকা বিহারে আসেন প্রকৃতি প্রেমিরা। সারাদিন নাচ গান হৈ হুল্লর, ছবি তোলা রাতে নিজেদের রান্না করা খাবার আর আনন্দের যেন অন্ত নেই। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত হতে কলেজ ও ভার্সিটির ছাত্রছাত্রীসহ ভ্রমণ পিপাসুদের নৌ-বিহারে প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠেছে যাদুকাটার বুক। দর্শনার্থীদের কেউ মায়ার নদী কেউবা রুপের নদী বলে অভিহিত করেন এই নদীকে। বর্ষায় পাহাড়ি নদী যাদুকাটার বহমান স্রোতধারায় নিজেকে ভাসিয়ে দিতে ভীড় জমায় প্রকৃতি প্রেমিরা। আর হেমন্তে শুকিয়ে যাওয়া যাদুকাটার বুক জুড়ে ধুধু বালিচরে প্রিয়জন নিয়ে হেটে চলা ও যাদুকাটার স্বচ্ছ পানিতে গা ভাসিয়ে দিয়ে পরমতৃপ্তি বোধ করেন পর্যটকরা।যাদুকাটা নদী থেকে হাত রাখলেই ছোঁয়া যায় শ্বাশত সবুজে ঘেরা বারেক টিলা। বারেক টিলায় ঘুরে ঘুরে যাদুকাটা নদীর প্রকৃত রুপ উপভোগ করা সম্ভব। বারেক টিলায় আদি বাসীদের একটি গ্রাম রয়েছে। সে গ্রামের নাম আনন্দনগর। সেই গ্রামের শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা সহজ সরল ও আপ্যায়ন প্রিয়। বারেকটিলার সবুজ বনায়ন ও চারপাশে নদী, পাহাড় ও হাওরের মনোরম দৃশ্যে মন হারিয়ে যায় ভ্রমণ প্রেমিদের। যাদুকাটা নদীর তীরঘেঁষে পূর্ব-উত্তর পার্শ্বে অবস্থিত ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সফরসঙ্গী হযরত শাহ আরেফিন (রহ) এর আস্তানা। নান্দনিক সৌন্দর্য্যে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রতিদিনই বিকালে পরিবার পরিজন নিয়ে সময় কাটাতে আসেন অনেকেই। যাদুকাটা নদীর পূর্ব-দক্ষিণ পাশে অবস্থিত হিন্দু ধর্মের প্রাণ পুরুষ শ্রী অদ্বৈত প্রভুর জন্মধাম, প্রার্থনালয় ও তীর্থ স্থান। এ নদীকে ঘিরে রয়েছে ৭৫০বছরের প্রাচীন ইতিহাস। ইচ্ছে পূরণে প্রতি বছর দোল পূর্ণিমার ত্রয়োদশীতে লাক্ষাধীক হিন্দু ধর্মালম্বীদের সমাগম ঘটে যাদুকাটায়। নির্দৃষ্ট তিথিতে গোসল করে নিজেকে কুলুষমুক্ত মনে করেন তারা। যাদুকাটা নদী ও বারেক টিলার নয়নাভিরাম দৃশ্যকে নিয়ে রয়েছে পর্যটন শিল্পের এক উজ্জল সম্ভবনাময় হাতছানি। টাংগুয়ার হাওরসহ যাদুকাটা নদী ও আশপাশের সৌন্দর্য্যকে পর্যটন শিল্প কর্পোরেশন ৩’শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলে জানা গেলেও তা আর বাস্তবায়নে এগুচ্ছেনা তবুও রুপের রানী যাদুকাটা সুশীতল স্পর্শ নিতে ছুটে আসে তার প্রেমিকেরা। যাদুকাটা নদীর পানির তোড়ে বালির সাথে মিশে আসা নুড়ি কয়লা ঠ্যালা জালে ছেকে পুনরায় চালুনে ধুয়ে মহাজনদের কাছে বিক্রি করে জিবিকা নির্বাহের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এখানকার নারী শ্রমিকরা। যেভাবে আসবেন বারেকটিলা ও যাদুকাটায়: বর্ষায় সুনামগঞ্জ শহরের সাহেব বাড়ি নৌকা ঘাট হতে ইঞ্জিন নৌকা বা স্পিডবোট যোগে সরাসরি বারেকটিলা ও যাদুকাটায় যাওয়া যায়।


Spread the love